ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৪৭ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসছে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ লালমনিরহাটে আবাসিক হোটেলের আড়ালে ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসকসহ ৩ কর্মকর্তাকে বিদায় সংবর্ধনা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ​ব্রাহ্মণপাড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা বিএনপি বিভিন্ন সংকট কাটিয়ে দেশকে স্থিতিশীল অবস্থায় এনেছে: চিফ হুইপ ভারতে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জয়চন্দ্র সরকার, ত্রিভুজ প্রেমের বলি? চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩১০টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ, গ্রেপ্তার ১ খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

বরগুনার পাথরঘাটায় ট্রলারসহ ১০ লাখ টাকার মাছ লুট — জেলেদের ওপর হামলা

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকায় একটি মাছ ধরার ট্রলারসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ লুট করেছে সশস্ত্র একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় জেলেদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে মারধর করা হয়। ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে চরদুয়ানী পল্টন মৎস্যবাজারের পাশের খালে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন পাথরঘাটা থানার উপ পরিদর্শক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন। ক্ষতিগ্রস্ত ট্রলারের মালিক মাহাবুব হাওলাদার (৬০), পিতা আব্দুস ছালাম হাওলাদার, ছোট মাচুয়া, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর — পাথরঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর মালিকানাধীন এফবি খানজাহান নামের ট্রলারটি ৯-১০ দিন আগে মাছ ধরতে যায়।

মাছ ধরা শেষে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ নিয়ে ট্রলারটি সোমবার দুপুরে চরদুয়ানী খালে পৌঁছালে স্থানীয় জাকির বিশ্বাসের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্র — রামদা, দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ট্রলারে উঠে হামলা চালায়। ট্রলারে থাকা জেলেদের এলোপাতাড়ি পেটানো হয়। কেউ কেউ নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রাণে বাঁচে, আবার কয়েকজন জেলেকে জিম্মি করে ট্রলারসহ দক্ষিণ চরদুয়ানী বলেশ্বর নদী দিয়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। ট্রলারের জাল, দড়ি, অন্যান্য মালপত্র এবং মাছও নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে জেলেরা ট্রলার মালিক মাহাবুবকে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত জানতে পারেন। কিন্তু চেষ্টা করেও এখনো ট্রলারটি উদ্ধার সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে পাথরঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন অভিযোগের পরে পাথরঘাটা থানা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে তালার কে উদ্ধার করা হয় কিন্তু সেখানে মাত্র তিন হাজার মাছ পাওয়া যায় উদ্ধার করে চরদুয়ানী বাজার টল সেটে বিক্রি করা হয়।

টলারটি স্থানীয় গ্রাম পুলিশ প্রধান করে গণ্যমান্য ৫ ব্যক্তির জিম্মায় রাখা হয়। অভিযোগে নাম উল্লেখ করা হয়েছে — মো. জাকির বিশ্বাস (৫৫), পিতা আ. মন্নান বিশ্বাস, মাতা মোসা. সালেহা বেগম, দক্ষিণ চরদুয়ানী, পাথরঘাটা, বরগুনা —সহ আরও অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন মো. ইকবাল, মো. আছাদুল, মো. সাব্বির, মো. জাকির, মো. নাজমুল, মো. মনির ও মো. আল-আমিন আকনসহ আরও কয়েকজন তারা জানেন এমন ঘটনায় আমরা হতবাক হয়েছি এলাকার জেলেদের আতঙ্কে দিন অতিবাহিত করছেন।

এদিকে অভিযুক্ত জাকির বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই ট্রলার আমার ছিল। ১৭ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি এখনো কিছু টাকা বাকি রয়েছে যার কারনে আমার ট্রলার আমি নিয়ে এসেছি। পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। ট্রলার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, এ ধরনের সশস্ত্র লুটের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে গেছে। এতে উপকূলের জেলেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান। চরদুয়ানী মৎস্য ঘাট এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৪৭

বরগুনার পাথরঘাটায় ট্রলারসহ ১০ লাখ টাকার মাছ লুট — জেলেদের ওপর হামলা

আপডেট সময় ১১:০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকায় একটি মাছ ধরার ট্রলারসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ লুট করেছে সশস্ত্র একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় জেলেদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে মারধর করা হয়। ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে চরদুয়ানী পল্টন মৎস্যবাজারের পাশের খালে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন পাথরঘাটা থানার উপ পরিদর্শক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন। ক্ষতিগ্রস্ত ট্রলারের মালিক মাহাবুব হাওলাদার (৬০), পিতা আব্দুস ছালাম হাওলাদার, ছোট মাচুয়া, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর — পাথরঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর মালিকানাধীন এফবি খানজাহান নামের ট্রলারটি ৯-১০ দিন আগে মাছ ধরতে যায়।

মাছ ধরা শেষে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ নিয়ে ট্রলারটি সোমবার দুপুরে চরদুয়ানী খালে পৌঁছালে স্থানীয় জাকির বিশ্বাসের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্র — রামদা, দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ট্রলারে উঠে হামলা চালায়। ট্রলারে থাকা জেলেদের এলোপাতাড়ি পেটানো হয়। কেউ কেউ নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রাণে বাঁচে, আবার কয়েকজন জেলেকে জিম্মি করে ট্রলারসহ দক্ষিণ চরদুয়ানী বলেশ্বর নদী দিয়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। ট্রলারের জাল, দড়ি, অন্যান্য মালপত্র এবং মাছও নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে জেলেরা ট্রলার মালিক মাহাবুবকে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত জানতে পারেন। কিন্তু চেষ্টা করেও এখনো ট্রলারটি উদ্ধার সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে পাথরঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন অভিযোগের পরে পাথরঘাটা থানা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে তালার কে উদ্ধার করা হয় কিন্তু সেখানে মাত্র তিন হাজার মাছ পাওয়া যায় উদ্ধার করে চরদুয়ানী বাজার টল সেটে বিক্রি করা হয়।

টলারটি স্থানীয় গ্রাম পুলিশ প্রধান করে গণ্যমান্য ৫ ব্যক্তির জিম্মায় রাখা হয়। অভিযোগে নাম উল্লেখ করা হয়েছে — মো. জাকির বিশ্বাস (৫৫), পিতা আ. মন্নান বিশ্বাস, মাতা মোসা. সালেহা বেগম, দক্ষিণ চরদুয়ানী, পাথরঘাটা, বরগুনা —সহ আরও অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন মো. ইকবাল, মো. আছাদুল, মো. সাব্বির, মো. জাকির, মো. নাজমুল, মো. মনির ও মো. আল-আমিন আকনসহ আরও কয়েকজন তারা জানেন এমন ঘটনায় আমরা হতবাক হয়েছি এলাকার জেলেদের আতঙ্কে দিন অতিবাহিত করছেন।

এদিকে অভিযুক্ত জাকির বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই ট্রলার আমার ছিল। ১৭ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি এখনো কিছু টাকা বাকি রয়েছে যার কারনে আমার ট্রলার আমি নিয়ে এসেছি। পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। ট্রলার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, এ ধরনের সশস্ত্র লুটের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে গেছে। এতে উপকূলের জেলেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান। চরদুয়ানী মৎস্য ঘাট এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।