ঢাকা ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর একাত্তরে ভুল করা দলকে উসকানির রাজনীতি বন্ধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর কুষ্টিয়ায় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর, জামায়াত-গণঅধিকারের সংঘর্ষ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপকের মরদেহ উদ্ধার আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৪৭ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসছে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ লালমনিরহাটে আবাসিক হোটেলের আড়ালে ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসকসহ ৩ কর্মকর্তাকে বিদায় সংবর্ধনা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ​ব্রাহ্মণপাড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

বোরহানউদ্দিনে ছেলেকে বাঁচাতে মায়ের নদীতে ঝাঁপ, ঘটনার রহস্য ঘনীভূত

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় তেতুলিয়া নদীতে প্রতিবন্ধী ছেলেকে বাঁচাতে ঝাঁপ দেওয়ার পর থেকে মা জেসমিন বেগম (৩৮) নিখোঁজ রয়েছেন। এমন দাবি করে গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা তেতুলিয়া নদীতে তল্লাশি চালিয়েও তার লাশ উদ্ধার করতে পারেনি।

প্রথমদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “মা সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন” শিরোনামে সংবাদ সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হলেও, ঘটনার পেছনে উঠে আসছে নানা প্রশ্ন ও রহস্য।
জেসমিনের পরিবার জানান, নিখোঁজ জেসমিন বেগমের স্বামী জসিম প্রায়ই স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় সালিশও হয়েছে। পরবর্তীতে জসিম ঢাকায় আরেকটি বিয়ে করে বসবাস শুরু করেন। এদিকে জেসমিন তার দুই প্রতিবন্ধী সন্তান তানজিল (১৭) ও তিশা (১৪)কে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। অভিযোগ রয়েছে, শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। প্রতিবেশীদের দাবি, ছেলে তানজিলকে প্রায়ই শিকলে বেঁধে রাখা হতো। প্রশ্ন উঠছে ঘটনার দিন প্রতিবন্ধী তানজিলকে শিকল থেকে মুক্ত করলো কে?
স্থানীয় জয়নাল আবদীন জানান, নদীতে পড়ে যাওয়া তানজিলকে তিনি উদ্ধার করেছেন, তবে ঘটনাস্থলে জেসমিনকে দেখেননি। স্থানীয় অনেকে বলছে নদীতে ডুবে মারা গেলে ২৪ ঘন্টার ভিতরে লাশ ভেসে উঠার কথা কিন্তু তিন দিনেও লাশ না পাওয়ায় এলাকাজুড়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।

নিখোঁজ জেসমিনের পরিবার দাবি করছে, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা। জেসমিন সাঁতার জানার পর কিভাবে পানিতে তলিয়ে যায়? বরং তার প্রতিবন্ধী ছেলে সাঁতার জানে না কিন্তু সে বেঁচে যায়। এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা।
তাদের দাবি, নিখোঁজ জেসমিনের স্বামী জসিমের পরিবার তাকে হত্যা করে গুম করেছে এবং পুরো ঘটনাটিকে আড়াল করতে প্রতিবন্ধী ছেলে তানজিলকে নদী থেকে উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে দিয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

ওই ঘটনায় নিখোঁজ জেসমিনের স্বামী জসিম জানান, সে ঢাকায় ছিল তার ছোট ভাই তাকে ফোনে জানিয়েছে তার স্ত্রী তানজিল নদীতে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে পানির নিচে তলিয়ে গেছে, তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে, বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ঘটনা জানার পর থেকে নৌ পুলিশ নদীতে নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারের অভিযান চালাচ্ছে। গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিয়ে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন করা হবে।

ঘটনাটি এখন পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হলে রহস্যের জট খুলবে এবং পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর

বোরহানউদ্দিনে ছেলেকে বাঁচাতে মায়ের নদীতে ঝাঁপ, ঘটনার রহস্য ঘনীভূত

আপডেট সময় ০৯:১৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় তেতুলিয়া নদীতে প্রতিবন্ধী ছেলেকে বাঁচাতে ঝাঁপ দেওয়ার পর থেকে মা জেসমিন বেগম (৩৮) নিখোঁজ রয়েছেন। এমন দাবি করে গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা তেতুলিয়া নদীতে তল্লাশি চালিয়েও তার লাশ উদ্ধার করতে পারেনি।

প্রথমদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “মা সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন” শিরোনামে সংবাদ সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হলেও, ঘটনার পেছনে উঠে আসছে নানা প্রশ্ন ও রহস্য।
জেসমিনের পরিবার জানান, নিখোঁজ জেসমিন বেগমের স্বামী জসিম প্রায়ই স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় সালিশও হয়েছে। পরবর্তীতে জসিম ঢাকায় আরেকটি বিয়ে করে বসবাস শুরু করেন। এদিকে জেসমিন তার দুই প্রতিবন্ধী সন্তান তানজিল (১৭) ও তিশা (১৪)কে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। অভিযোগ রয়েছে, শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। প্রতিবেশীদের দাবি, ছেলে তানজিলকে প্রায়ই শিকলে বেঁধে রাখা হতো। প্রশ্ন উঠছে ঘটনার দিন প্রতিবন্ধী তানজিলকে শিকল থেকে মুক্ত করলো কে?
স্থানীয় জয়নাল আবদীন জানান, নদীতে পড়ে যাওয়া তানজিলকে তিনি উদ্ধার করেছেন, তবে ঘটনাস্থলে জেসমিনকে দেখেননি। স্থানীয় অনেকে বলছে নদীতে ডুবে মারা গেলে ২৪ ঘন্টার ভিতরে লাশ ভেসে উঠার কথা কিন্তু তিন দিনেও লাশ না পাওয়ায় এলাকাজুড়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।

নিখোঁজ জেসমিনের পরিবার দাবি করছে, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা। জেসমিন সাঁতার জানার পর কিভাবে পানিতে তলিয়ে যায়? বরং তার প্রতিবন্ধী ছেলে সাঁতার জানে না কিন্তু সে বেঁচে যায়। এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা।
তাদের দাবি, নিখোঁজ জেসমিনের স্বামী জসিমের পরিবার তাকে হত্যা করে গুম করেছে এবং পুরো ঘটনাটিকে আড়াল করতে প্রতিবন্ধী ছেলে তানজিলকে নদী থেকে উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে দিয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

ওই ঘটনায় নিখোঁজ জেসমিনের স্বামী জসিম জানান, সে ঢাকায় ছিল তার ছোট ভাই তাকে ফোনে জানিয়েছে তার স্ত্রী তানজিল নদীতে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে পানির নিচে তলিয়ে গেছে, তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে, বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ঘটনা জানার পর থেকে নৌ পুলিশ নদীতে নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারের অভিযান চালাচ্ছে। গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিয়ে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন করা হবে।

ঘটনাটি এখন পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হলে রহস্যের জট খুলবে এবং পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।