ঢাকা ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাসিক বেতন ১০ হাজার, ৪ কোটির প্রাসাদে বসবাস কর্মচারীর! হত্যা মামলার আসামি ও সাময়িক বরখাস্ত মহিউদ্দীন ববি সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে বাস-মাহিন্দ্র সংঘর্ষে প্রাণহানি ১, আহত ৪ স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ায় ৪০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করলেন স্বামী আমাদের নেতা মানবিক, কোনো বৈষম্য হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দল দুর্ভাগ্যবশত হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ভারতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ পরিবারের সঞ্জিতের ধর্মান্তর, বিয়ে, ২০ লাখ টাকা ও পিতৃপরিচয়ের জটিলতা ও প্রতারণা সালমান শাহ হত্যা মামলা : খলনায়ক ডনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন বালিয়াডাঙ্গীতে স্কুলের ৪৭ শতক জমি নিয়ে বিরোধ, উদ্ধারে মানববন্ধন

মোঃ ময়েজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার দুর্নীতি ও সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০২:৫১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৫৫ বার পড়া হয়েছে

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ময়েজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার দুর্নীতি ও সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দ ও উপকরণ ব্যবস্থাপনায় প্রভাব বিস্তার করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন তিনি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে এই অনিয়ম চালিয়ে গেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মোঃ ময়েজ উদ্দিন চাকরি থেকে আগেভাগেই অব্যাহতি নেন এবং পরবর্তীতে কালো অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে রিয়েল এস্টেট ও ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে ফ্ল্যাট কেনাবেচার ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। ঢাকার বনানী ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, রাজশাহীর কসমোপলিটন বিল্ডিং, আলুপট্টির স্বচ্ছ টাওয়ার ও তেরখাদিয়া হাউজিং এস্টেটে তার নামে-বেনামে ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়াও ময়মনসিংহের ভালুকা ও ঢাকার টঙ্গীতে জিও ব্যাগ কারখানায় অংশীদারিত্বের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নদী বাঁধ নির্মাণে জিও ব্যাগ সরবরাহের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের নির্দিষ্ট উৎস থেকে উপকরণ কিনতে বাধ্য করা হতো, যা থেকে মোঃ ময়েজ উদ্দিনের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক লাভ হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি মাঠ পর্যায়ের প্রকল্প তদারকিতেও প্রভাব বিস্তার করতেন, যাতে বরাদ্দের অর্থ ও কাজের মান নিয়ন্ত্রণে থাকে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বিলাসী জীবনযাপন ও ঢাকায় ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য দুটি প্রাইভেট গাড়ি এবং বিমান যাতায়াতের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় তার নামে-বেনামে জমি এবং অন্যান্য সম্পদ রয়েছে।

গত ৩০ ডিসেম্বর খন্দকার রউফ ইসলাম দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মোঃ ময়েজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তার সম্পদ অর্জনের উৎস এবং সরকারি দায়িত্বকালীন অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

মোঃ ময়েজ উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের “দশ ভাগ সত্য, নব্বই ভাগ মিথ্যা” এবং কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে তাকে সমাজে হেয় করার চেষ্টা করছে।

রাজশাহী পলিটেকনিক থেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা মোঃ ময়েজ উদ্দিনের দ্রুত সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হলে শুধুমাত্র ব্যক্তির দায় নয়, পুরো ব্যবস্থার জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাসিক বেতন ১০ হাজার, ৪ কোটির প্রাসাদে বসবাস কর্মচারীর!

মোঃ ময়েজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার দুর্নীতি ও সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় ০২:৫১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ময়েজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার দুর্নীতি ও সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দ ও উপকরণ ব্যবস্থাপনায় প্রভাব বিস্তার করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন তিনি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে এই অনিয়ম চালিয়ে গেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মোঃ ময়েজ উদ্দিন চাকরি থেকে আগেভাগেই অব্যাহতি নেন এবং পরবর্তীতে কালো অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে রিয়েল এস্টেট ও ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে ফ্ল্যাট কেনাবেচার ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। ঢাকার বনানী ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, রাজশাহীর কসমোপলিটন বিল্ডিং, আলুপট্টির স্বচ্ছ টাওয়ার ও তেরখাদিয়া হাউজিং এস্টেটে তার নামে-বেনামে ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়াও ময়মনসিংহের ভালুকা ও ঢাকার টঙ্গীতে জিও ব্যাগ কারখানায় অংশীদারিত্বের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নদী বাঁধ নির্মাণে জিও ব্যাগ সরবরাহের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের নির্দিষ্ট উৎস থেকে উপকরণ কিনতে বাধ্য করা হতো, যা থেকে মোঃ ময়েজ উদ্দিনের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক লাভ হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি মাঠ পর্যায়ের প্রকল্প তদারকিতেও প্রভাব বিস্তার করতেন, যাতে বরাদ্দের অর্থ ও কাজের মান নিয়ন্ত্রণে থাকে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বিলাসী জীবনযাপন ও ঢাকায় ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য দুটি প্রাইভেট গাড়ি এবং বিমান যাতায়াতের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় তার নামে-বেনামে জমি এবং অন্যান্য সম্পদ রয়েছে।

গত ৩০ ডিসেম্বর খন্দকার রউফ ইসলাম দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মোঃ ময়েজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তার সম্পদ অর্জনের উৎস এবং সরকারি দায়িত্বকালীন অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

মোঃ ময়েজ উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের “দশ ভাগ সত্য, নব্বই ভাগ মিথ্যা” এবং কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে তাকে সমাজে হেয় করার চেষ্টা করছে।

রাজশাহী পলিটেকনিক থেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা মোঃ ময়েজ উদ্দিনের দ্রুত সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হলে শুধুমাত্র ব্যক্তির দায় নয়, পুরো ব্যবস্থার জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।