রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাদারগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একরামুল হকের বিরুদ্ধে গত তিন বছরে বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় সোয়া কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে।
প্রাপ্ত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনকালে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিল-ভাউচার এবং কথিত আয়-ব্যয় কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে কাল্পনিক ও অতিরঞ্জিত ব্যয় দেখিয়ে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ কাজে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী সহযোগিতা করেছেন।
সম্প্রতি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ তাজুল ইসলাম শামীম দায়িত্ব গ্রহণের পর হিসাবপত্র পর্যালোচনা করতে গিয়ে বিভিন্ন অসঙ্গতি দেখতে পান বলে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ড নির্মাণে মাত্র কয়েকশ ইটের কাজ দেখিয়ে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এছাড়া ঘর মেরামত ও রং করার কাজে আরও ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেসরকারি অংশের বেতন বাবদ প্রতি মাসে ৪২ হাজার টাকা হিসেবে দেড় বছরের বিল উত্তোলন করা হলেও ছয় মাসের প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা সংশ্লিষ্টদের প্রদান না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠে ৮৫ ট্রলি মাটি ভরাটের জন্য ৯৫ হাজার টাকা বিল দেখানো হলেও বাস্তবে মাঠে কোনো মাটি ফেলা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণের জন্য প্রতিবছর ৪০ হাজার টাকা করে গত তিন বছরে মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হলেও দুইজন প্রশিক্ষককে মাত্র ১৬ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অবশিষ্ট অর্থের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
এছাড়া বিদ্যালয়ের গ্যারেজ থেকে দুই শিক্ষার্থীর বাইসাইকেল চুরি যাওয়ার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ১৩ হাজার টাকার দুটি সাইকেল ক্রয় করা হলেও হিসাবপত্রে ১০টি বাইসাইকেল ক্রয়ের জন্য ৫৫ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও বিদ্যালয় তহবিলের ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা বিদ্যালয়ের একাউন্টে না রেখে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একরামুল হক তার নিজ নামের একাউন্টে পীরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখায় রেখেছেন বলেও অভিযোগে জানা গেছে।
অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, এ ধরনের আরও বহু ভুয়া বিল-ভাউচার ও আর্থিক অনিয়মের তথ্য তাদের কাছে রয়েছে।
উল্লেখ্য, বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ৯৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এক সময় শিক্ষার মানের জন্য সুপরিচিত প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত বলে কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানও ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, ইতোমধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও জেলা বিশেষ শাখা (ডিএসবি)-এর কর্মকর্তারা পৃথকভাবে তদন্ত করলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ তাজুল ইসলাম শামীম বলেন, “আমি সম্প্রতি যোগদান করেছি। আগামী জুন মাসে বিষয়গুলো বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে কারা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত এবং অর্থ ভাগ-বাটোয়ারায় অংশ নিয়েছে, তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একরামুল হক অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
এদিকে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল মতিন মণ্ডল মুঠোফোনে বলেন, প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ একটি ষড়যন্ত্রের অংশ এবং এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
সংবাদ শিরোনাম ::
পীরগঞ্জের মাদারগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে তিন বছরে সোয়া কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ
-
তারিকুল ইসলাম তারিক পীরগঞ্জ (রংপুর)প্রতিনিধি - আপডেট সময় ০৪:৪৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
- ৬১৯ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ
























