ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামাতে চায় সরকার : সড়কমন্ত্রী অভিবাসন ব্যবস্থাপনা সুসংহত করতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান শামা ওবায়েদের অনেকে ছাত্র অভ্যুত্থান নিজেদের নামে চালাতে চায়: খন্দকার মোশাররফ আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসনই ডিজি আফসার আলীর মিশন ক্ষমতা বাড়ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ঢাকার আরও ৫০ ট্রাফিক সিগনাল পয়েন্টে বসছে এআই ক্যামেরা ১৮০ দিনে সরকার অদক্ষতার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে : নাহিদ ইসলাম চন্দ্রগঞ্জে বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত ট্রাম্পের পাশে গম্ভীর মেলানিয়া, ভিডিও ঘিরে তোলপাড় এবার এশিয়া কাপের ফাইনালে চোখ বাংলাদেশের

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে এখানে স্বপদে বহাল স্বৈরাচারের দোসর ইয়াহইয়া তানহার

আওয়ামী স্বৈরাচার বিদায় নিলেও রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে স্বৈরাচারের এক লেজুড় মোহাম্মদ ইয়াহইয়া তানহার রয়ে গেছে। যতদিন যাচ্ছে, এই রাঘব বোয়ালের কুকীর্তির চিত্র বেরিয়ে আসছে। মোহাম্মদ ইয়াহইয়া তানহার সরকারি চাকরিজীবী হওয়ার পর নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চারবার বিদেশে সফর করেছেন। তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যে সংশ্লিষ্টতা ছাড়াও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
আওয়ামী মদদপুষ্ট ইয়াহইয়া তানহার বর্তমানে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসারের সমমানের সিস্টেম অ্যানালিস্ট পদে কর্মরত। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মো. জামিনুর রহমান দুর্নীতির দায়ে অপসারিত হলেও অন্যরা স্বপদে বহাল রয়েছেন। বহাল রয়েছে শেখ হাসিনার প্রবর্তিত প্রকল্প ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ থেকে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে রূপান্তর হওয়া সকল কাঠামো। ফলে থেকে যাওয়া ব্যবস্থাপনা কাঠামো এখনো সমানভাবে প্রভাব বিস্তার করে রেখেছে।
তানহারসহ আগের কর্মকর্তাদের অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বললে নেমে আসে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। এ কারণে ব্যাংকের পুরো কর্মপরিবেশ নাজুক হয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই সাবেক এমপি খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও তার এপিএস এএইচএম ফুয়াদের আস্থাভাজন ছিলেন ইয়াহইয়া তানহার। নিজেও প্রেষণে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির নানকের দপ্তরে কাজ করেন।
আর এসবই ছিল তার অপার শক্তির উৎস। ফলে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া আর ব্যাংকের দুর্নীতিবাজ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সব দুর্নীতির বেপরোয়া সহযোগী হয়ে উঠেছিলেন। তানহার পঞ্চম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা হয়েও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের অঘোষিত প্রধান পরিণত হয়েছিলেন। তার ভয়ে সবাই তটস্থ থাকত। ৫ আগস্ট স্বৈরাচারের পতন হলেও এখনো দুর্দান্ত প্রভাবে এই ইয়াহইয়া তানহার।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ইয়াহইয়া তানহার তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেননি। পাশাপাশি ব্যাংকের প্রোগ্রামার হওয়ার কারণে কর্মকর্তাদের অনেক তথ্য তার জানা থাকত। অনেকেই তার কাছে জিম্মি ছিলেন। ফলে বিতর্কিত এই সরকারি কর্মকর্তা সরকারি পাসপোর্ট (ঊ০০১৪১৬৭৪) ব্যবহার করে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে মোট চারবার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। সফর করা দেশগুলো হলো—কানাডা, ভারত, থাইল্যান্ড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর কানাডা, ২০২৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভারত, ২০২৪ সালের ৫ এপ্রিল থাইল্যান্ড এবং একই বছরের ১৩ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই চারটি বিদেশ সফরের কোনোটির ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো সরকারি আদেশ বা পূর্বানুমোদন ছিল না। অথচ একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারি আদেশ ও অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক। ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আস্থাভাজন ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকার কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ব্যাংকটির অফিস সহায়ক নিয়োগে তিনিই অঘোষিত সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছিলেন। এই নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। এই নিয়োগের লেনদেনের অর্থে বিদেশ সফর করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
কাছে থাকা তানহার বিদেশে গমনসংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, যথাযথ নিয়ম মানা হয়নি। এমনকি পরবর্তীতে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষরের সঙ্গে মিল না থাকা সই করা চিঠি, বিদেশ ভ্রমণ শেষে পুনরায় যোগদান না করা, ভ্রমণসংক্রান্ত সব ডকুমেন্টে ব্যবহৃত স্মারক নম্বরের সঙ্গে বাস্তবতার মিল না থাকা—এমন নয়টি অসংগতি রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য চাইতে যোগাযোগ করলে মোহাম্মদ ইয়াহইয়া তানহার কল রিসিভ করেননি। মন্তব্য চেয়ে বার্তা পাঠালেও কোনো জবাব দেননি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমা বানু কল রিসিভ করেননি। পরে তার দপ্তর থেকে জানানো হয়, বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামাতে চায় সরকার : সড়কমন্ত্রী

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে এখানে স্বপদে বহাল স্বৈরাচারের দোসর ইয়াহইয়া তানহার

আপডেট সময় ০৫:৪৮:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

আওয়ামী স্বৈরাচার বিদায় নিলেও রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে স্বৈরাচারের এক লেজুড় মোহাম্মদ ইয়াহইয়া তানহার রয়ে গেছে। যতদিন যাচ্ছে, এই রাঘব বোয়ালের কুকীর্তির চিত্র বেরিয়ে আসছে। মোহাম্মদ ইয়াহইয়া তানহার সরকারি চাকরিজীবী হওয়ার পর নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চারবার বিদেশে সফর করেছেন। তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যে সংশ্লিষ্টতা ছাড়াও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
আওয়ামী মদদপুষ্ট ইয়াহইয়া তানহার বর্তমানে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসারের সমমানের সিস্টেম অ্যানালিস্ট পদে কর্মরত। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মো. জামিনুর রহমান দুর্নীতির দায়ে অপসারিত হলেও অন্যরা স্বপদে বহাল রয়েছেন। বহাল রয়েছে শেখ হাসিনার প্রবর্তিত প্রকল্প ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ থেকে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে রূপান্তর হওয়া সকল কাঠামো। ফলে থেকে যাওয়া ব্যবস্থাপনা কাঠামো এখনো সমানভাবে প্রভাব বিস্তার করে রেখেছে।
তানহারসহ আগের কর্মকর্তাদের অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বললে নেমে আসে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। এ কারণে ব্যাংকের পুরো কর্মপরিবেশ নাজুক হয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই সাবেক এমপি খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও তার এপিএস এএইচএম ফুয়াদের আস্থাভাজন ছিলেন ইয়াহইয়া তানহার। নিজেও প্রেষণে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির নানকের দপ্তরে কাজ করেন।
আর এসবই ছিল তার অপার শক্তির উৎস। ফলে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া আর ব্যাংকের দুর্নীতিবাজ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সব দুর্নীতির বেপরোয়া সহযোগী হয়ে উঠেছিলেন। তানহার পঞ্চম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা হয়েও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের অঘোষিত প্রধান পরিণত হয়েছিলেন। তার ভয়ে সবাই তটস্থ থাকত। ৫ আগস্ট স্বৈরাচারের পতন হলেও এখনো দুর্দান্ত প্রভাবে এই ইয়াহইয়া তানহার।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ইয়াহইয়া তানহার তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেননি। পাশাপাশি ব্যাংকের প্রোগ্রামার হওয়ার কারণে কর্মকর্তাদের অনেক তথ্য তার জানা থাকত। অনেকেই তার কাছে জিম্মি ছিলেন। ফলে বিতর্কিত এই সরকারি কর্মকর্তা সরকারি পাসপোর্ট (ঊ০০১৪১৬৭৪) ব্যবহার করে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে মোট চারবার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। সফর করা দেশগুলো হলো—কানাডা, ভারত, থাইল্যান্ড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর কানাডা, ২০২৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভারত, ২০২৪ সালের ৫ এপ্রিল থাইল্যান্ড এবং একই বছরের ১৩ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই চারটি বিদেশ সফরের কোনোটির ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো সরকারি আদেশ বা পূর্বানুমোদন ছিল না। অথচ একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারি আদেশ ও অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক। ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আস্থাভাজন ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকার কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ব্যাংকটির অফিস সহায়ক নিয়োগে তিনিই অঘোষিত সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছিলেন। এই নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। এই নিয়োগের লেনদেনের অর্থে বিদেশ সফর করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
কাছে থাকা তানহার বিদেশে গমনসংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, যথাযথ নিয়ম মানা হয়নি। এমনকি পরবর্তীতে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষরের সঙ্গে মিল না থাকা সই করা চিঠি, বিদেশ ভ্রমণ শেষে পুনরায় যোগদান না করা, ভ্রমণসংক্রান্ত সব ডকুমেন্টে ব্যবহৃত স্মারক নম্বরের সঙ্গে বাস্তবতার মিল না থাকা—এমন নয়টি অসংগতি রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য চাইতে যোগাযোগ করলে মোহাম্মদ ইয়াহইয়া তানহার কল রিসিভ করেননি। মন্তব্য চেয়ে বার্তা পাঠালেও কোনো জবাব দেননি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমা বানু কল রিসিভ করেননি। পরে তার দপ্তর থেকে জানানো হয়, বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না।