ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ছাগল বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ল বৃদ্ধ চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে শিক্ষার্থীসহ ২ জনের মৃত্যু কালিয়াকৈরে তুরাগ নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি, বাঁধে রক্ষা পেল হাজার একর ফসিল জমি  হাজারীবাগে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২৫ চট্টগ্রামে বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ফেরা হলো না কলেজ ছাত্রের ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বলল চীন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বেড়েছে অনুপস্থিতি সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ভোলাহাটে জ্বালানী তেলের সঙ্কটে দিশেহারা কৃষক! পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে ধান ও আমের মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ভেস্তে যেতে বসেছে! ধান ও আমচাষীগণের উর্ধ্বতন  কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টির আহবান!!  টাইমের প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় তারেক রহমান, সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব

তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ : চার যুবকের যাবজ্জীবন

প্রায় ১৭ বছর আগে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় চার যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন। দণ্ডিতরা হলেন- শহিদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, নিজাম এবং মনির হোসেন ওরফে সেন্টু।

সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এরশাদ আলম (জর্জ) সাজার তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসামিদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। অপর তিন আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ২৫ বছর বয়সে ওই নারীর তার বান্ধবীর সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর থানাধীন আশ্রাফাবাদে ময়দার মিলের পার্শ্বে নৌকা ঘাটে বেড়িবাধে রেড়াতে বের হয়েছিলেন। এক পর্যায়ে তার বান্ধবী তাকে রেখে বাসায় চলে যায়। তার বান্ধবী চলে যাওয়ার পর ঐদিন বিকেল ৬টা ৪৫ মিনিটে আসামি মো. শহিদুল, মো. সাইফুল, মো. নিজাম, সুজন, মো. পলাশ এবং মো. সেন্টু জোর পূর্বক তার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একটি নৌকায় উঠায় এবং বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে মাঝিকে নদীর মধ্যে ফেলে দেন। পরে নৌকার মধ্যে আসামিরা পালাক্রমে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ করার পর আসামির ভিকটিমকে ছালাম কন্ট্রাকদারের বাড়ির একটি রুমের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রাখেন। এরপর সংবাদ পেয়ে তার বাবা-মা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেন। ওই ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা কামরাঙ্গীরচর থানার উপ-পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম শিকদার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাগল বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ল বৃদ্ধ

তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ : চার যুবকের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ১২:২৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রায় ১৭ বছর আগে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় চার যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন। দণ্ডিতরা হলেন- শহিদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, নিজাম এবং মনির হোসেন ওরফে সেন্টু।

সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এরশাদ আলম (জর্জ) সাজার তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসামিদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। অপর তিন আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ২৫ বছর বয়সে ওই নারীর তার বান্ধবীর সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর থানাধীন আশ্রাফাবাদে ময়দার মিলের পার্শ্বে নৌকা ঘাটে বেড়িবাধে রেড়াতে বের হয়েছিলেন। এক পর্যায়ে তার বান্ধবী তাকে রেখে বাসায় চলে যায়। তার বান্ধবী চলে যাওয়ার পর ঐদিন বিকেল ৬টা ৪৫ মিনিটে আসামি মো. শহিদুল, মো. সাইফুল, মো. নিজাম, সুজন, মো. পলাশ এবং মো. সেন্টু জোর পূর্বক তার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একটি নৌকায় উঠায় এবং বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে মাঝিকে নদীর মধ্যে ফেলে দেন। পরে নৌকার মধ্যে আসামিরা পালাক্রমে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ করার পর আসামির ভিকটিমকে ছালাম কন্ট্রাকদারের বাড়ির একটি রুমের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রাখেন। এরপর সংবাদ পেয়ে তার বাবা-মা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেন। ওই ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা কামরাঙ্গীরচর থানার উপ-পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম শিকদার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।