ইরান, লেবানন এবং ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের সঙ্গে একই সময়ে বা ‘যুগপৎ’ যুদ্ধের জন্য নিজেদের সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তেল আবিবের এই সমর প্রস্তুতির চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াইল জামির চার বছর মেয়াদি একটি বিশেষ সামরিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এই পরিকল্পনার মূল অংশই হলো তিন ফ্রন্টে যুদ্ধের প্রস্তুতি। এমনকি আধুনিক যুদ্ধের কৌশল হিসেবে স্যাটেলাইটে হামলা চালানো এবং মহাকাশ থেকে ভূপৃষ্ঠের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো বিষয়গুলোও এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তিন ফ্রন্টের মধ্যে ইসরায়েল বর্তমানে ইরানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরানে চলমান মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সৃষ্ট গণবিক্ষোভ থেকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি সরাতে তেহরান ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নিয়ে ইসরায়েল সরকার দাপ্তরিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয়। মোসাদ খোলাখুলিভাবে ইরানের বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানাচ্ছে এবং দাবি করছে, এই বিক্ষোভ সংগঠিত করার পেছনে তাদের হাত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর থেকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীরা ইসলামি শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজতন্ত্র পুনর্বহালের স্লোগান দিচ্ছে। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এমন পরিস্থিতি শাসকগোষ্ঠীকে বেশ বিপাকে ফেলেছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘ইরান সরকার যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সামরিক অভিযান চালাবে। এ জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।’’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
























