সংবাদ শিরোনাম ::
রূপালী ব্যাংকের এমডি কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হওয়ায় জিয়া পরিষদের আহ্বায়কসহ ৩ জনকে বদলী এক্সপ্রেসওয়ের ‘ক্ষমতার ত্রিভুজ’ ম্যাক্স–মাহফুজ–কাজী সমীকরণে ঘনীভূত বিতর্ক! দুই মামলায় দীপু মনির জামিন দীর্ঘ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে সংস্কার কার্যক্রম চলছে : অর্থমন্ত্রী কালিহাতীতে কয়েক মিনিটের ঝড়ের তাণ্ডবে তছনছ কস্তুরীপাড়া বাজার ‘টাকা চাইলে মেলে হুমকি’ দেউলায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ প্রেমের টানে লালমনিরহাটে কোরিয়ান যুবক, ইসলাম গ্রহণের পর বিয়ে কলেজছাত্রী মারিয়াকে রাজশাহীর আম যাচ্ছে ফ্রান্সে 

‘টাকা চাইলে মেলে হুমকি’ দেউলায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নে পাওনা টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ফেরত চাইতে গিয়ে মারধর, লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় দেউলা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুর বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী সাহিদা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে বাবু তার ছেলের চাকরির প্রয়োজন দেখিয়ে বিভিন্নভাবে অনুরোধ করে তাদের কাছ থেকে ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ২ লাখ টাকা ধার নেন। পারিবারিক সম্পর্ক ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে তারা ওই অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার প্রদান করেন।

অভিযোগে বলা হয়, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর একাধিকবার টাকা ও স্বর্ণ ফেরত চাইলে বাবু নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। দীর্ঘ তিন বছর ধরে “দিচ্ছি”, “দেবো” বলে আশ্বাস দিলেও তিনি কোনো টাকা বা স্বর্ণ ফেরত দেননি।

সাহিদা বেগম জানান, সম্প্রতি তারা পাওনা বুঝে নিতে চাপ প্রয়োগ করলে বাবু ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং প্রকাশ্যে মারধর ও অপমান করেন। পাশাপাশি এলাকা ছাড়া করা এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তারা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার ফেরত চাইতে গিয়ে উল্টো হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযুক্ত বাবু এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ ইকবাল সোহেলের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ সহজে মুখ খুলতে সাহস পান না বলেও দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাবুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে সাহিদা বেগম বলেন, “আমরা আমাদের পাওনা টাকা ও স্বর্ণ ফেরত চাই। একই সঙ্গে যারা আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে এবং হুমকি দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সংসদ সদস্য আলহাজ হাফিজ ইব্রাহিমের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা আশা করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপালী ব্যাংকের এমডি কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হওয়ায় জিয়া পরিষদের আহ্বায়কসহ ৩ জনকে বদলী

‘টাকা চাইলে মেলে হুমকি’ দেউলায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৭:৩৮:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নে পাওনা টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ফেরত চাইতে গিয়ে মারধর, লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় দেউলা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুর বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী সাহিদা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে বাবু তার ছেলের চাকরির প্রয়োজন দেখিয়ে বিভিন্নভাবে অনুরোধ করে তাদের কাছ থেকে ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ২ লাখ টাকা ধার নেন। পারিবারিক সম্পর্ক ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে তারা ওই অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার প্রদান করেন।

অভিযোগে বলা হয়, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর একাধিকবার টাকা ও স্বর্ণ ফেরত চাইলে বাবু নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। দীর্ঘ তিন বছর ধরে “দিচ্ছি”, “দেবো” বলে আশ্বাস দিলেও তিনি কোনো টাকা বা স্বর্ণ ফেরত দেননি।

সাহিদা বেগম জানান, সম্প্রতি তারা পাওনা বুঝে নিতে চাপ প্রয়োগ করলে বাবু ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং প্রকাশ্যে মারধর ও অপমান করেন। পাশাপাশি এলাকা ছাড়া করা এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তারা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার ফেরত চাইতে গিয়ে উল্টো হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযুক্ত বাবু এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ ইকবাল সোহেলের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ সহজে মুখ খুলতে সাহস পান না বলেও দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাবুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে সাহিদা বেগম বলেন, “আমরা আমাদের পাওনা টাকা ও স্বর্ণ ফেরত চাই। একই সঙ্গে যারা আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে এবং হুমকি দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সংসদ সদস্য আলহাজ হাফিজ ইব্রাহিমের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা আশা করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।