ঢাকা ০৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

বান্দরবানে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাএ-কর্মচারীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক যৌন নিপীড়নের অভিযোগ জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাছে দাখিল করা হয়েছে ভুক্তভোগীরদের মধ্যে স্কুলের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বাদ পড়েনি ও স্কুলের কর্মচারীও। তারা অভিযোগ করেছেন যে, তিনি তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের দুর্বল ও অসহায় সদস্যদের শিকার বানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি জানান, গত ১০ ফেব্রুয়ারি দুই শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ তিনি পেয়েছেন, যেখানে প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ডিসি ১৬ ফেব্রুয়ারি তার কার্যালয়ে বলেন, অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন—পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে প্রধান শিক্ষক তাদের যৌন নিপীড়ন করেন। তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন অস্থায়ী কর্মচারীও অভিযোগ করেছেন যে চাকরি স্থায়ী করার প্রলোভন দেখিয়ে প্রধান শিক্ষক তাদের যৌনভাবে নিপীড়ন করেছেন।

ডিসি গতকাল জানান, ১০ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব) ফয়জুর রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি একজন শিক্ষকের জন্য গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরবর্তী সময়ে যোগাযোগ করা হলে ফয়জুর রহমান গতকাল জানান, এ পর্যন্ত তারা আরও সাতজন শিক্ষার্থী, একজন অভিভাবক এবং স্কুলের সাত থেকে আটজন শিক্ষকের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন এবং তারা সবাই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সমর্থন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ১৭ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হন। “তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন,” বলেন রহমান। তিনি যোগ করেন, আগামী সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

এর আগে, ১০ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক  ফোনে বলেন, “আমি ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব।” তবে এরপর থেকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি। স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহ মোহাম্মদ রেজাউল করিম ১৬ ফেব্রুয়ারি জানান, ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত রয়েছেন এবং যাওয়ার আগে তিনি কারও কাছে দায়িত্ব অর্পণ করেননি।

তিনি বলেন, কিছু শিক্ষার্থী ডিসির কাছে অভিযোগ করেছে বলে শুনেছেন, তবে বিস্তারিত জানেন না।
১০ ফেব্রুয়ারি চার থেকে পাঁচজন ভুক্তভোগী ও তাদের অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে একটি স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থার দ্বারস্থ হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
মানবাধিকার কর্মী ডাও নই প্রু নেলি জানান, তারা ভুক্তভোগীদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান, যেখানে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়।
দ্য ডেইলি স্টার একাধিক অভিযোগকারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে। তারা আরো অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থীদের শিকার বানিয়েছেন।

অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, অভিযোগ করে বলেন—তাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করা হয়। ভয়ে ও লজ্জায় তিনি প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখেন। পরে তিনি তার দাদী ও এক স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীকে বিষয়টি জানান এবং জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে পারে। একজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, তার ছেলে অষ্টম শ্রেণিতে ফেল করার পর পুনরায় ভর্তি হলে প্রধান শিক্ষক তাকে ব্যক্তিগতভাবে “গাইড” করার প্রস্তাব দেন এবং সন্ধ্যায় তার কাছে যেতে বলেন। কয়েক মাস পর ছেলেটি প্রধান শিক্ষকের কাছে যেতে অস্বীকৃতি জানায় এবং ভীতসন্ত্রস্ত আচরণ করতে থাকে। পরে সে কথিত নির্যাতনের কথা প্রকাশ করে।

একজন অস্থায়ী কম্পিউটার অপারেটর অভিযোগ করেন, অফিস সময়ের পর তাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ডাকা হয় এবং জোরপূর্বক অশোভন আচরণ করা হয়। প্রতিবাদ করলে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ ফরিদুল আলম হোসাইনি জানান, তার দপ্তরে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পৌঁছায়নি। তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষক কোনো ছুটির আবেদনও করেনি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

বান্দরবানে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাএ-কর্মচারীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৭:৩০:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক যৌন নিপীড়নের অভিযোগ জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাছে দাখিল করা হয়েছে ভুক্তভোগীরদের মধ্যে স্কুলের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বাদ পড়েনি ও স্কুলের কর্মচারীও। তারা অভিযোগ করেছেন যে, তিনি তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের দুর্বল ও অসহায় সদস্যদের শিকার বানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি জানান, গত ১০ ফেব্রুয়ারি দুই শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ তিনি পেয়েছেন, যেখানে প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ডিসি ১৬ ফেব্রুয়ারি তার কার্যালয়ে বলেন, অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন—পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে প্রধান শিক্ষক তাদের যৌন নিপীড়ন করেন। তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন অস্থায়ী কর্মচারীও অভিযোগ করেছেন যে চাকরি স্থায়ী করার প্রলোভন দেখিয়ে প্রধান শিক্ষক তাদের যৌনভাবে নিপীড়ন করেছেন।

ডিসি গতকাল জানান, ১০ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব) ফয়জুর রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি একজন শিক্ষকের জন্য গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরবর্তী সময়ে যোগাযোগ করা হলে ফয়জুর রহমান গতকাল জানান, এ পর্যন্ত তারা আরও সাতজন শিক্ষার্থী, একজন অভিভাবক এবং স্কুলের সাত থেকে আটজন শিক্ষকের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন এবং তারা সবাই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সমর্থন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ১৭ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হন। “তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন,” বলেন রহমান। তিনি যোগ করেন, আগামী সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

এর আগে, ১০ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক  ফোনে বলেন, “আমি ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব।” তবে এরপর থেকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি। স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহ মোহাম্মদ রেজাউল করিম ১৬ ফেব্রুয়ারি জানান, ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত রয়েছেন এবং যাওয়ার আগে তিনি কারও কাছে দায়িত্ব অর্পণ করেননি।

তিনি বলেন, কিছু শিক্ষার্থী ডিসির কাছে অভিযোগ করেছে বলে শুনেছেন, তবে বিস্তারিত জানেন না।
১০ ফেব্রুয়ারি চার থেকে পাঁচজন ভুক্তভোগী ও তাদের অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে একটি স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থার দ্বারস্থ হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
মানবাধিকার কর্মী ডাও নই প্রু নেলি জানান, তারা ভুক্তভোগীদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান, যেখানে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়।
দ্য ডেইলি স্টার একাধিক অভিযোগকারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে। তারা আরো অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থীদের শিকার বানিয়েছেন।

অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, অভিযোগ করে বলেন—তাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করা হয়। ভয়ে ও লজ্জায় তিনি প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখেন। পরে তিনি তার দাদী ও এক স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীকে বিষয়টি জানান এবং জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে পারে। একজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, তার ছেলে অষ্টম শ্রেণিতে ফেল করার পর পুনরায় ভর্তি হলে প্রধান শিক্ষক তাকে ব্যক্তিগতভাবে “গাইড” করার প্রস্তাব দেন এবং সন্ধ্যায় তার কাছে যেতে বলেন। কয়েক মাস পর ছেলেটি প্রধান শিক্ষকের কাছে যেতে অস্বীকৃতি জানায় এবং ভীতসন্ত্রস্ত আচরণ করতে থাকে। পরে সে কথিত নির্যাতনের কথা প্রকাশ করে।

একজন অস্থায়ী কম্পিউটার অপারেটর অভিযোগ করেন, অফিস সময়ের পর তাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ডাকা হয় এবং জোরপূর্বক অশোভন আচরণ করা হয়। প্রতিবাদ করলে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ ফরিদুল আলম হোসাইনি জানান, তার দপ্তরে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পৌঁছায়নি। তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষক কোনো ছুটির আবেদনও করেনি।