ময়মনসিংহ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে ৩০ কোটি টাকার টেন্ডারে অনিয়ম ও বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সরকারি নিয়ম ভেঙে ৪ বছর যাবত একই দফতরে বহাল তবিয়তে কর্মরত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
জানা যায়, ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে মুক্তাগাছা অফিস থেকে পদোন্নতি পেয়ে জামাল হোসেন সামিউলকে সরিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তারা ৩ বছরের বেশি একই কর্মস্থলে থাকতে না পারলেও নিয়ম ভেঙে ৪ বছর যাবত বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর বিভিন্ন কর্মকর্তার বদলি হলেও তিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন। এমনকি ৫ আগস্টের পর নির্বাহী প্রকৌশলী জামাল হোসেন শেখ মুজিবুরের ছবি টানিয়ে অফিস করেছেন। পরে সাংবাদিকদের তোপের মুখে ছবি খুলে ফেলার ঘটনাও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী জামাল হোসেন নামে মাত্র টেন্ডার আহ্বান করলেও মাঠ পর্যায়ে ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নেন তার পছন্দের ঠিকাদাররা। তিনি মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের নিয়ে ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। গত ২৩ জানুয়ারি জনস্বাস্থ্য নৌ প্রকৌশল অধিদফতর ময়মনসিংহ অফিস থেকে ২১টি প্যাকেজের প্রায় ৩০ কোটি টাকা কাজের ইজিপি টেন্ডার সম্পন্ন হয়। এ টেন্ডারের আগে ও পরে দীর্ঘদিন তিনি অফিস করেননি। এই টেন্ডারেও কমিশন নিয়ে কাজ বিক্রি করেছেন বলে একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করে। তারা বলছেন, ইজিপি সিস্টেমের স্বচ্ছতা থাকলেও কৌশলে রেট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী জামাল হোসেন। কৌশলটির ব্যাখা হিসেবে জানা যায়, টেন্ডারের দরপত্রে যে দাম উল্লেখ থাকে সেটি সঠিক থাকে না, সে নিজস্বভাবে তৈরি করে রাখে যার ১০% নিম্ন দামে বিক্রি করে যার ফলে তার পছন্দের ঠিকাদাররা ব্যাতিত অন্যান্য ঠিকাদাররা টেন্ডারে অংশগ্রহণ করলেও তারা কাজ পায় না। এছাড়াও মানবসম্পদ প্রকল্প, মুজিববর্ষ, আশ্রয়ণ প্রকল্পে ও নলকূপ স্থাপন প্রকল্পে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী জামাল হোসেন। স্থানীয় সাংবাদিকরা এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহে দফতরে তথ্য প্রাপ্তির ‘ক’ ফরমে আবেদন করলেও তিনি তথ্য দিতে বিভিন্ন তালবাহানা করে সাংবাদিকদের ঘুরাতে থাকেন এবং তিনি কোনো দুর্নীতি করেননি বলে জানান।
এছাড়াও আজহারুল ইসলাম মেকানিক্স ফুলপুরের মাঠ কর্মচারী হয়ে গ্রামাঞ্চলে থাকার কথা থাকলেও তিনি থাকেন বিলাসবহুল সরকারি ভবন ময়মনসিংহ বিভাগীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের সাবেক এসডিও অফিসে। সেখানে ৮ থেকে ৯টি কক্ষ রয়েছে। পরিত্যক্ত দেখিয়ে বাসা ভাড়া না দিয়েই বছরের পর বছর সরকারকে ফাঁকি দিচ্ছেন। এর সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী জামাল হোসেন গং জড়িত। এছাড়াও অনেক ঠিকাদাররা কাজ না করেই বিল উত্তোলন করে নেয়ার অভিযোগ প্রায় দেখা যায়। যার সিন্ডিকেট সদস্য জেলার ক্যাশিয়ার। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ময়মনসিংহ জেলার ক্যাশিয়ার সুকান্ত বনিক বাবু নরসিংদীতে নির্বাহী প্রকৌশলী তদবির করে বদলি স্থগিত করেছেন। এছাড়াও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের ভালুুকা উপজেলার মেকানিক্স রাহুল, সদরের সহকারী প্রকৌশলী হারাধন দীর্ঘ ৫ থেকে ৬ বছর ধরে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। ফুলবাড়িয়ার মেকানিক্স রওশনআরা ও মেকানিক্স সাদেক, গৌরীপুরের মেকানিক্স শামসুল হক, নান্দাইলের মেকানিক্স সানাউল্লাহ, কেরানি মোজাম্মেল, মেকানিক্স আব্দুল কুদ্দুস লিটন হালুয়াঘাট স্ব-স্ব উপজেলায় লুটপাটে রাজত্ব কায়েম করেছেন। তারাও একই প্রক্রিয়ায় নির্বাহী প্রকৌশলীর অন্যতম সিন্ডিকেট সদস্য ও লুটপাটের সাথে জড়িত। এছাড়াও ফুলপুর উপজেলার মাঠ পর্যায়ে মেকানিক্স আজহারুল ইসলাম কোটি কোটি টাকার মালিক। দীর্ঘদিন যাবত ঠিকাদারী করছেন নির্বাহী প্রকৌশলী জামাল হোসেনের সাথে আঁতাত করে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
অপরদিকে, গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোষর ও দুর্নীতিবাজ দুই কর্মকর্তা নির্বাহী প্রকৌশলী জামাল হোসেন ও নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ ছামিউল হক মিচুয়াল করে বদলির তদবির করছেন।
স্থানীয় নাগরিকরা বলেছেন, গত ৫ আগস্টের পর এমন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা যদি এখনো বহাল তবিয়তে থাকে তবে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে। তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ করতে চায়। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও নির্বাহী প্রকৌশলী জামাল হোসেনের সাড়া মেলেনি।
সংবাদ শিরোনাম ::
ময়মনসিংহে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ৩০ কোটি টাকার টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগ
-
মোঃ মামুন হোসেন - আপডেট সময় ০২:১৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- ৫২২ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ
























