ঢাকা ০৪:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্রী রঘু রাই মারা গেছেন

ভারতের অন্যতম খ্যাতিমান আলোকচিত্রী রঘু রাই মারা গেছেন।

রোববার (২৬ এপ্রিল) নয়াদিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার পরিবার মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিদেশি আলোকচিত্রীদের কাতারে রঘু রাই ছিলেন প্রথম সারিতে। বড় ভাই এস. পলের হাত ধরে তিনি ফটোগ্রাফির জগতে পা রাখেন এবং পরে ১৯৬৫ সালে ‘দ্য স্টেটসম্যান’-পত্রিকায় যোগ দেন। এই পত্রিকার প্রধান আলোকচিত্র সাংবাদিক হিসেবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের বিভিন্ন আশ্রয়শিবির ঘুরে বাড়ি-ঘর ছাড়া  বাংলাদেশিদের অবর্ণনীয় কষ্টের জীবনধারা চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধাদের সরাসরি যুদ্ধের দৃশ্য, ১৬ ডিসেম্বরে বিজয়ের পর বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধাদের দেশে ফেরা ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের চিত্র তার ক্যামেরায় ধারণ করেছিলেন। তার তোলা ছবিগুলো এখনো স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ছবি ছাড়াও ১৯৮৪ সালে ভারতের ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনায় তার তোলা ছবিগুলো বিশ্বজুড়ে তখন আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

এছাড়া তার ক্যামেরার লেন্সে একসময় বন্দি হয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী, দালাই লামা ও মাদার তেরেসাসহ আরো অনেকেই, যা তাকে কর্মজীবনে একজন আলোকচিত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দিয়েছিল। কিংবদন্তি এই আলোকচিত্রীর মৃত্যুতে ভারতের শিল্প ও সাংবাদিকতা জগতে এক যুগের অবসান হলো।

বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ওপর তোলা ছবির জন্য ভারত সরকার তাকে ১৯৭২ সালে সম্মান জানিয়ে ‘পদ্মশ্রী’ পদকে ভূষিত করেন। এছাড়া তিনি দেশি-বিদেশি অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্রী রঘু রাই মারা গেছেন

আপডেট সময় ০১:৫৫:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ভারতের অন্যতম খ্যাতিমান আলোকচিত্রী রঘু রাই মারা গেছেন।

রোববার (২৬ এপ্রিল) নয়াদিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার পরিবার মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিদেশি আলোকচিত্রীদের কাতারে রঘু রাই ছিলেন প্রথম সারিতে। বড় ভাই এস. পলের হাত ধরে তিনি ফটোগ্রাফির জগতে পা রাখেন এবং পরে ১৯৬৫ সালে ‘দ্য স্টেটসম্যান’-পত্রিকায় যোগ দেন। এই পত্রিকার প্রধান আলোকচিত্র সাংবাদিক হিসেবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের বিভিন্ন আশ্রয়শিবির ঘুরে বাড়ি-ঘর ছাড়া  বাংলাদেশিদের অবর্ণনীয় কষ্টের জীবনধারা চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধাদের সরাসরি যুদ্ধের দৃশ্য, ১৬ ডিসেম্বরে বিজয়ের পর বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধাদের দেশে ফেরা ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের চিত্র তার ক্যামেরায় ধারণ করেছিলেন। তার তোলা ছবিগুলো এখনো স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ছবি ছাড়াও ১৯৮৪ সালে ভারতের ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনায় তার তোলা ছবিগুলো বিশ্বজুড়ে তখন আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

এছাড়া তার ক্যামেরার লেন্সে একসময় বন্দি হয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী, দালাই লামা ও মাদার তেরেসাসহ আরো অনেকেই, যা তাকে কর্মজীবনে একজন আলোকচিত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দিয়েছিল। কিংবদন্তি এই আলোকচিত্রীর মৃত্যুতে ভারতের শিল্প ও সাংবাদিকতা জগতে এক যুগের অবসান হলো।

বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ওপর তোলা ছবির জন্য ভারত সরকার তাকে ১৯৭২ সালে সম্মান জানিয়ে ‘পদ্মশ্রী’ পদকে ভূষিত করেন। এছাড়া তিনি দেশি-বিদেশি অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেছেন।