সংবাদ শিরোনাম ::
ফ্যাসিস্টের দোসর ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন বহাল তবিয়তে এনবিআরের সহিদুলের ঢাকায় ৫৩ ফ্ল্যাট, ৪০০ কোটির সম্পত্তি ইতালির শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন নিয়ে নতুন নির্দেশনা মোদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করলেন হ্লাইং দেশের সব শপিং মল সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশনা বেজড়া ভাটরা ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর মেগা ফাইনাল উন্নয়ন ও জনস্বার্থে একসঙ্গে কাজের আহ্বান, ঈদ মিলনমেলায় এমপি হাফিজ ইব্রাহিম সবুজ পাহাড় আর মেঘের রাজ্য লামা, বাংলাদেশের নতুন পর্যটন বিস্ময় বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল তরুণ পাইলটের চট্টগ্রামে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

‘ম্যাগনেটিক পিলারে’ কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন, মঠবাড়িয়ায় জোড়া খুন

কথিত ‘ম্যাগনেটিক পিলার’ সংগ্রহ করে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নই যেন কেড়ে নিল দুই প্রাণ। একই ঘটনায় একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (৩১ মে) পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের পৃথক স্থান থেকে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক ও নানা গুঞ্জন।

স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত নুর মোহাম্মদের পুত্র আব্দুর রশিদ (৪০) শনিবার (৩০ মে) গভীর রাতে কথিত মূল্যবান ‘ম্যাগনেটিক পিলার’ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পরে ভোরে নেহালিয়া মাদরাসা সংলগ্ন মক্তবখানা এলাকায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

একই ইউনিয়নের বাসিন্দা কালু মিয়ার পুত্র সাগরও (৩০) গভীর রাতে একই উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে খুন হন বলে স্থানীয়দের ধারণা। সকালে তার বাড়ির পেছন থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সাগর এক সন্তানের জনক ছিলেন।

এদিকে, একই এলাকার ইউসুফ প্যাদা (৩২) শনিবার (৩০ মে) রাত থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। পরিবারের দাবি, তিনি রাতের দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ধারাবাহিক দুই হত্যাকাণ্ডের পর ইউসুফ প্যাদার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। নিহত রশিদের স্ত্রী ময়না বেগম বলেন, ‘রাতে কারা যেন ফোন করে তাকে ডেকে নেয়। আমি যেতে নিষেধ করেছিলাম, কিন্তু সে আমার কথা শোনেনি। সকালে শুনি সে আর বেঁচে নেই।’

এলাকাবাসী জানান, জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয়দের ধারণা, কথিত ‘ম্যাগনেটিক পিলার’ সংগ্রহকে কেন্দ্র করে কোনো বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া সার্কেল) পার্থ চক্রবর্তী বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মরদেহ দুটি আমাদের হেফাজতে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘সিআইডি টিম এসে আলামত সংগ্রহ করবে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিস্টের দোসর ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন বহাল তবিয়তে

‘ম্যাগনেটিক পিলারে’ কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন, মঠবাড়িয়ায় জোড়া খুন

আপডেট সময় ১১:৫৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

কথিত ‘ম্যাগনেটিক পিলার’ সংগ্রহ করে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নই যেন কেড়ে নিল দুই প্রাণ। একই ঘটনায় একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (৩১ মে) পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের পৃথক স্থান থেকে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক ও নানা গুঞ্জন।

স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত নুর মোহাম্মদের পুত্র আব্দুর রশিদ (৪০) শনিবার (৩০ মে) গভীর রাতে কথিত মূল্যবান ‘ম্যাগনেটিক পিলার’ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পরে ভোরে নেহালিয়া মাদরাসা সংলগ্ন মক্তবখানা এলাকায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

একই ইউনিয়নের বাসিন্দা কালু মিয়ার পুত্র সাগরও (৩০) গভীর রাতে একই উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে খুন হন বলে স্থানীয়দের ধারণা। সকালে তার বাড়ির পেছন থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সাগর এক সন্তানের জনক ছিলেন।

এদিকে, একই এলাকার ইউসুফ প্যাদা (৩২) শনিবার (৩০ মে) রাত থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। পরিবারের দাবি, তিনি রাতের দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ধারাবাহিক দুই হত্যাকাণ্ডের পর ইউসুফ প্যাদার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। নিহত রশিদের স্ত্রী ময়না বেগম বলেন, ‘রাতে কারা যেন ফোন করে তাকে ডেকে নেয়। আমি যেতে নিষেধ করেছিলাম, কিন্তু সে আমার কথা শোনেনি। সকালে শুনি সে আর বেঁচে নেই।’

এলাকাবাসী জানান, জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয়দের ধারণা, কথিত ‘ম্যাগনেটিক পিলার’ সংগ্রহকে কেন্দ্র করে কোনো বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া সার্কেল) পার্থ চক্রবর্তী বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মরদেহ দুটি আমাদের হেফাজতে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘সিআইডি টিম এসে আলামত সংগ্রহ করবে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।