মেক্সিকোর দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে ৬ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে আঘাত হানা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের তীব্রতায় কেঁপে ওঠে রাজধানী মেক্সিকো সিটিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে থাকা দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউমকে তড়িঘড়ি করে ব্রিফিং ছেড়ে নিরাপদে সরে যেতে দেখা যায়।
মেক্সিকোর ন্যাশনাল সিসমোলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৫। এর উৎপত্তিস্থল ছিল দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য গুয়েরেরোর সান মার্কোস শহরের কাছে, যা প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় পর্যটন শহর আকাপুলকোর সন্নিকটে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, আকাপুলকোর অদূরে র্যাঞ্চো ভিয়েজো এলাকায় ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই কম্পনের উৎস। মূল ভূমিকম্পের পর ওই অঞ্চলে ৪০০টিরও বেশি আফটারশক বা পরাঘাত অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের সময় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন করছিলেন প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম। হঠাৎ ভূমিকম্পের সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠলে তিনি, উপস্থিত সাংবাদিক ও কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে হলরুম ত্যাগ করেন। তবে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর তিনি পুনরায় ব্রিফিংয়ে ফিরে আসেন।
গুয়েরেরোর গভর্নর এভেলিন সালগাদো নিশ্চিত করেছেন, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছে ভবন ধসে ৫০ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গুয়েরেরোর রাজধানী চিলপানসিঙ্গোর একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রোগীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আকাপুলকোর আশপাশের মহাসড়কগুলোতে ভূমিধসের খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে মেক্সিকো সিটির মেয়র ক্লারা ব্রুগাদা জানান, কম্পনের সময় আতঙ্কিত হয়ে একটি ভবন থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে পড়ে এক বৃদ্ধের (৬০) মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় রাজধানীতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। কম্পন শুরুর পরপরই মেক্সিকো সিটি ও আকাপুলকোর হাজার হাজার মানুষ ভয়ে রাস্তায় নেমে আসেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 























