ঢাকা ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর একাত্তরে ভুল করা দলকে উসকানির রাজনীতি বন্ধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর কুষ্টিয়ায় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর, জামায়াত-গণঅধিকারের সংঘর্ষ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপকের মরদেহ উদ্ধার আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৪৭ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসছে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ লালমনিরহাটে আবাসিক হোটেলের আড়ালে ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসকসহ ৩ কর্মকর্তাকে বিদায় সংবর্ধনা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ​ব্রাহ্মণপাড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

হাত না থাকায় জসিমের জুটছে না এনআইডি কার্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তামলা ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামের হানিফ মাতুব্বরের ছেলে জসিম মাতুব্বর (২৬)। তার হাত নেই। পা দিয়ে লিখেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে জসিম এখন ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। আরও সামনে এগিয়ে যেতে চান তিনি। তবে তার চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জন্ম থেকেই জসিমের দুটি হাত নেই, পা দিয়েই চলছে লেখাপড়া ও দৈনন্দিন কাজকর্ম। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি করছেন ব্যবসা। কখনো ফলের ব্যবসা আবার কখনো কাঁচামালের ব্যবসা।

জসিম মাতুব্বর ২০১৬ সালে একটি ভ্যানগাড়ি এবং ২০২২ সালে ৬০ হাজার পুরস্কার পান তৎকালীন জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে। যা জসিমের জীবন চলার পথকে আরও বেগবান করে তোলে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তিনি।
বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নিজের জন্মনিবন্ধন থাকলেও দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য। কিন্তু হাত না থাকায় আঙুলের ছাপ দিতে পারছেন না জসিম।

ভুক্তভোগী জসিম মাতুব্বর অভিযোগ করে বলেন,‌ ‘আমার দুটি হাত নেই, পা দিয়ে লিখে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেছি। এখন আমি সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। অনেক সময় কলেজের কাজসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কাজে বা সেবা পেতে জাতীয় পরিচয়পত্রের দরকার হয়। জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য নির্বাচন কমিশন অফিসে অনেকবার আবেদন করেছি। কিন্তু হাত নেই বলে আঙুলের ছাপ দিতে পারছি না। এই কারণে নাকি জাতীয় পরিচয়পত্র হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০২৩ সাল থেকে নির্বাচন অফিসে ঘুরছি কিন্তু কোনো কাজই হয়নি। তারা আমাকে অনলাইনে আবেদন করতে বলেছিলেন। একাধিকবার আবেদনও জমা দিয়েছি কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। এখন আর যাই না, হাল ছেড়ে দিয়েছি।’

জানতে চাইলে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাওন সাগর বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। যেহেতু ছেলেটির শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আছে, কাজেই তার এনআইডি কার্ডটি করে দিতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’

এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। জসিম মাতুব্বর আমার কাছে এলে সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে কাজটি করে দেওয়া হবে।’

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর

হাত না থাকায় জসিমের জুটছে না এনআইডি কার্ড

আপডেট সময় ০৭:৩১:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তামলা ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামের হানিফ মাতুব্বরের ছেলে জসিম মাতুব্বর (২৬)। তার হাত নেই। পা দিয়ে লিখেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে জসিম এখন ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। আরও সামনে এগিয়ে যেতে চান তিনি। তবে তার চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জন্ম থেকেই জসিমের দুটি হাত নেই, পা দিয়েই চলছে লেখাপড়া ও দৈনন্দিন কাজকর্ম। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি করছেন ব্যবসা। কখনো ফলের ব্যবসা আবার কখনো কাঁচামালের ব্যবসা।

জসিম মাতুব্বর ২০১৬ সালে একটি ভ্যানগাড়ি এবং ২০২২ সালে ৬০ হাজার পুরস্কার পান তৎকালীন জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে। যা জসিমের জীবন চলার পথকে আরও বেগবান করে তোলে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তিনি।
বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নিজের জন্মনিবন্ধন থাকলেও দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য। কিন্তু হাত না থাকায় আঙুলের ছাপ দিতে পারছেন না জসিম।

ভুক্তভোগী জসিম মাতুব্বর অভিযোগ করে বলেন,‌ ‘আমার দুটি হাত নেই, পা দিয়ে লিখে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেছি। এখন আমি সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। অনেক সময় কলেজের কাজসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কাজে বা সেবা পেতে জাতীয় পরিচয়পত্রের দরকার হয়। জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য নির্বাচন কমিশন অফিসে অনেকবার আবেদন করেছি। কিন্তু হাত নেই বলে আঙুলের ছাপ দিতে পারছি না। এই কারণে নাকি জাতীয় পরিচয়পত্র হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০২৩ সাল থেকে নির্বাচন অফিসে ঘুরছি কিন্তু কোনো কাজই হয়নি। তারা আমাকে অনলাইনে আবেদন করতে বলেছিলেন। একাধিকবার আবেদনও জমা দিয়েছি কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। এখন আর যাই না, হাল ছেড়ে দিয়েছি।’

জানতে চাইলে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাওন সাগর বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। যেহেতু ছেলেটির শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আছে, কাজেই তার এনআইডি কার্ডটি করে দিতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’

এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। জসিম মাতুব্বর আমার কাছে এলে সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে কাজটি করে দেওয়া হবে।’