সংবাদ শিরোনাম ::
নাফরিজা শ্যামার সিদ্ধান্তে কাজ ছাড়াই ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন ফতুল্লার ওসি মাহবুবের জমি দখলের রাজত্ব চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশ জব্দ, আটক ১ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আলজাজিরার ক্যামেরাম্যানসহ নিহত ৬ বিশ্বকাপের মাঝেই মেসির সতীর্থ কাসেমিরো! বাবার লাশ দাফন নিয়ে সাত সন্তানের আপত্তি, এলাকায় চাঞ্চল্য দেশের পাঁচ জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত কুষ্টিয়ার বাইপাস সড়কে দুর্ঘটনা, নিহত ২ তানোরে ১১ কোটি টাকাা ব্যয়ে রাস্তা সংস্কার মান নিয়ে অসন্তুষ্ট স্থানীয়রা  বিয়ানীবাজার সীমান্তে ০২ কেজি  ভারতীয় গাজা  সহ একজনকে আটক করেছে বিজিবি

ভেনেজুয়েলা থেকে মাদক পাচারের দাবির সত্যতা

যুক্তরাষ্ট্রে বছরে যে পরিমাণ মাদক (কোকেন, ফ্যান্টানিল) ঢোকে, সেটির বড় অংশ যায় প্রশান্ত মহাসাগর হয়ে। এই সাগরপারের দেশগুলোর মধ্যে আছে কলম্বিয়া, পেরু ও বলিভিয়া। তিনটি দেশই কোকেন উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষে অবস্থান করছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনুযায়ী, দেশটিতে কোকেন পাচার করে ভেনেজুয়েলা।

এই অভিযোগকে অন্যতম কারণ উল্লেখ করে গত শনিবার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। পরে তাঁকে মাদক পাচার ও ষড়যন্ত্রের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গতকাল রোববার বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরোকে গ্রেপ্তারের কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ জমা হয়। যেখানে বলা হয়েছে, তিনি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত ও অবৈধ সরকার’ পরিচালনা করছেন। এই সরকার মাদক পাচারের মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে টিকে ছিল এবং এর ফলে কয়েক হাজার টন কোকেন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে।

মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের প্রথম অভিযোগটি আনা হয়েছিল ২০২০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে। গত শনিবার সামনে আসা নতুন অভিযোগে মাদুরোর স্ত্রীর নামও যুক্ত করা হয়েছে। যেটি অত্যন্ত গোপনে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে জমা হয়েছিল বড়দিনের (২৫ ডিসেম্বর) ঠিক আগ মুহূর্তে।

এতে বলা হয়েছে, নিকোলাস মাদুরো বিশ্বের সবচেয়ে সহিংস ও সক্রিয় মাদক পাচারকারী এবং নার্কো-সন্ত্রাসীদের মধ্যে কয়েকটির সঙ্গে যোগসাজশ করে যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার টন কোকেন পাঠানোর সুযোগ করে দেন। সিনালোয়া কার্টেল ও ট্রেন দে আরাগুয়া গ্যাংয়ের মতো শক্তিশালী ও সহিংস মাদক চক্রগুলো সরাসরি ভেনেজুয়েলার সরকারের সঙ্গে কাজ করেছে। মাদুরো প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই চক্রগুলোকে সহায়তা ও সুরক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে লাভের ভাগ পেয়েছে।

বড়দিনের আগে জমা হওয়া অভিযোগটি অনুযায়ী, মাদুরো নিজে এবং পরিবার ও তাঁর শাসকগোষ্ঠীর সদস্যদের স্বার্থে কোকেননির্ভর দুর্নীতি ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের সহায়তার কারণে ২০২০ সাল পর্যন্ত বছরে প্রায় ২৫০ টন কোকেন ভেনেজুয়েলার মধ্য দিয়ে পাচার হয়েছে। এগুলো দ্রুতগতির নৌযান, মাছ ধরার জাহাজ, কনটেইনার জাহাজের মাধ্যমে পাচার হয়েছিল।
মাদুরোকে গ্রেপ্তারের আগে গত অক্টোবরে ক্যারিবিয়ান সাগরে এসব নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। তখন মাদক সরবরাহ পথ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস। সেখানে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটির সঙ্গে বাস্তবের তথ্যের মিল নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) ২০১৯ সালের তথ্যের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস লেখে, ভেনেজুয়েলা উপকূলের ক্যারিবিয়ান সাগর নয়; যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচায় হয় কলম্বিয়া, পেরু ও বলিভিয়া উপকূলের প্রশান্ত মহাসাগর দিয়ে। যেটির পরিমাণ ৭৪ শতাংশ।

কলম্বিয়া ভেনেজুয়েলার নিকটতম প্রতিবেশী। এই দেশের একাংশ ক্যারিবিয়ান উপকূলে পড়েছে। তারা এই সাগরপথে কোকেন পাচার করে ১৬ শতাংশ। তবে ভেনেজুয়েলা থেকে পাচারের নির্দিষ্ট তথ্য নেই। নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, কলম্বিয়া, পেরু ও বলিভিয়া থেকে কোকেনের বড় চালান মেক্সিকোতে যায়। এরপর সেখান থেকে স্থলপথে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকে।

অপরদিকে ফেন্টানিল পাচারে ভেনেজুয়েলা কোনো ভূমিকাই রাখে না। যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, বিচার বিভাগ এবং কংগ্রেসিয়নাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এই মাদকের বড় অংশ তৈরি হয় মেক্সিকোতে। যার রাসায়নিক উপকরণ আসে এশিয়ার দেশগুলো থেকে, বিশেষ করে চীন। ফলে ভেনেজুয়েলা ও নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবের তথ্যের তেমন মিল নেই।

বিগত মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র যখন ক্যারিবিয়ান সাগরে ছোট ছোট নৌকায় হামলা করছিল, তখন দাবি করা হয়েছিল, সেগুলোতে ভেনেজুয়েলা থেকে আসা মাদক আছে। প্রতিটি নৌকায় হামলার পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প সামনে এনেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সেবনে মৃত্যুর প্রসঙ্গ। তিনি প্রায়ই বলেছেন, এসব মাদক মার্কিন নাগরিকদের ধ্বংস ডেকে আনছে।

মাদক সেবনে মার্কিন নাগরিকদের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন ড্রাগ অ্যাবিউজ নামের সরকারি ওয়েবসাইটে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৯ থেকে ২৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন সেবনে মারা গেছে ২৯ হাজার ৪৪৯ জন। আরেকটি সরকারি ওয়েবসাইট সেন্টার ফর ডিজিজেস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তথ্য অনুযায়ী, ফ্যান্টানিল সেবনে ২০২৩ সালে মারা যায় ৭২ হাজার। আর ২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪৭ হাজারের বেশি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাফরিজা শ্যামার সিদ্ধান্তে কাজ ছাড়াই ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন

ভেনেজুয়েলা থেকে মাদক পাচারের দাবির সত্যতা

আপডেট সময় ০১:২৪:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে বছরে যে পরিমাণ মাদক (কোকেন, ফ্যান্টানিল) ঢোকে, সেটির বড় অংশ যায় প্রশান্ত মহাসাগর হয়ে। এই সাগরপারের দেশগুলোর মধ্যে আছে কলম্বিয়া, পেরু ও বলিভিয়া। তিনটি দেশই কোকেন উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষে অবস্থান করছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনুযায়ী, দেশটিতে কোকেন পাচার করে ভেনেজুয়েলা।

এই অভিযোগকে অন্যতম কারণ উল্লেখ করে গত শনিবার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। পরে তাঁকে মাদক পাচার ও ষড়যন্ত্রের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গতকাল রোববার বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরোকে গ্রেপ্তারের কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ জমা হয়। যেখানে বলা হয়েছে, তিনি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত ও অবৈধ সরকার’ পরিচালনা করছেন। এই সরকার মাদক পাচারের মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে টিকে ছিল এবং এর ফলে কয়েক হাজার টন কোকেন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে।

মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের প্রথম অভিযোগটি আনা হয়েছিল ২০২০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে। গত শনিবার সামনে আসা নতুন অভিযোগে মাদুরোর স্ত্রীর নামও যুক্ত করা হয়েছে। যেটি অত্যন্ত গোপনে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে জমা হয়েছিল বড়দিনের (২৫ ডিসেম্বর) ঠিক আগ মুহূর্তে।

এতে বলা হয়েছে, নিকোলাস মাদুরো বিশ্বের সবচেয়ে সহিংস ও সক্রিয় মাদক পাচারকারী এবং নার্কো-সন্ত্রাসীদের মধ্যে কয়েকটির সঙ্গে যোগসাজশ করে যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার টন কোকেন পাঠানোর সুযোগ করে দেন। সিনালোয়া কার্টেল ও ট্রেন দে আরাগুয়া গ্যাংয়ের মতো শক্তিশালী ও সহিংস মাদক চক্রগুলো সরাসরি ভেনেজুয়েলার সরকারের সঙ্গে কাজ করেছে। মাদুরো প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই চক্রগুলোকে সহায়তা ও সুরক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে লাভের ভাগ পেয়েছে।

বড়দিনের আগে জমা হওয়া অভিযোগটি অনুযায়ী, মাদুরো নিজে এবং পরিবার ও তাঁর শাসকগোষ্ঠীর সদস্যদের স্বার্থে কোকেননির্ভর দুর্নীতি ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের সহায়তার কারণে ২০২০ সাল পর্যন্ত বছরে প্রায় ২৫০ টন কোকেন ভেনেজুয়েলার মধ্য দিয়ে পাচার হয়েছে। এগুলো দ্রুতগতির নৌযান, মাছ ধরার জাহাজ, কনটেইনার জাহাজের মাধ্যমে পাচার হয়েছিল।
মাদুরোকে গ্রেপ্তারের আগে গত অক্টোবরে ক্যারিবিয়ান সাগরে এসব নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। তখন মাদক সরবরাহ পথ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস। সেখানে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটির সঙ্গে বাস্তবের তথ্যের মিল নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) ২০১৯ সালের তথ্যের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস লেখে, ভেনেজুয়েলা উপকূলের ক্যারিবিয়ান সাগর নয়; যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচায় হয় কলম্বিয়া, পেরু ও বলিভিয়া উপকূলের প্রশান্ত মহাসাগর দিয়ে। যেটির পরিমাণ ৭৪ শতাংশ।

কলম্বিয়া ভেনেজুয়েলার নিকটতম প্রতিবেশী। এই দেশের একাংশ ক্যারিবিয়ান উপকূলে পড়েছে। তারা এই সাগরপথে কোকেন পাচার করে ১৬ শতাংশ। তবে ভেনেজুয়েলা থেকে পাচারের নির্দিষ্ট তথ্য নেই। নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, কলম্বিয়া, পেরু ও বলিভিয়া থেকে কোকেনের বড় চালান মেক্সিকোতে যায়। এরপর সেখান থেকে স্থলপথে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকে।

অপরদিকে ফেন্টানিল পাচারে ভেনেজুয়েলা কোনো ভূমিকাই রাখে না। যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, বিচার বিভাগ এবং কংগ্রেসিয়নাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এই মাদকের বড় অংশ তৈরি হয় মেক্সিকোতে। যার রাসায়নিক উপকরণ আসে এশিয়ার দেশগুলো থেকে, বিশেষ করে চীন। ফলে ভেনেজুয়েলা ও নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবের তথ্যের তেমন মিল নেই।

বিগত মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র যখন ক্যারিবিয়ান সাগরে ছোট ছোট নৌকায় হামলা করছিল, তখন দাবি করা হয়েছিল, সেগুলোতে ভেনেজুয়েলা থেকে আসা মাদক আছে। প্রতিটি নৌকায় হামলার পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প সামনে এনেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সেবনে মৃত্যুর প্রসঙ্গ। তিনি প্রায়ই বলেছেন, এসব মাদক মার্কিন নাগরিকদের ধ্বংস ডেকে আনছে।

মাদক সেবনে মার্কিন নাগরিকদের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন ড্রাগ অ্যাবিউজ নামের সরকারি ওয়েবসাইটে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৯ থেকে ২৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন সেবনে মারা গেছে ২৯ হাজার ৪৪৯ জন। আরেকটি সরকারি ওয়েবসাইট সেন্টার ফর ডিজিজেস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তথ্য অনুযায়ী, ফ্যান্টানিল সেবনে ২০২৩ সালে মারা যায় ৭২ হাজার। আর ২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪৭ হাজারের বেশি।