ঢাকা ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোলায় চাঁদা না পেয়ে মহিষের বাতানে লুটপাট করলেন বিএনপি নেতা রবু দালাল

  • ভোলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৩:৫১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৭৯৬ বার পড়া হয়েছে

ভোলার তজুমদ্দিনে দাবীকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে মো. রফু ব্যাপারী (৫৫) নামের এক কৃষককের মহিষের বাতানে (মহিষ পালনের খামার) হামলা ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপির একাধিক নেতার বিরুদ্ধে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মলংচড়া ইউনিয়নের সিকদার চর এলাকায়। ভুক্তভোগী কৃষক রফু ব্যপারী বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসান নগর ইউনিয়নের বাসিন্দা। ঘটনার পর তিনি বাদী হয়ে ভোলা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৭ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয় ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসান নগর ইউনিয়ন বিএনপি সহ-সভাপতি আঃ রব ওরফে রবু হাওলাদারসহ কয়েকজন বিএনপি নেতা কৃষক রফু ব্যাপরীর থেকে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কৃষক রফু ব্যপারীকে মেরে ফেলার হুমকি দেন অভিযুক্তরা। পরে তাদের ভয়ে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দেন ওই কৃষক।

কিন্তু পুরো চাঁদার টাকা না পেয়ে গেল ৮ আগষ্ট সকালে পূনরায় বিএনপি নেতা রবু হাওলাদারের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল ট্রলার যোগে ভুক্তভোগী কৃষক রফু ব্যপারীর মহিষের খামারে গিয়ে বাকী ৮ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন। পরে চাঁদার টাকা না পেয়ে কৃষক রফু ব্যপারীকে মারধরসহ মহিষের বাথানে লুটপাট করেন অভিযুক্তরা। এসময় তারা প্রায় ২ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করেন। এছাড়াও শ্রমিকের জন্য রাখা ৯০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান তারা।

ভুক্তভোগী রফু ব্যপারী জানান, “অনেক কষ্ট করে মহিষ পালন করছি। হঠাৎ এসে তারা চাঁদা দাবি করে। আমি দিতে না চাইলে খামারের জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় এবং আমাকে মারধর করেন। এখন আমি পরিবার-পরিজন নিয়ে আতঙ্কে আছি।”

তিনি আরও জানান, রবু দালাল ওরফে রবু হাওলাদারের নেতৃত্বে
আজম খান চৌধুরী, বাবর চৌধুরী, আজাদ ভূইয়া
সাঈদ হাওলাদার, গোলাম মাওলা হাওলাদার,
রানা হাওলাদার, ও মোকসেদ উল্লাহসহ ৩০ থেকে ৩৫ জনের দল তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির নেতৃত্বে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছে। কিন্তু ভয়ে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

এঘটনায় উপজেলা বিএনপির শ্রমিকদলের এক নেতার একটি ফোন কলে শোনা যায়, হাসান নগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাবর চৌধুরীসহ ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল সেখানে গিয়েছেন। ওই ফোন কলে তিনি হামলার কথা স্বীকার করে লুটপাটের কথা বলতে শোনা যায়।

অভিযোগ রয়েছে ভোলা – ২ আসনের (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিমের নাম ভাঙিয়ে হাসান নগর ইউনিয়নের বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের বেশ কিছু নেতাকর্মী দীর্ঘদিন ধরে শিকদার চরে চাঁদাবাজি করে আসছেন। চর থেকে মহিষ অনেক সময় জোয়ারের পানিতে ভেসে চলে আসে, এই মহিষগুলো মালিকরা নিতে আসলে, ইউনিয়ন নেতাদের টাকা দিতে হয়, এমন অভিযোগ রয়েছে একাধিক। যদিও উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে অন্যায় ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর হুশিয়ারী রয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা বলেন, জমিতে ধান চাষ নিয়ে বিরোধ মিমাংসের সময় বিছিন্ন একটা ঘটনা ঘটে। চাঁদাদাবী বিষয়টি মিথ্যা। রাজনৈতিক ভাবে তাদের হেয় পতিপন্ন করতে মিথ্যা মামলা ও হয়রানিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

তবে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এমন ঘটনা অব্যাহত থাকলে এলাকার খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোলায় চাঁদা না পেয়ে মহিষের বাতানে লুটপাট করলেন বিএনপি নেতা রবু দালাল

আপডেট সময় ০৩:৫১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

ভোলার তজুমদ্দিনে দাবীকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে মো. রফু ব্যাপারী (৫৫) নামের এক কৃষককের মহিষের বাতানে (মহিষ পালনের খামার) হামলা ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপির একাধিক নেতার বিরুদ্ধে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মলংচড়া ইউনিয়নের সিকদার চর এলাকায়। ভুক্তভোগী কৃষক রফু ব্যপারী বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসান নগর ইউনিয়নের বাসিন্দা। ঘটনার পর তিনি বাদী হয়ে ভোলা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৭ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয় ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসান নগর ইউনিয়ন বিএনপি সহ-সভাপতি আঃ রব ওরফে রবু হাওলাদারসহ কয়েকজন বিএনপি নেতা কৃষক রফু ব্যাপরীর থেকে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কৃষক রফু ব্যপারীকে মেরে ফেলার হুমকি দেন অভিযুক্তরা। পরে তাদের ভয়ে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দেন ওই কৃষক।

কিন্তু পুরো চাঁদার টাকা না পেয়ে গেল ৮ আগষ্ট সকালে পূনরায় বিএনপি নেতা রবু হাওলাদারের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল ট্রলার যোগে ভুক্তভোগী কৃষক রফু ব্যপারীর মহিষের খামারে গিয়ে বাকী ৮ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন। পরে চাঁদার টাকা না পেয়ে কৃষক রফু ব্যপারীকে মারধরসহ মহিষের বাথানে লুটপাট করেন অভিযুক্তরা। এসময় তারা প্রায় ২ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করেন। এছাড়াও শ্রমিকের জন্য রাখা ৯০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান তারা।

ভুক্তভোগী রফু ব্যপারী জানান, “অনেক কষ্ট করে মহিষ পালন করছি। হঠাৎ এসে তারা চাঁদা দাবি করে। আমি দিতে না চাইলে খামারের জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় এবং আমাকে মারধর করেন। এখন আমি পরিবার-পরিজন নিয়ে আতঙ্কে আছি।”

তিনি আরও জানান, রবু দালাল ওরফে রবু হাওলাদারের নেতৃত্বে
আজম খান চৌধুরী, বাবর চৌধুরী, আজাদ ভূইয়া
সাঈদ হাওলাদার, গোলাম মাওলা হাওলাদার,
রানা হাওলাদার, ও মোকসেদ উল্লাহসহ ৩০ থেকে ৩৫ জনের দল তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির নেতৃত্বে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছে। কিন্তু ভয়ে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

এঘটনায় উপজেলা বিএনপির শ্রমিকদলের এক নেতার একটি ফোন কলে শোনা যায়, হাসান নগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাবর চৌধুরীসহ ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল সেখানে গিয়েছেন। ওই ফোন কলে তিনি হামলার কথা স্বীকার করে লুটপাটের কথা বলতে শোনা যায়।

অভিযোগ রয়েছে ভোলা – ২ আসনের (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিমের নাম ভাঙিয়ে হাসান নগর ইউনিয়নের বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের বেশ কিছু নেতাকর্মী দীর্ঘদিন ধরে শিকদার চরে চাঁদাবাজি করে আসছেন। চর থেকে মহিষ অনেক সময় জোয়ারের পানিতে ভেসে চলে আসে, এই মহিষগুলো মালিকরা নিতে আসলে, ইউনিয়ন নেতাদের টাকা দিতে হয়, এমন অভিযোগ রয়েছে একাধিক। যদিও উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে অন্যায় ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর হুশিয়ারী রয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা বলেন, জমিতে ধান চাষ নিয়ে বিরোধ মিমাংসের সময় বিছিন্ন একটা ঘটনা ঘটে। চাঁদাদাবী বিষয়টি মিথ্যা। রাজনৈতিক ভাবে তাদের হেয় পতিপন্ন করতে মিথ্যা মামলা ও হয়রানিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

তবে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এমন ঘটনা অব্যাহত থাকলে এলাকার খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।