ঢাকা ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর একাত্তরে ভুল করা দলকে উসকানির রাজনীতি বন্ধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর কুষ্টিয়ায় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর, জামায়াত-গণঅধিকারের সংঘর্ষ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপকের মরদেহ উদ্ধার আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৪৭ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসছে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ লালমনিরহাটে আবাসিক হোটেলের আড়ালে ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসকসহ ৩ কর্মকর্তাকে বিদায় সংবর্ধনা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ​ব্রাহ্মণপাড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

সোনারগাঁয়ে ৬৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় ৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকরাই প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে শিক্ষার মান ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোনারগাঁয়ে মোট ১১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৬৩টি বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক শূন্য। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এতে পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

পরমেশ্বরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোর্শেদা আক্তার বলেন, ‘আমাকে মাসে অন্তত ১০ দিন উপজেলায় দাপ্তরিক কাজে যেতে হয়। তখন বিদ্যালয়ে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।’

আমগাঁ বরগাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুসলিমা আক্তার বলেন, ‘আমাকে প্রতি মাসের ৩ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত উপজেলায় থাকতে হয়। ফলে নিয়মিত ক্লাস নিতে পারি না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।’

লাধুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহ আলম বলেন, ‘আমাকে মাসের ৩ থেকে ৯ দিন উপজেলায় দাপ্তরিক কাজে যেতে হয়। এতে শিক্ষার মান দুর্বল হয়ে পড়ছে।’

টেকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সালেহা আক্তার জানান, ‘তিন বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। বর্তমানে মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় চালাতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।’

পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষক সংকটে সঠিকভাবে পড়াশোনা হচ্ছে না। একজন শিক্ষককে একই সময়ে একাধিক ক্লাস নিতে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বা পদোন্নতি জাতীয় ইস্যু। কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগ বা পদোন্নতি না হলে স্থানীয়ভাবে পদ পূরণ সম্ভব নয়। নানা জটিলতার কারণে পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সমস্যাটি আরও প্রকট হয়েছে।’

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর

সোনারগাঁয়ে ৬৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

আপডেট সময় ১১:৫৮:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় ৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকরাই প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে শিক্ষার মান ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোনারগাঁয়ে মোট ১১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৬৩টি বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক শূন্য। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এতে পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

পরমেশ্বরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোর্শেদা আক্তার বলেন, ‘আমাকে মাসে অন্তত ১০ দিন উপজেলায় দাপ্তরিক কাজে যেতে হয়। তখন বিদ্যালয়ে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।’

আমগাঁ বরগাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুসলিমা আক্তার বলেন, ‘আমাকে প্রতি মাসের ৩ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত উপজেলায় থাকতে হয়। ফলে নিয়মিত ক্লাস নিতে পারি না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।’

লাধুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহ আলম বলেন, ‘আমাকে মাসের ৩ থেকে ৯ দিন উপজেলায় দাপ্তরিক কাজে যেতে হয়। এতে শিক্ষার মান দুর্বল হয়ে পড়ছে।’

টেকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সালেহা আক্তার জানান, ‘তিন বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। বর্তমানে মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় চালাতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।’

পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষক সংকটে সঠিকভাবে পড়াশোনা হচ্ছে না। একজন শিক্ষককে একই সময়ে একাধিক ক্লাস নিতে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বা পদোন্নতি জাতীয় ইস্যু। কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগ বা পদোন্নতি না হলে স্থানীয়ভাবে পদ পূরণ সম্ভব নয়। নানা জটিলতার কারণে পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সমস্যাটি আরও প্রকট হয়েছে।’