বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মকর্তাদের মধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার এক অদ্ভুত প্রবণতা বা ‘হিড়িক’ দেখা দিয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে কিংবা বিভাগীয় তদন্ত এড়াতে একের পর এক কর্মকর্তা বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হলেন ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশনস (এফএসআর) বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সাঈদ লিয়ন। মাত্র ১০ দিনের ছুটি নিয়ে মালয়েশিয়ায় গিয়ে গত পাঁচ মাসেও তিনি আর দেশে ফেরেননি।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে মালয়েশিয়া যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন আবু সাঈদ। প্রক্রিয়া শেষে তিনি ৪ আগস্ট থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ১০ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি পান। কিন্তু ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আর কর্মস্থলে যোগ দেননি। কোনো প্রকার পূর্ব অনুমতি ছাড়াই তিনি লাপাত্তা হয়ে যান।
বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘‘কোনো কর্মকর্তা বিদেশে গিয়ে ফিরে না এলে তাকে পলাতক হিসেবে গণ্য করা হয়। আবু সাঈদের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চাকরি বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।’’ তিনি আরও জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চাইলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে, তবে পলাতক কর্মকর্তারা দেশে ফিরলে তাদের অবশ্যই মামলার মুখোমুখি হতে হবে।
প্রশাসন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আবু সাঈদের সঙ্গে একাধিকবার ফোন ও ই-মেইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। গত ২০ নভেম্বর তার কাছে ব্যাখ্যা তলব করে চিঠি পাঠানো হয় এবং সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। কিন্তু তিনি কোনো উত্তর দেননি। রেজিস্টার্ড ডাকযোগে পাঠানো চিঠিও ফেরত আসে। ফলে টানা ৬০ দিনের বেশি বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শুধু আবু সাঈদ নন, বেবিচকের অন্তত সাতজন কর্মকর্তা এভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এর মধ্যে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল খালেকের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ কোটি টাকা এবং নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহীদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে যথাক্রমে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদেরও চাকরিচ্যুত করে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তাদের এভাবে পালিয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















