ঢাকা ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর একাত্তরে ভুল করা দলকে উসকানির রাজনীতি বন্ধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর কুষ্টিয়ায় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর, জামায়াত-গণঅধিকারের সংঘর্ষ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপকের মরদেহ উদ্ধার আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৪৭ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসছে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ লালমনিরহাটে আবাসিক হোটেলের আড়ালে ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসকসহ ৩ কর্মকর্তাকে বিদায় সংবর্ধনা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ​ব্রাহ্মণপাড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

রাজধানীতে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী হত্যা, স্বামীসহ গ্রেফতার ২

রাজধানীর তুরাগ এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী বিথী আক্তার ওরফে বিলকিসকে (৩৫) হত্যার অভিযোগে স্বামীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের ডিসি মো. মুহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

ডিসি মো. মুহিদুল ইসলাম জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিথী আক্তার নিখোঁজ হন। তার মা মনোয়ারা বেগম এ বিষয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে তুরাগ থানাধীন রাজউকের ১৭ নম্বর সেক্টরের খেলার মাঠে কাশবনের মধ্যে একটি অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। মনোয়ারা বেগম সেখানে গিয়ে তার মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। এই ঘটনার পর তার অভিযোগের ভিত্তিতে তুরাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

তিনি বলেন, মামলার পর তুরাগ থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে পল্লবী থানা পুলিশের সহায়তায় মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে বিথীর স্বামী বাবুলকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকেলে মিরপুর-১২ কালাপানি এলাকা থেকে সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। ডিসি মো. মুহিদুল ইসলাম জানান, নিহত বিথী আক্তার এবং তার স্বামী বাবুল প্রায় ছয় বছর ধরে দাম্পত্য কলহে ভুগছিলেন। এর পেছনে প্রধান কারণ ছিল ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার সুদের ঋণ। বাবুল ক্যান্টনমেন্টের ৭০৩ সেন্ট্রাল ওয়ার্কশপে চাকরি করে মাসে প্রায় ৩১ হাজার টাকা বেতন পান, যার বেশিরভাগই সুদের টাকা দিতে খরচ হয়ে যেত। এই নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রায়ই ঝগড়া হতো।

জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল জানিয়েছেন, সুদের পাওনাদারদের কারণে তার স্ত্রী ঠিকমতো ঘুমাতে বা খেতে পারতেন না এবং এ নিয়ে প্রায়ই বকাঝকা করতেন। এছাড়া, স্ত্রীর বিরুদ্ধে তার ভাই বা অন্য কাউকে টাকা দেওয়ার সন্দেহও ছিল, যা তাদের কলহকে আরও চরম পর্যায়ে নিয়ে যায়। বাবুল আরও স্বীকার করেন যে, গত দুই-তিন মাস আগে তিনি তার স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং সম্রাটসহ আরও দুজনের সহায়তায় হত্যাকাণ্ডটি ঘটান।

হত্যাকাণ্ডের পর সম্রাটকে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বাবুল, যদিও তিনি জানান তার স্বল্প বেতনের কারণে সেই টাকা কিস্তিতে পরিশোধের কথা বলেছিলেন। এই দম্পতি কেন বাসার বাইরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানা যায়নি।
ডিসি জানান, নিহত বিথী আক্তার কিছুটা মাদকাসক্ত ছিলেন বলে তার মায়ের কাছ থেকে জানা গেছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর

রাজধানীতে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী হত্যা, স্বামীসহ গ্রেফতার ২

আপডেট সময় ০৩:১৩:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রাজধানীর তুরাগ এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী বিথী আক্তার ওরফে বিলকিসকে (৩৫) হত্যার অভিযোগে স্বামীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের ডিসি মো. মুহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

ডিসি মো. মুহিদুল ইসলাম জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিথী আক্তার নিখোঁজ হন। তার মা মনোয়ারা বেগম এ বিষয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে তুরাগ থানাধীন রাজউকের ১৭ নম্বর সেক্টরের খেলার মাঠে কাশবনের মধ্যে একটি অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। মনোয়ারা বেগম সেখানে গিয়ে তার মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। এই ঘটনার পর তার অভিযোগের ভিত্তিতে তুরাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

তিনি বলেন, মামলার পর তুরাগ থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে পল্লবী থানা পুলিশের সহায়তায় মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে বিথীর স্বামী বাবুলকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকেলে মিরপুর-১২ কালাপানি এলাকা থেকে সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। ডিসি মো. মুহিদুল ইসলাম জানান, নিহত বিথী আক্তার এবং তার স্বামী বাবুল প্রায় ছয় বছর ধরে দাম্পত্য কলহে ভুগছিলেন। এর পেছনে প্রধান কারণ ছিল ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার সুদের ঋণ। বাবুল ক্যান্টনমেন্টের ৭০৩ সেন্ট্রাল ওয়ার্কশপে চাকরি করে মাসে প্রায় ৩১ হাজার টাকা বেতন পান, যার বেশিরভাগই সুদের টাকা দিতে খরচ হয়ে যেত। এই নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রায়ই ঝগড়া হতো।

জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল জানিয়েছেন, সুদের পাওনাদারদের কারণে তার স্ত্রী ঠিকমতো ঘুমাতে বা খেতে পারতেন না এবং এ নিয়ে প্রায়ই বকাঝকা করতেন। এছাড়া, স্ত্রীর বিরুদ্ধে তার ভাই বা অন্য কাউকে টাকা দেওয়ার সন্দেহও ছিল, যা তাদের কলহকে আরও চরম পর্যায়ে নিয়ে যায়। বাবুল আরও স্বীকার করেন যে, গত দুই-তিন মাস আগে তিনি তার স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং সম্রাটসহ আরও দুজনের সহায়তায় হত্যাকাণ্ডটি ঘটান।

হত্যাকাণ্ডের পর সম্রাটকে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বাবুল, যদিও তিনি জানান তার স্বল্প বেতনের কারণে সেই টাকা কিস্তিতে পরিশোধের কথা বলেছিলেন। এই দম্পতি কেন বাসার বাইরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানা যায়নি।
ডিসি জানান, নিহত বিথী আক্তার কিছুটা মাদকাসক্ত ছিলেন বলে তার মায়ের কাছ থেকে জানা গেছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।