সংবাদ শিরোনাম ::
আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী কুলির চরিত্রে পর্দায় ফিরছেন ওমর সানী প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে উসকানির আভাস পাচ্ছি : রিজভী গ্যালারিতে বসে দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী নওগাঁ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন কমিশন গঠন সভা অনুষ্ঠিত মুকসুদপুরে জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে জন সচেতনতা বৃদ্ধিমুলক ওয়ার্কসপ কিশোর নিবিরের প্রেমের বিয়ে, ৮ মাস পর রহস্যজনক মৃত্যু  কোটালীপাড়ায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ মুরাদকে অব্যাহতি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গঙ্গাচড়ায় হাজারো মানুষের মানববন্ধন

লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য

মোঃ কাউছার আলম: নতুন মিটার পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষা, ভোগান্তিতে সাধারণ গ্রাহক। চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে নতুন সংযোগ ও মিটার প্রাপ্তিকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। অভিযোগ উঠেছে, অফিসকেন্দ্রিক একটি দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে সেবা কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং গ্রাহকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অপচেষ্টা চলছে।

ভুক্তভোগী একাধিক গ্রাহক জানান, নতুন মিটারের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করেও দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সাড়া মিলছে না। কেউ কেউ ৭ থেকে ৮ মাস আগে আবেদন করেও এখনো মিটার হাতে পাননি। ফলে নতুন বাড়ি নির্মাণ বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করতে গিয়ে তারা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত মিটার মিলছে না। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, অফিসের ভেতরে-বাইরে সক্রিয় একটি চিহ্নিত দালালচক্র প্রভাব বিস্তার করে কাজের গতি নিয়ন্ত্রণ করছে। দালালদের মাধ্যমে যোগাযোগ না করলে ফাইল এগোয় না—এমন অভিযোগও রয়েছে।
একাধিক গ্রাহক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অফিসে গেলেই নানা অজুহাত দেখানো হয়। কখনো বলা হয় মিটার নেই, কখনো কাগজপত্রে ত্রুটি। কিন্তু দালালের মাধ্যমে গেলে কাজ দ্রুত হয়ে যায়—এমন কথা প্রকাশ্যে শোনা যায়।”
এলাকাবাসীর মতে, গত ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রশাসনিক পরিবর্তন এলেও লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং আগের মতোই অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, দালালমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি লাঘব করা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী

লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য

আপডেট সময় ০৪:১৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মোঃ কাউছার আলম: নতুন মিটার পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষা, ভোগান্তিতে সাধারণ গ্রাহক। চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে নতুন সংযোগ ও মিটার প্রাপ্তিকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। অভিযোগ উঠেছে, অফিসকেন্দ্রিক একটি দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে সেবা কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং গ্রাহকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অপচেষ্টা চলছে।

ভুক্তভোগী একাধিক গ্রাহক জানান, নতুন মিটারের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করেও দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সাড়া মিলছে না। কেউ কেউ ৭ থেকে ৮ মাস আগে আবেদন করেও এখনো মিটার হাতে পাননি। ফলে নতুন বাড়ি নির্মাণ বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করতে গিয়ে তারা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত মিটার মিলছে না। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, অফিসের ভেতরে-বাইরে সক্রিয় একটি চিহ্নিত দালালচক্র প্রভাব বিস্তার করে কাজের গতি নিয়ন্ত্রণ করছে। দালালদের মাধ্যমে যোগাযোগ না করলে ফাইল এগোয় না—এমন অভিযোগও রয়েছে।
একাধিক গ্রাহক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অফিসে গেলেই নানা অজুহাত দেখানো হয়। কখনো বলা হয় মিটার নেই, কখনো কাগজপত্রে ত্রুটি। কিন্তু দালালের মাধ্যমে গেলে কাজ দ্রুত হয়ে যায়—এমন কথা প্রকাশ্যে শোনা যায়।”
এলাকাবাসীর মতে, গত ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রশাসনিক পরিবর্তন এলেও লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং আগের মতোই অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, দালালমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি লাঘব করা।