সংবাদ শিরোনাম ::
মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয়

নার্সের মাধ্যমে ডেলিভারি, নবজাতকের মৃত্যু

গাজীপুর সদর উপজেলার মনিপুর বাজারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্সের মাধ্যমে ডেলিভারি করানোর সময় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভোররাত চারটার দিকে মনিপুর বাজারে অবস্থিত ইবনে সিনা মডেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামের বাসিন্দা আকলিমা আক্তার আখি (২৫) ভোররাতে অসহ্য প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

অভিযোগ রয়েছে, সে সময় হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। এ অবস্থায় এক নার্স নিজে ডেলিভারি করান। ডেলিভারির সময় নবজাতকটি মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়।

নবজাতকটি ছিল আকলিমা আক্তার আখি ও তাঁর স্বামী শামীমের প্রথম সন্তান। শামীম স্থানীয় একটি ওয়ার্কশপে চাকরি করেন। প্রথম সন্তান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা।

আকলিমার বড় ভাই রানা বলেন, রাতের দিকে তাঁর বোনের প্রসব বেদনা শুরু হলে ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা দ্রুত মনিপুর বাজারের ইবনে সিনা মডেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতাল এসে কে চিকিৎসক এবং কে নার্স তা বোঝার আগেই কর্তৃপক্ষ জানান, গর্ভের সন্তান জীবিত রয়েছে।

রানা অভিযোগ করে বলেন, যে নার্স ছিলেন তিনি নিজেকে ডাক্তার দাবি করে ডেলিভারি করান। কিন্তু ডেলিভারির সময় বাচ্চাটি মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়। পরে তারা জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

এ ঘটনার বিষয়ে ইবনে সিনা মডেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু তালেব বলেন, ডেলিভারি করার পর বাচ্চা মৃত অবস্থায় বের হয়েছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। জরুরি সময়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকলে নার্সের মাধ্যমে নরমাল ডেলিভারি করানো হয়। জয়দেবপুর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, কিছু বেসরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকলেও জরুরি রোগী ভর্তি করে ঝুঁকিপূর্ণ সেবা দেওয়া হচ্ছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র

নার্সের মাধ্যমে ডেলিভারি, নবজাতকের মৃত্যু

আপডেট সময় ১১:৪৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

গাজীপুর সদর উপজেলার মনিপুর বাজারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্সের মাধ্যমে ডেলিভারি করানোর সময় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভোররাত চারটার দিকে মনিপুর বাজারে অবস্থিত ইবনে সিনা মডেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামের বাসিন্দা আকলিমা আক্তার আখি (২৫) ভোররাতে অসহ্য প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

অভিযোগ রয়েছে, সে সময় হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। এ অবস্থায় এক নার্স নিজে ডেলিভারি করান। ডেলিভারির সময় নবজাতকটি মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়।

নবজাতকটি ছিল আকলিমা আক্তার আখি ও তাঁর স্বামী শামীমের প্রথম সন্তান। শামীম স্থানীয় একটি ওয়ার্কশপে চাকরি করেন। প্রথম সন্তান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা।

আকলিমার বড় ভাই রানা বলেন, রাতের দিকে তাঁর বোনের প্রসব বেদনা শুরু হলে ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা দ্রুত মনিপুর বাজারের ইবনে সিনা মডেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতাল এসে কে চিকিৎসক এবং কে নার্স তা বোঝার আগেই কর্তৃপক্ষ জানান, গর্ভের সন্তান জীবিত রয়েছে।

রানা অভিযোগ করে বলেন, যে নার্স ছিলেন তিনি নিজেকে ডাক্তার দাবি করে ডেলিভারি করান। কিন্তু ডেলিভারির সময় বাচ্চাটি মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়। পরে তারা জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

এ ঘটনার বিষয়ে ইবনে সিনা মডেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু তালেব বলেন, ডেলিভারি করার পর বাচ্চা মৃত অবস্থায় বের হয়েছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। জরুরি সময়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকলে নার্সের মাধ্যমে নরমাল ডেলিভারি করানো হয়। জয়দেবপুর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, কিছু বেসরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকলেও জরুরি রোগী ভর্তি করে ঝুঁকিপূর্ণ সেবা দেওয়া হচ্ছে।