সংবাদ শিরোনাম ::
মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয়

১ কোটি থেকে ৪ কোটি, তবু শেষ হয়নি বেরোবির স্বাধীনতা স্মারকের নির্মাণকাজ

১৪ বছরেও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য ‘স্বাধীনতা স্মারক’-এর নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। এ সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে একে একে পাঁচজন উপাচার্য পরিবর্তন হলেও ঝুলে আছে নির্মাণ কাজ। প্রতি বছর স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস আসলে অসম্পূর্ণ স্মারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু. আব্দুল জলিল মিয়ার আমলে জনতা ব্যাংকের অনুদানে স্বাধীনতা স্মারকের নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরের বছর ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন তৃতীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী ভাস্কর্যটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তবে কিছুদিন পরই নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে চতুর্থ উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ পুনরায় কাজ শুরু করলেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ বন্ধ করে ইউজিসিকে তদন্তের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকল্পগুলোর (স্বাধীনতা স্মারক, রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও ১০ তলা বিশিষ্ট ছাত্রী হল) কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তিন মেগা প্রকল্পের কাজ। তবে সম্প্রতি রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও ছাত্রী হলের কাজ শুরু হলেও স্বাধীনতা স্মারকের কাজ শুরু হয়নি।
এদিকে প্রকল্পটির নির্মাণব্যয় সেই সময়ে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেন তৎকালীন উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর আমলেও স্মারকটির নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, বিশিষ্ট স্থপতি মুনাওয়ার হাবীব তুহিন এর নকশায় স্বাধীনতা স্মারক নামের এই ভাস্কর্যটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রথম ভাস্কর্য। এটি ১১ হাজার ৬৯৬ বর্গফুট আয়তনের বেদীর ওপরে তিনটি ফ্রিঞ্জ (স্তম্ভ) দ্বারা তৈরি হবে। এগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছে বুঝানো হয়েছে। ফ্রিঞ্জ গুলোকে একত্রিত করার জন্য ২০ ফুট উচ্চতায় একটি শুরঙ্গ ছাঁদ। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে যুদ্ধ করেছে তা বুঝানো হয়েছে। পাথর দ্বারা নির্মিত ফ্রেঞ্জগুলোর গায়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংবলিত কারুকার্য থাকবে এবং ফ্রিঞ্জের ঠিক পিছনে ঢালু অংশে বিভিন্ন মুরাল থাকবে। ভাস্কর্যটি সামকগ্রিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিশালতা বোঝাবে।
তবে একই মেগা প্রকল্পের আওতায় থাকা রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও একটি ছাত্রী হলের কাজের অনুমোদন মিললেও স্বাধীনতা স্মারকের কাজ এখনো অনুমোদন পায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, স্বাধীনতা স্মারক একটা জাতির গৌরব ও আত্মত্যাগের প্রতীক। বেরোবিতে স্বাধীনতা স্মারকের বেহাল অবস্থা। দীর্ঘ ১৪বছর ধরে এমন নাজুক অবস্থা। এর কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। স্মারকের দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। অসম্পূর্ণ স্বাধীনতা স্মারক দেশের সম্পূর্ণ স্বাধীনতার ইতিহাস ও ত্যাগ তুলে ধরতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এদিকে দৃষ্টি দিবেন সেই আশা করছি।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোকছেদুল মমিন বলেন, স্বাধীনতা স্মারকের অধিকাংশ কাঠামোগত কাজ শেষ হলেও এক যুগ পার হয়ে গেছে, কিন্তু এটি এখনো পূর্ণতা পায়নি। সম্প্রতি মেগা প্রকল্পের বাজেট বরাদ্দের কথা শোনা গেলেও কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। দ্রুত কাজ শুরু করে বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ৭৭ কোটি টাকা পেয়েছি। এই অর্থ দিয়ে ছাত্রী হল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কাজ শুরু করেছি। ঠিকাদারের কাছেও কিছু অর্থ রয়েছে। ধাপে ধাপে স্বাধীনতা স্মারকের বাকি কাজও সম্পন্ন করা হবে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র

১ কোটি থেকে ৪ কোটি, তবু শেষ হয়নি বেরোবির স্বাধীনতা স্মারকের নির্মাণকাজ

আপডেট সময় ১২:১৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
১৪ বছরেও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য ‘স্বাধীনতা স্মারক’-এর নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। এ সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে একে একে পাঁচজন উপাচার্য পরিবর্তন হলেও ঝুলে আছে নির্মাণ কাজ। প্রতি বছর স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস আসলে অসম্পূর্ণ স্মারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু. আব্দুল জলিল মিয়ার আমলে জনতা ব্যাংকের অনুদানে স্বাধীনতা স্মারকের নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরের বছর ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন তৃতীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী ভাস্কর্যটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তবে কিছুদিন পরই নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে চতুর্থ উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ পুনরায় কাজ শুরু করলেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ বন্ধ করে ইউজিসিকে তদন্তের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকল্পগুলোর (স্বাধীনতা স্মারক, রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও ১০ তলা বিশিষ্ট ছাত্রী হল) কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তিন মেগা প্রকল্পের কাজ। তবে সম্প্রতি রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও ছাত্রী হলের কাজ শুরু হলেও স্বাধীনতা স্মারকের কাজ শুরু হয়নি।
এদিকে প্রকল্পটির নির্মাণব্যয় সেই সময়ে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেন তৎকালীন উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর আমলেও স্মারকটির নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, বিশিষ্ট স্থপতি মুনাওয়ার হাবীব তুহিন এর নকশায় স্বাধীনতা স্মারক নামের এই ভাস্কর্যটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রথম ভাস্কর্য। এটি ১১ হাজার ৬৯৬ বর্গফুট আয়তনের বেদীর ওপরে তিনটি ফ্রিঞ্জ (স্তম্ভ) দ্বারা তৈরি হবে। এগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছে বুঝানো হয়েছে। ফ্রিঞ্জ গুলোকে একত্রিত করার জন্য ২০ ফুট উচ্চতায় একটি শুরঙ্গ ছাঁদ। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে যুদ্ধ করেছে তা বুঝানো হয়েছে। পাথর দ্বারা নির্মিত ফ্রেঞ্জগুলোর গায়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংবলিত কারুকার্য থাকবে এবং ফ্রিঞ্জের ঠিক পিছনে ঢালু অংশে বিভিন্ন মুরাল থাকবে। ভাস্কর্যটি সামকগ্রিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিশালতা বোঝাবে।
তবে একই মেগা প্রকল্পের আওতায় থাকা রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও একটি ছাত্রী হলের কাজের অনুমোদন মিললেও স্বাধীনতা স্মারকের কাজ এখনো অনুমোদন পায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, স্বাধীনতা স্মারক একটা জাতির গৌরব ও আত্মত্যাগের প্রতীক। বেরোবিতে স্বাধীনতা স্মারকের বেহাল অবস্থা। দীর্ঘ ১৪বছর ধরে এমন নাজুক অবস্থা। এর কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। স্মারকের দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। অসম্পূর্ণ স্বাধীনতা স্মারক দেশের সম্পূর্ণ স্বাধীনতার ইতিহাস ও ত্যাগ তুলে ধরতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এদিকে দৃষ্টি দিবেন সেই আশা করছি।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোকছেদুল মমিন বলেন, স্বাধীনতা স্মারকের অধিকাংশ কাঠামোগত কাজ শেষ হলেও এক যুগ পার হয়ে গেছে, কিন্তু এটি এখনো পূর্ণতা পায়নি। সম্প্রতি মেগা প্রকল্পের বাজেট বরাদ্দের কথা শোনা গেলেও কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। দ্রুত কাজ শুরু করে বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ৭৭ কোটি টাকা পেয়েছি। এই অর্থ দিয়ে ছাত্রী হল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কাজ শুরু করেছি। ঠিকাদারের কাছেও কিছু অর্থ রয়েছে। ধাপে ধাপে স্বাধীনতা স্মারকের বাকি কাজও সম্পন্ন করা হবে।