ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৪৭ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসছে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ লালমনিরহাটে আবাসিক হোটেলের আড়ালে ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসকসহ ৩ কর্মকর্তাকে বিদায় সংবর্ধনা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ​ব্রাহ্মণপাড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা বিএনপি বিভিন্ন সংকট কাটিয়ে দেশকে স্থিতিশীল অবস্থায় এনেছে: চিফ হুইপ ভারতে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জয়চন্দ্র সরকার, ত্রিভুজ প্রেমের বলি? চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩১০টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ, গ্রেপ্তার ১ খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

বিদ্যুতের ছোবলে থমকে দাড়াল মিরাজের জীবন, সাহায্যে আবেদন

  • রিয়াজ ফরাজি (ভোলা)
  • আপডেট সময় ১১:২১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৭০২ বার পড়া হয়েছে

ছবি- আহত মিরাজ ও তার স্ত্রী

ভোলার বোরহানউদ্দিনের বিয়ে বাড়ির গেইট সাজাতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে গুরুতর আহত হন মিরাজ ইসলাম (২৫) নামের এক টগবগে যুবক। বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে তার দুটি হাত ও বুকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে কেটে ফেলা হয়েছে তার একটি হাত। অপর হাতটি থাকলেও তা দিয়ে স্পর্শ করতে পারছেন না কোন কিছু। দুই হাত হাড়িয়ে পঙ্গু হয়ে মানবতার জীবনযাপন করছেন তিনি।

আহত মিরাজ টবগী ইউনিয়নের মুলাইপত্তন গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি ডেকোরেটরে কাজ করতেন এবং তিনি সদ্য বিবাহিত ছিলেন। তার স্ত্রী’র নাম সুমাইয়া বেগম।

জানা গেছে, গেল বছরের ৭ জুলাই বিকেলে ওই ইউনিয়নের লেবুকাটা নামক এলাকায় বিয়ে বাড়ির গেইট সাজাতে গিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টেজের তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হন মিরাজ। মূহুর্তেই লুটিয়ে পড়েন মাটিতে। এরপর স্থানীয়দের সহযোগীতায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়। বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে মিরাজের বুক ও দুই হাত মারাত্মক ভাবে পুড়ে যাওয়ায় পূনরায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘ ৪ মাস চিকিৎসার পর মিরাজের একটি হাত কেটে ফেলা হয়। অপরহাতটিও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেন মিরাজ। এছাড়াও ভেঙে গেছে বুকের হাড়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাতের অঙ্গহানি আর বুকের ক্ষতের কারণে মিরাজ আর কখনোই স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারবেন না। এছাড়াও যথাযথ চিকিৎসা না করাতে পারলে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হবে তার শরীল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দো-চালা একটি টিনের ঘরে বসবাস করছেন মিরাজ ও তার স্ত্রী সুমাইয়া বেগম। বিয়ের এক বছরের মাথায় দূর্ঘটনার কবলে পরে এখনো ছেলে সন্তান নেননি তারা। যে ঘরটিতে তারা বসবাস করেন, তার ভিটেমাটি অন্যোর বলে জানিয়েছেন মিরাজ। দূর্ঘটনার আগে ডেকোরেটরের কাজ করে স্ত্রী ও মাকে নিয়ে সুখেই ছিলেন তিনি। কিন্তু এখন কাজ করতে না পাড়ায় না খেয়েও থাকতে হচ্ছে তাদের। স্থানীয়দের সহযোগীতায় কোন রকম খেয়ে পড়ে বেঁচে আছেন।

আহত মিরাজ জানান, ” দূর্ঘটনার পর এলাকাবাসীর সাহায্য সহযোগিতায় চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু, এখন তার সংসার ও চিকিৎসা চালানোর মত কোন উপায় নেই। অস্বাভাবিক জীবন যাপন আর যন্ত্রণা নিয়ে দিন পার করছেন তিনি। দু মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য দেশবাসীর সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন তিনি।

মিরাজের স্ত্রী সুমাইয়া জানান, “বিয়ের ৮ মাসের মাথায় মিরাজের এমন দূর্ঘটনায় তাদের পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। বিয়ের পর সুখের সংসার হলেও এখন না খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে তাকে। স্বামীর চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে ঘুরছেন মানুষের দারে দারে।”

মিরাজের মা জানান, “২০ বছর আগে স্বামী হারানোর শোক কাটিয়ে যখন সন্তানরা তার মুখে হাসি ফোটাবে ঠিক তখনই পরিবারের নেমে আসে শোকের ছায়া। সংসারের বাকী সদস্যদের ভরনপোষণে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন মিরাজ। এখন তারই জীবন বাঁচানো এবং চিকিৎসা ব্যয় বহন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই হাত জোড় করে দেশবাসীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানান তিনি।

এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রায়হান উজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ মিরাজ আবেদন করলে তাকে সাহায্য করা হবে।

অসুস্থ হয়েও কর্ম করে সংসার চালাতে চান মিরাজ।
তাই দু মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য সরকারি বেসরকারিভাবে অথবা সমাজের বিত্তবানদের নিকট আর্থিক সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন মিরাজের পরিবার। একটি দোকানঘর নির্মান করে দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন মিরাজের স্বজন ও এলাকাবাসী।

তাই সমাজের বিত্তবান ও উদার মনের মানুষরা
মিরাজের সঙ্গে কথা বলতে বা তাকে সাহায্য করতে যোগাযোগ করুন- ০১৩১৩১৩৪৮০৫ ( নগদ ও বিকাশ) এই নম্বরে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৪৭

বিদ্যুতের ছোবলে থমকে দাড়াল মিরাজের জীবন, সাহায্যে আবেদন

আপডেট সময় ১১:২১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ছবি- আহত মিরাজ ও তার স্ত্রী

ভোলার বোরহানউদ্দিনের বিয়ে বাড়ির গেইট সাজাতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে গুরুতর আহত হন মিরাজ ইসলাম (২৫) নামের এক টগবগে যুবক। বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে তার দুটি হাত ও বুকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে কেটে ফেলা হয়েছে তার একটি হাত। অপর হাতটি থাকলেও তা দিয়ে স্পর্শ করতে পারছেন না কোন কিছু। দুই হাত হাড়িয়ে পঙ্গু হয়ে মানবতার জীবনযাপন করছেন তিনি।

আহত মিরাজ টবগী ইউনিয়নের মুলাইপত্তন গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি ডেকোরেটরে কাজ করতেন এবং তিনি সদ্য বিবাহিত ছিলেন। তার স্ত্রী’র নাম সুমাইয়া বেগম।

জানা গেছে, গেল বছরের ৭ জুলাই বিকেলে ওই ইউনিয়নের লেবুকাটা নামক এলাকায় বিয়ে বাড়ির গেইট সাজাতে গিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টেজের তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হন মিরাজ। মূহুর্তেই লুটিয়ে পড়েন মাটিতে। এরপর স্থানীয়দের সহযোগীতায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়। বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে মিরাজের বুক ও দুই হাত মারাত্মক ভাবে পুড়ে যাওয়ায় পূনরায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘ ৪ মাস চিকিৎসার পর মিরাজের একটি হাত কেটে ফেলা হয়। অপরহাতটিও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেন মিরাজ। এছাড়াও ভেঙে গেছে বুকের হাড়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাতের অঙ্গহানি আর বুকের ক্ষতের কারণে মিরাজ আর কখনোই স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারবেন না। এছাড়াও যথাযথ চিকিৎসা না করাতে পারলে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হবে তার শরীল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দো-চালা একটি টিনের ঘরে বসবাস করছেন মিরাজ ও তার স্ত্রী সুমাইয়া বেগম। বিয়ের এক বছরের মাথায় দূর্ঘটনার কবলে পরে এখনো ছেলে সন্তান নেননি তারা। যে ঘরটিতে তারা বসবাস করেন, তার ভিটেমাটি অন্যোর বলে জানিয়েছেন মিরাজ। দূর্ঘটনার আগে ডেকোরেটরের কাজ করে স্ত্রী ও মাকে নিয়ে সুখেই ছিলেন তিনি। কিন্তু এখন কাজ করতে না পাড়ায় না খেয়েও থাকতে হচ্ছে তাদের। স্থানীয়দের সহযোগীতায় কোন রকম খেয়ে পড়ে বেঁচে আছেন।

আহত মিরাজ জানান, ” দূর্ঘটনার পর এলাকাবাসীর সাহায্য সহযোগিতায় চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু, এখন তার সংসার ও চিকিৎসা চালানোর মত কোন উপায় নেই। অস্বাভাবিক জীবন যাপন আর যন্ত্রণা নিয়ে দিন পার করছেন তিনি। দু মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য দেশবাসীর সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন তিনি।

মিরাজের স্ত্রী সুমাইয়া জানান, “বিয়ের ৮ মাসের মাথায় মিরাজের এমন দূর্ঘটনায় তাদের পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। বিয়ের পর সুখের সংসার হলেও এখন না খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে তাকে। স্বামীর চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে ঘুরছেন মানুষের দারে দারে।”

মিরাজের মা জানান, “২০ বছর আগে স্বামী হারানোর শোক কাটিয়ে যখন সন্তানরা তার মুখে হাসি ফোটাবে ঠিক তখনই পরিবারের নেমে আসে শোকের ছায়া। সংসারের বাকী সদস্যদের ভরনপোষণে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন মিরাজ। এখন তারই জীবন বাঁচানো এবং চিকিৎসা ব্যয় বহন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই হাত জোড় করে দেশবাসীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানান তিনি।

এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রায়হান উজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ মিরাজ আবেদন করলে তাকে সাহায্য করা হবে।

অসুস্থ হয়েও কর্ম করে সংসার চালাতে চান মিরাজ।
তাই দু মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য সরকারি বেসরকারিভাবে অথবা সমাজের বিত্তবানদের নিকট আর্থিক সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন মিরাজের পরিবার। একটি দোকানঘর নির্মান করে দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন মিরাজের স্বজন ও এলাকাবাসী।

তাই সমাজের বিত্তবান ও উদার মনের মানুষরা
মিরাজের সঙ্গে কথা বলতে বা তাকে সাহায্য করতে যোগাযোগ করুন- ০১৩১৩১৩৪৮০৫ ( নগদ ও বিকাশ) এই নম্বরে।