চন্দ্রগঞ্জে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: নিরাপত্তাহীনতার ছায়া ঘনাচ্ছে জনপদে৷ রাত গভীর। চারপাশে নীরবতা। হঠাৎই সেই নীরবতা ভেদ করে শুরু হয় আতঙ্কের নাটক। দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ে একদল মুখোশধারী দুর্ধর্ষ ডাকাত। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে জিম্মি করে ফেলে পুরো পরিবারকে। অস্ত্রের মুখে দাঁড় করিয়ে লুটে নেয় স্বর্ণালংকার আর নগদ টাকা।
এমনই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেলেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী। গত রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে তার বাড়িতে সংঘটিত হয় এই দুর্ধর্ষ ডাকাতি। প্রায় ১৫/১৬ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ২ লাখ টাকা ও মুল্যবান কাগজপত্র নিয়ে পালায় ডাকাতরা।
আতঙ্কে মানুষ, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকা
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই চারপাশে নেমে আসে আতঙ্কের ছায়া। এলাকার সাধারণ মানুষ বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে চন্দ্রগঞ্জে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বেড়েই চলেছে। অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা কার্যত নেই বললেই চলে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এলাকায় রাতের বেলা চলাফেরা করা এখন ভয়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ যদি নিয়মিত টহল দিত, তাহলে এমন ঘটনা ঘটতো না।”
আরেকজন বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রভাবশালী মানুষের বাড়িতে যখন ডাকাতি হয়, তখন সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে- তা সহজেই অনুমান করা যায়।
আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ
চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকায় শুধু আবুল কাশেম চৌধুরীর বাড়িই নয়, এর আগেও একাধিক বাড়িতে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশের টহল কার্যক্রম নেই বললেই চলে। ফলে সাহসী হয়ে উঠছে অপরাধীরা।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার মূল ভরসা স্থানীয় পুলিশি টহল। কিন্তু তা যখন অনিয়মিত হয়, তখনই বেড়ে যায় অপরাধপ্রবণতা। চন্দ্রগঞ্জও তার ব্যতিক্রম নয়।
প্রত্যাশা- কার্যকর পদক্ষেপ
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই ডাকাতচক্রকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত পুলিশি টহল, সিসি ক্যামেরার ব্যবহার এবং স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
মানুষ এখন শুধু প্রশ্ন করছে- আমাদের নিরাপত্তা কোথায়
হুমায়ুন কবির নিজস্ব প্রতিবেদক 




















