ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চট্টগ্রাম গণপূর্তে প্রকৌশলী মেহেদী ও এনডিইকে ঘিরে ৫০ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ বেনজীরকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রাইস কুকারে রান্না করতে গিয়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমন ১০ দিনের রিমান্ডে ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, যুক্তিতর্ক ৪ আগস্ট ইউপি সদস্য ফিরোজের বিরুদ্ধে, বিচার চেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ ভুক্তভোগীরা ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর কার্যক্রম আগস্টে পরিলক্ষিত হচ্ছে’ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোড়াই কটনমিল পরিদর্শন করলেন শরীফুল আলম বালুর ড্রেজার বসানো নিয়ে বাকবিতন্ডা, স্থানীয়দের হাতে মার খেলেন ববি ছাত্রদলের তিন নেতা কুমিল্লা ও ফেনী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় শাড়ি-মোবাইল ডিসপ্লে জব্দ

আত্মীয়ের জানাজা থেকে ফেরার পথে প্রাণ গেল ৩ ভাইয়ের

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাসচাপায় মোটরসাইকেলে আরোহী তিন ভাই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চলছে শোকের মাতম। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাত ১টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার বরিশাল মহাসড়কের হামিরদী ইউনিয়নের মাধবপুর কবরস্থানের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতেরা হলেন- কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকি ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকার করিম মন্ডলের ছেলে সুমন (২৫) ও রিমন (১৪) এবং শাহিন মোল্লার ছেলে মো. আশিক মোল্লা (২২)। নিহত সুমন ও রিমন আপন ভাই, আশিক তাদের চাচাতো ভাই। তারা সবাই উপজেলার সদকি ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা।

এদিকে নিহতদের মরদেহ এলাকায় পৌঁছালে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। সন্তান হারিয়ে নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
এলাকাবাসী ও স্থানীয়রা জানান, সুমন ও রিমন বোনের শাশুড়ির জানাজা থেকে ফেরার পথে মাধবপুর কবরস্থানের সামনে দুর্ঘটনায় নিহত হন। তাদের সঙ্গে থাকা আশিকও এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। নিহত সুমন ও রিমন পেশায় ফার্নিচার মিস্ত্রী ও আশিক ঢাকায় চাকরির পাশাপাশি উবার চালাতেন।

দুই ছেলেকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ করিম মন্ডল। তিনি বলেন, আমার মেয়ের শাশুড়ি গতকাল মারা গেছে। তার জানাজা শেষে দুই ছেলে বাড়িতে আসছিল। তারা মোটরসাইকেল নিয়ে আসছিল। বড় ছেলেকে সুমনের খোঁজ নেওয়ার জন্য বলি, পরে সে সুমনকে ফোন দিলে পুলিশ ফোন ধরে জানায় এক্সিডেন্টের কথা। বড় ছেলে যেয়ে দেখে আমার দুই ছেলের লাশ হাসপাতালে পড়ে আছে। এখন এ শোক আমি সইবো কি করে।

নিহত আশিক মোল্লার মা শিউলী খাতুন কান্নারত অবস্থায় বলেন, ১৫ দিন আগেই বাড়িতে এসে ছেলে ঘুরে গেছে। ছেলে যে আজকে বাড়িতে আসছিল জানতাম না। রাতে পুলিশ ফোন করে জানায় আশিকের এক্সিডেন্ট হয়েছে। পরে খবর পাই হাসপাতালে নেওয়ার পর আমার ছেলে মারা গেছে। এখন আমি কি নিয়ে বাঁচব? আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমার ছেলেকে হারিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, গতকাল মধ্যরাতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় কুষ্টিয়ার কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের একই এলাকার আপন দুই ভাইসহ তিনজন নিহত হয়েছে। তাদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। খুব কষ্টদায়ক একটি বিষয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম গণপূর্তে প্রকৌশলী মেহেদী ও এনডিইকে ঘিরে ৫০ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ

আত্মীয়ের জানাজা থেকে ফেরার পথে প্রাণ গেল ৩ ভাইয়ের

আপডেট সময় ০৬:০৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাসচাপায় মোটরসাইকেলে আরোহী তিন ভাই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চলছে শোকের মাতম। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাত ১টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার বরিশাল মহাসড়কের হামিরদী ইউনিয়নের মাধবপুর কবরস্থানের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতেরা হলেন- কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকি ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকার করিম মন্ডলের ছেলে সুমন (২৫) ও রিমন (১৪) এবং শাহিন মোল্লার ছেলে মো. আশিক মোল্লা (২২)। নিহত সুমন ও রিমন আপন ভাই, আশিক তাদের চাচাতো ভাই। তারা সবাই উপজেলার সদকি ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা।

এদিকে নিহতদের মরদেহ এলাকায় পৌঁছালে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। সন্তান হারিয়ে নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
এলাকাবাসী ও স্থানীয়রা জানান, সুমন ও রিমন বোনের শাশুড়ির জানাজা থেকে ফেরার পথে মাধবপুর কবরস্থানের সামনে দুর্ঘটনায় নিহত হন। তাদের সঙ্গে থাকা আশিকও এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। নিহত সুমন ও রিমন পেশায় ফার্নিচার মিস্ত্রী ও আশিক ঢাকায় চাকরির পাশাপাশি উবার চালাতেন।

দুই ছেলেকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ করিম মন্ডল। তিনি বলেন, আমার মেয়ের শাশুড়ি গতকাল মারা গেছে। তার জানাজা শেষে দুই ছেলে বাড়িতে আসছিল। তারা মোটরসাইকেল নিয়ে আসছিল। বড় ছেলেকে সুমনের খোঁজ নেওয়ার জন্য বলি, পরে সে সুমনকে ফোন দিলে পুলিশ ফোন ধরে জানায় এক্সিডেন্টের কথা। বড় ছেলে যেয়ে দেখে আমার দুই ছেলের লাশ হাসপাতালে পড়ে আছে। এখন এ শোক আমি সইবো কি করে।

নিহত আশিক মোল্লার মা শিউলী খাতুন কান্নারত অবস্থায় বলেন, ১৫ দিন আগেই বাড়িতে এসে ছেলে ঘুরে গেছে। ছেলে যে আজকে বাড়িতে আসছিল জানতাম না। রাতে পুলিশ ফোন করে জানায় আশিকের এক্সিডেন্ট হয়েছে। পরে খবর পাই হাসপাতালে নেওয়ার পর আমার ছেলে মারা গেছে। এখন আমি কি নিয়ে বাঁচব? আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমার ছেলেকে হারিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, গতকাল মধ্যরাতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় কুষ্টিয়ার কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের একই এলাকার আপন দুই ভাইসহ তিনজন নিহত হয়েছে। তাদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। খুব কষ্টদায়ক একটি বিষয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।