ঢাকা ০২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাঁদাবাজির মামলায় বিএনপি নেতা আলমগীর মালতিয়া কারাগারে, পরিবারের দাবি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মানুষ আমাকে কোনো পুরুষের সঙ্গে দেখতে চায় না: পরীমণি ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ কর বসানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২৫ দিনেও মেলেনি বিচার, প্রতারণার অভিযোগে হতাশায় ফাতেমা আক্তারের পরিবার নওগাঁর দয়ালের মোড়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এক শিক্ষকের এ দেশে যখনই পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে, তখনই প্রাণ দিতে হয়েছে: মির্জা ফখরুল  আদালতে হাজিরার সুযোগে গংগাচড়ায় বাড়িতে হামলার অভিযোগ, নারীসহ দুজন আহত পবিপ্রবিতে নতুন ৬ তলা একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন করলেন প্রফেসর ড. এস.এম হেমায়েত জাহান কর কমিশনার ফখরুল ইসলামের নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড়ের অভিযোগ

তারকাটা ও ক্যামেরায় ঘেরা বাড়ি স্বাধীনভাবে বাঁচতে রাষ্ট্রের সহায়তা চান মাধবী

সাতক্ষীরা কালীগঞ্জ উপজেলার চাম্পাফুল বাজার এলাকার কালীবাড়ির পাশেই তাঁর বাড়ি। অথচ নিজের সেই বাড়িতেই আজ তিনি কার্যত বন্দি। পাঁচিল ও ধারালো তারকাঁটা দিয়ে ঘিরে পুরো পরিবারটিকে অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। বাইরে যাওয়ার পথ নেই, স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকার নেই—শুধু ভয় আর আতঙ্কে দিন কাটছে পরিবারটির।
এই অবরুদ্ধ করার কাজটি করেছেন একই ইউনিয়নের বারদা গ্রামের সামাদ গাজী। স্থানীয়দের ভাষায়, আইন-কানুনের কোনো তোয়াক্কাই করেন না তিনি। সামাদ গাজীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপকর্মের অভিযোগ থাকলেও তাঁর প্রভাব ও ভয়ভীতির কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস করেন না।
অবরুদ্ধ করার ঘটনাতেই শেষ নয়। মাধবী মণ্ডলের বাড়ির চারপাশে শর্ট সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) বসিয়ে প্রতিনিয়ত তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাড়ির ভেতরের চলাফেরা, পরিবারের সদস্যদের দৈনন্দিন কার্যক্রম—সবকিছু নজরদারির আওতায়। এতে করে পরিবারের প্রাইভেসি চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। নিজের ঘরেও তাঁরা নিরাপদ নন, প্রতিটি মুহূর্তে নজরদারির ভয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাঁরা।
আজ দুপুরে মাধবী মণ্ডলের বাড়িতে গেলে দেখা যায় এক অসহায় নারীর নীরব আর্তনাদ। কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে তাঁর কথা বলতে গিয়ে। চোখে জমে থাকা ক্ষোভ আর অসহায়ত্বের জল নিয়ে তিনি জানান, দখল হয়ে যাওয়া নিজের জমি ফিরে পেতে চান তিনি। একই সঙ্গে এই অমানবিক অবরুদ্ধতা ও নজরদারি থেকে মুক্তি চান।
একজন স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়ে মাধবী মণ্ডল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উপদেষ্টা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,
“আমি কারও ক্ষতি চাই না। শুধু আমার নিজের জমিটুকু, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আর শান্তিতে বেঁচে থাকার অধিকারটা ফিরে চাই।”
একটি স্বাধীন দেশের বুকে দাঁড়িয়ে একজন নারীর এই আবেদন যেন রাষ্ট্র ও সমাজের কাছে নীরব কিন্তু গভীর প্রশ্ন—আইনের সুরক্ষা কি কেবল শক্তিশালীদের জন্যই সীমাবদ্ধ?তারকাটা ও ক্যামেরায় ঘেরা বাড়ি

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদাবাজির মামলায় বিএনপি নেতা আলমগীর মালতিয়া কারাগারে, পরিবারের দাবি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা

তারকাটা ও ক্যামেরায় ঘেরা বাড়ি স্বাধীনভাবে বাঁচতে রাষ্ট্রের সহায়তা চান মাধবী

আপডেট সময় ০৮:০৮:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

সাতক্ষীরা কালীগঞ্জ উপজেলার চাম্পাফুল বাজার এলাকার কালীবাড়ির পাশেই তাঁর বাড়ি। অথচ নিজের সেই বাড়িতেই আজ তিনি কার্যত বন্দি। পাঁচিল ও ধারালো তারকাঁটা দিয়ে ঘিরে পুরো পরিবারটিকে অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। বাইরে যাওয়ার পথ নেই, স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকার নেই—শুধু ভয় আর আতঙ্কে দিন কাটছে পরিবারটির।
এই অবরুদ্ধ করার কাজটি করেছেন একই ইউনিয়নের বারদা গ্রামের সামাদ গাজী। স্থানীয়দের ভাষায়, আইন-কানুনের কোনো তোয়াক্কাই করেন না তিনি। সামাদ গাজীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপকর্মের অভিযোগ থাকলেও তাঁর প্রভাব ও ভয়ভীতির কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস করেন না।
অবরুদ্ধ করার ঘটনাতেই শেষ নয়। মাধবী মণ্ডলের বাড়ির চারপাশে শর্ট সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) বসিয়ে প্রতিনিয়ত তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাড়ির ভেতরের চলাফেরা, পরিবারের সদস্যদের দৈনন্দিন কার্যক্রম—সবকিছু নজরদারির আওতায়। এতে করে পরিবারের প্রাইভেসি চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। নিজের ঘরেও তাঁরা নিরাপদ নন, প্রতিটি মুহূর্তে নজরদারির ভয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাঁরা।
আজ দুপুরে মাধবী মণ্ডলের বাড়িতে গেলে দেখা যায় এক অসহায় নারীর নীরব আর্তনাদ। কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে তাঁর কথা বলতে গিয়ে। চোখে জমে থাকা ক্ষোভ আর অসহায়ত্বের জল নিয়ে তিনি জানান, দখল হয়ে যাওয়া নিজের জমি ফিরে পেতে চান তিনি। একই সঙ্গে এই অমানবিক অবরুদ্ধতা ও নজরদারি থেকে মুক্তি চান।
একজন স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়ে মাধবী মণ্ডল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উপদেষ্টা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,
“আমি কারও ক্ষতি চাই না। শুধু আমার নিজের জমিটুকু, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আর শান্তিতে বেঁচে থাকার অধিকারটা ফিরে চাই।”
একটি স্বাধীন দেশের বুকে দাঁড়িয়ে একজন নারীর এই আবেদন যেন রাষ্ট্র ও সমাজের কাছে নীরব কিন্তু গভীর প্রশ্ন—আইনের সুরক্ষা কি কেবল শক্তিশালীদের জন্যই সীমাবদ্ধ?তারকাটা ও ক্যামেরায় ঘেরা বাড়ি