ঢাকা ০৩:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রেলকর্মীদের দৈনিক খাবার ভাতা ২৮৫ টাকা

রেলপথ মেরামত ও দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেন উদ্ধার কাজে নিয়োজিত প্রকৌশল বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের জন্য দৈনিক খাবার ভাতা বা রিভলভিং ইমপ্রেস্ট অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

যান্ত্রিক বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে সম্প্রতি রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, জরুরি উদ্ধার কাজ চলাকালীন প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২৮৫ টাকা পর্যন্ত খাবার ভাতা পাবেন। এর মধ্যে সকালের নাস্তার জন্য ৫০ টাকা, দুপুরের খাবারের জন্য ১০০ টাকা, বিকেলের নাস্তার জন্য ৩৫ টাকা এবং রাতের খাবারের জন্য ১০০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একজন কর্মী সর্বোচ্চ দুই বেলা প্রধান খাবার ও দুই বেলা নাস্তা খেতে পারবেন।

ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। সকাল ৮টা অথবা সন্ধ্যা ৬টার পর উদ্ধার কাজ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট বেলার নাস্তার ভাতা প্রযোজ্য হবে না। একইভাবে দুপুর ১টা কিংবা রাত ৯টার পরে কাজে যোগ দিলে ওই বেলার প্রধান খাবারের ভাতা দেওয়া হবে না। উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ার সময়ের ওপর ভিত্তি করেও ভাতার প্রাপ্যতা নির্ধারণ করা হবে।

তহবিল ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রকৌশলীরা প্রতি মাসে সম্ভাব্য দুটি দুর্ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে প্রকৃত উপস্থিতির ভিত্তিতে অগ্রিম অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। ৫০ জন কর্মীর উপস্থিতি ধরে এককালীন সর্বোচ্চ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নেওয়ার সুযোগ থাকবে, যা পরবর্তীতে যথাযথ ভাউচারের মাধ্যমে সমন্বয় করতে হবে।

জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক অগ্রিম উত্তোলনে জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার (এসএসএই) বা রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ কর্মকর্তা (ওয়ে অফিসার) স্টেশনের আয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করতে পারবেন। তবে কাজ শেষে সদর দপ্তরে ফেরার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খরচের হিসাব জমা দিয়ে তা সমন্বয় করতে হবে।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, আগে শুধু যান্ত্রিক বিভাগের কর্মীরাই রিলিফ ট্রেন বা টুল ভ্যানে কাজ করার সময় খাবারের সুবিধা পেতেন। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রকৌশল বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কাজের গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্দেশনাটি চট্টগ্রাম ও রাজশাহী অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে কার্যকরের জন্য পাঠানো হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিশ্ব শ্রমিক দিবসে কুমিল্লায় তরুণদের ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ

উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রেলকর্মীদের দৈনিক খাবার ভাতা ২৮৫ টাকা

আপডেট সময় ০১:০৬:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

রেলপথ মেরামত ও দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেন উদ্ধার কাজে নিয়োজিত প্রকৌশল বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের জন্য দৈনিক খাবার ভাতা বা রিভলভিং ইমপ্রেস্ট অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

যান্ত্রিক বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে সম্প্রতি রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, জরুরি উদ্ধার কাজ চলাকালীন প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২৮৫ টাকা পর্যন্ত খাবার ভাতা পাবেন। এর মধ্যে সকালের নাস্তার জন্য ৫০ টাকা, দুপুরের খাবারের জন্য ১০০ টাকা, বিকেলের নাস্তার জন্য ৩৫ টাকা এবং রাতের খাবারের জন্য ১০০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একজন কর্মী সর্বোচ্চ দুই বেলা প্রধান খাবার ও দুই বেলা নাস্তা খেতে পারবেন।

ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। সকাল ৮টা অথবা সন্ধ্যা ৬টার পর উদ্ধার কাজ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট বেলার নাস্তার ভাতা প্রযোজ্য হবে না। একইভাবে দুপুর ১টা কিংবা রাত ৯টার পরে কাজে যোগ দিলে ওই বেলার প্রধান খাবারের ভাতা দেওয়া হবে না। উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ার সময়ের ওপর ভিত্তি করেও ভাতার প্রাপ্যতা নির্ধারণ করা হবে।

তহবিল ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রকৌশলীরা প্রতি মাসে সম্ভাব্য দুটি দুর্ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে প্রকৃত উপস্থিতির ভিত্তিতে অগ্রিম অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। ৫০ জন কর্মীর উপস্থিতি ধরে এককালীন সর্বোচ্চ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নেওয়ার সুযোগ থাকবে, যা পরবর্তীতে যথাযথ ভাউচারের মাধ্যমে সমন্বয় করতে হবে।

জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক অগ্রিম উত্তোলনে জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার (এসএসএই) বা রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ কর্মকর্তা (ওয়ে অফিসার) স্টেশনের আয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করতে পারবেন। তবে কাজ শেষে সদর দপ্তরে ফেরার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খরচের হিসাব জমা দিয়ে তা সমন্বয় করতে হবে।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, আগে শুধু যান্ত্রিক বিভাগের কর্মীরাই রিলিফ ট্রেন বা টুল ভ্যানে কাজ করার সময় খাবারের সুবিধা পেতেন। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রকৌশল বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কাজের গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্দেশনাটি চট্টগ্রাম ও রাজশাহী অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে কার্যকরের জন্য পাঠানো হয়েছে।