রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র নবঘোষিত উপজেলা কমিটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দলের ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাকর্মীরা। কমিটি বাতিলের দাবিতে তারা সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
শুক্রবার ১২ জুন বিকাল ৪ ঘটিকায় গঙ্গাচড়া সরকারি কলেজ মোড় এলাকায় অবস্থিত এনসিপির উপজেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাবেক উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী রিফাত চৌধুরী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১০ জুন রাতে গঙ্গাচড়া উপজেলা এনসিপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে এই কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। বরং দলীয় আদর্শের বাইরে থাকা ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতীয় নাগরিক কমিটি গঠন, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং উপজেলা পর্যায়ে সংগঠন বিস্তারে তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দলীয় কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও সাংগঠনিক কাঠামো গঠনে স্থানীয় ত্যাগী নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলেও দাবি করেন তারা।
তারা অভিযোগ করেন, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কোনো সুসংগঠিত সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত যথাযথভাবে গ্রহণ করা হয়নি। কমিটি ঘোষণার আগে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা ও সমন্বয় না করার অভিযোগও তোলেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে— কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি, ত্যাগী ও সক্রিয় কর্মীদের অবমূল্যায়ন, কেন্দ্র-জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সমন্বয়হীনতা, মতপ্রকাশে বাধা, নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ব্যক্তি-কেন্দ্রিক সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি।
বক্তারা বলেন, দলের স্বচ্ছতা ও সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে বর্তমান কমিটি অবিলম্বে বাতিল করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুনভাবে নেতৃত্ব নির্বাচন করার দাবি জানান।
এ সময় জেলা আহ্বায়ক আল মামুনের সমালোচনা করে বক্তারা অভিযোগ করেন, তিনি দল গঠনের পরিবর্তে বিভক্তি সৃষ্টি করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, তাদের দাবি মানা না হলে নবঘোষিত উপজেলা কমিটি গঙ্গাচড়ায় কোনো দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। পাশাপাশি বর্তমান কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।
মোছাদ্দেক সৈকত, স্টাফ রিপোর্টার রংপুর 




















