ঢাকা ০৩:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বান্দরবানে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল

ধসে পড়ার ঝুঁকিতে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কোটি টাকার ভবন

স্বপ্ন ছিল পাহাড়ের প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে এই ভবনটি হবে আধুনিক সেবার কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু স্বপ্ন এখন আতঙ্কে রূপ নিয়েছে। বান্দরবানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জন্য নবনির্মিত এই ভবনের কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ফাটল। সরেজমিনে দেখা গেছে ভবন এর বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিলে ঠিকাদারের লোকজন সেখানে পুটিন দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় রং করে দেন।

মা কনস্ট্রাকশন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার মোঃ ফারুক আহমেদ এর দিক নির্দেশনায় প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই তিনতলা ভবনের পলেস্তারা সামান্য আঘাতেই উঠে আসছে। অভিযোগ উঠেছে, নির্মাণকাজে পর্যাপ্ত সিমেন্ট না দিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের বালু ও ইট। তদারকি সংস্থা আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশেই এই ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ বলে দাবি স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন:
মা কনস্ট্রাকশন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার ফারুক আহমেদ একজন ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা।

আওয়ামী লীগ সরকার আমলে এভাবেই বিভিন্ন অনিয়ম কাজের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে কাজ বাগিয়ে নিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন । এক সময় ছোটখাটো ঠিকাদার থাকলেও এখন কোটিপতি ফারুক নামে সবার কাছে পরিচিত তিনি। তারা আরো বলেন, আমরা দেখিছি কাজ করার সময় খুব একটা ভালো মালামাল দেওয়া হয়নি। যার কারণে ভবন এর নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ না হতেই ফাটল ধরেছে। যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, আমরা খুবই ভয়ে আছি।”

এ বিষয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের (PD) মোঃ এনামুল হক বলেন, এ অনিয়মের অভিযোগ আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না তবে আমি শুনেছি তাই এ অনিয়মের দায়ভার সম্পূর্ণ জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী কর্মকর্তা এড়িয়ে যেতে পারবে না। নিয়মিত তদারকির অভাবে ঠিকাদারি লোকজন এ অনিয়ম কাজের সঙ্গে জড়িয়েছেন বলে আমি মনে করি।

এ বিষয়ে জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কর্মকর্তা মোঃ শাহাজাহান বলেন, এ অনিয়মের কাজের সঙ্গে আমি অবগত আছি এবং এ বিষয়ে আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানিয়েছি। সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেলে অবশ্যই দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাহাড়ি ঢালু জমিতে ভবনের ভিত্তি বা পাইলিং নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। প্রকৌশলীদের মতে, মাটির গুণাগুণ বিচার না করে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার চেষ্টা করায় ভবনটি এখন কাঠামোগতভাবে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদার মোঃ ফারুক আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে আমি কিচ্ছু জানি না। ব্লগ দিয়ে ভবনের কাজ করলে অবশ্যই ফাটল ধরবে এটি তেমন কিছুই না। যদি ফাটল এর ক্ষতচিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে মেরামতের ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জুলহাস আহমেদ জানিয়েছেন, আমরা ও দেখিছি নবনির্মিত ভবনের কাজ পুরোপুরি শেষ না হতেই ভবনে ফাটল ধরেছে। ফাটলের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—জনগণের ট্যাক্সের কোটি টাকার ফাটল ভবনটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করবেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ?

নির্মাণাধীন ভবনে এমন ফাটল কেবল অর্থের অপচয় নয়, বরং জানমালের জন্যও বড় হুমকি। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে এই ভবনটি বড় কোনো দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।“নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল: ধসে পড়ার ঝুঁকিতে বান্দরবান প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কোটি টাকার ভবন”।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বান্দরবানে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল

ধসে পড়ার ঝুঁকিতে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কোটি টাকার ভবন

আপডেট সময় ০৭:২৩:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্বপ্ন ছিল পাহাড়ের প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে এই ভবনটি হবে আধুনিক সেবার কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু স্বপ্ন এখন আতঙ্কে রূপ নিয়েছে। বান্দরবানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জন্য নবনির্মিত এই ভবনের কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ফাটল। সরেজমিনে দেখা গেছে ভবন এর বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিলে ঠিকাদারের লোকজন সেখানে পুটিন দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় রং করে দেন।

মা কনস্ট্রাকশন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার মোঃ ফারুক আহমেদ এর দিক নির্দেশনায় প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই তিনতলা ভবনের পলেস্তারা সামান্য আঘাতেই উঠে আসছে। অভিযোগ উঠেছে, নির্মাণকাজে পর্যাপ্ত সিমেন্ট না দিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের বালু ও ইট। তদারকি সংস্থা আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশেই এই ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ বলে দাবি স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন:
মা কনস্ট্রাকশন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার ফারুক আহমেদ একজন ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা।

আওয়ামী লীগ সরকার আমলে এভাবেই বিভিন্ন অনিয়ম কাজের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে কাজ বাগিয়ে নিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন । এক সময় ছোটখাটো ঠিকাদার থাকলেও এখন কোটিপতি ফারুক নামে সবার কাছে পরিচিত তিনি। তারা আরো বলেন, আমরা দেখিছি কাজ করার সময় খুব একটা ভালো মালামাল দেওয়া হয়নি। যার কারণে ভবন এর নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ না হতেই ফাটল ধরেছে। যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, আমরা খুবই ভয়ে আছি।”

এ বিষয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের (PD) মোঃ এনামুল হক বলেন, এ অনিয়মের অভিযোগ আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না তবে আমি শুনেছি তাই এ অনিয়মের দায়ভার সম্পূর্ণ জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী কর্মকর্তা এড়িয়ে যেতে পারবে না। নিয়মিত তদারকির অভাবে ঠিকাদারি লোকজন এ অনিয়ম কাজের সঙ্গে জড়িয়েছেন বলে আমি মনে করি।

এ বিষয়ে জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কর্মকর্তা মোঃ শাহাজাহান বলেন, এ অনিয়মের কাজের সঙ্গে আমি অবগত আছি এবং এ বিষয়ে আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানিয়েছি। সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেলে অবশ্যই দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাহাড়ি ঢালু জমিতে ভবনের ভিত্তি বা পাইলিং নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। প্রকৌশলীদের মতে, মাটির গুণাগুণ বিচার না করে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার চেষ্টা করায় ভবনটি এখন কাঠামোগতভাবে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদার মোঃ ফারুক আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে আমি কিচ্ছু জানি না। ব্লগ দিয়ে ভবনের কাজ করলে অবশ্যই ফাটল ধরবে এটি তেমন কিছুই না। যদি ফাটল এর ক্ষতচিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে মেরামতের ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জুলহাস আহমেদ জানিয়েছেন, আমরা ও দেখিছি নবনির্মিত ভবনের কাজ পুরোপুরি শেষ না হতেই ভবনে ফাটল ধরেছে। ফাটলের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—জনগণের ট্যাক্সের কোটি টাকার ফাটল ভবনটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করবেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ?

নির্মাণাধীন ভবনে এমন ফাটল কেবল অর্থের অপচয় নয়, বরং জানমালের জন্যও বড় হুমকি। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে এই ভবনটি বড় কোনো দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।“নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল: ধসে পড়ার ঝুঁকিতে বান্দরবান প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কোটি টাকার ভবন”।