ঢাকা ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর একাত্তরে ভুল করা দলকে উসকানির রাজনীতি বন্ধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর কুষ্টিয়ায় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর, জামায়াত-গণঅধিকারের সংঘর্ষ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপকের মরদেহ উদ্ধার আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৪৭ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসছে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ লালমনিরহাটে আবাসিক হোটেলের আড়ালে ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসকসহ ৩ কর্মকর্তাকে বিদায় সংবর্ধনা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ​ব্রাহ্মণপাড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

খুলনার বাস্তুহারা কলোনিতে উচ্ছেদ অভিযান, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৩০

  • খুলনা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০২:১১:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৬১০ বার পড়া হয়েছে

খুলনার মুজগুন্নির বাস্তুহারা কলোনিতে উচ্ছেদ অভিযানকালে পুলিশের সঙ্গে বাসিন্দাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘর্ষে পুলিশ ও বাসিন্দাদের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

জানা গেছে, বাস্তুহারা কলোনির একটি অংশ প্লট মালিকদের জায়গা বুঝিয়ে দিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। শুরু থেকেই টায়ার ও কাঠে আগুন জ্বালিয়ে, গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে রাখেন বাসিন্দারা। সকাল ১০টার পর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় স্থানীয়রা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ পিছু হটতে বাধ্য হয়। এসময় পুলিশ টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। উচ্ছেদ অভিযানে যাওয়া বুলডোজার দিয়ে গাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের দাবি, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করলে তারা উচ্ছেদ করতে দিবে না। পুলিশ বলছে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে আপাতত উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত রয়েছে। এ ঘটনায় খালিশপুর থানার ওসিসহ ১৪ পুলিশ আহত হয়েছে।

খুলনার মুজগুন্নির বাস্তুহারার ২ একর জায়গায় বাস করছেন প্রায় ২০০ পরিবার। তবে ১৯৮৭ সালে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ পাশের এই জায়গাটি লটারির মাধ্যমে প্লট আকারে বিক্রি করেন। ৩৫ বছর পার হলেও এখনও জায়গা বুঝে পাননি সেখানকার ৪২ প্লট মালিক।

এদিকে বাস্তুহারা কলোনিতে বসবাসকারীরা অভিযোগ করে বলেন, এখানে ৩৩ একর জায়গা। মাঝখানে হাউজিং অফিস কিভাবে প্লট বানিয়ে মালিকদের কাছে বিক্রি করছে। এখানে বসবাসকারীরা রয়েছে, অথচ ৪২টি প্লট বানিয়ে কিভাবে বিক্রি করে।

তারা বলেন, রোহিঙ্গা যদি এদেশে এসে বসবাস করতে পারে কেন আমরা পারব না। আমরা লিখিত দাবি জানিয়েছিলাম আমাদের অন্য কোথাও জমি দিতে হবে। ওখানে আমরা নিজরাই চলে যাব, যার যার মালামাল নিজেরাই ভেঙে নেব। লিখিতভাবে যাতে পরবর্তীতে কেউ এসে চলে যেতে না বলে।

কলোনির বসবাসকারীরা আরও বলেন, গত বছর ডিসেম্বরে জানানো হয়েছিল বাস্তুহারা কলোনি একটা সেক্টর উচ্ছেদ করা হবে। এ ঘটনা নিয়ে আমরা ডিসি অফিসে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি, স্থগিত আছে। এরপর ৮-৯ মাস পর শনিবার সন্ধ্যা পর মাইকিং করে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। আমরা এখানে দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে থাকি। যেখানে উচ্ছেদ করা হবে সেখানে ১৭০ পরিবারে আড়াই হাজার লোক আছে। সকালে ৪টি বুলডোজার নিয়ে আসে। আমরা বলেছি আমাদের কিছু আসবাবপত্র রয়েছে। আর জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মিটিং আছে। মিটিংয়ে আমাদের যদি চলে যেতে বলে, যাব। কিন্ত তা না শুনে হঠাৎ করে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। মুরব্বি, শিশু, নারী সবাইকে আঘাত করেছে। এসময় ৬০-৭০ জন আহত হয়েছে। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খালিশপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীরা তাহার আলী বলেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আমরা উচ্ছেদ কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য ছিলাম। তবে তারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। এ সময় সরাতে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। তাদের হামলায় আমিসহ ১৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর

খুলনার বাস্তুহারা কলোনিতে উচ্ছেদ অভিযান, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৩০

আপডেট সময় ০২:১১:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

খুলনার মুজগুন্নির বাস্তুহারা কলোনিতে উচ্ছেদ অভিযানকালে পুলিশের সঙ্গে বাসিন্দাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘর্ষে পুলিশ ও বাসিন্দাদের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

জানা গেছে, বাস্তুহারা কলোনির একটি অংশ প্লট মালিকদের জায়গা বুঝিয়ে দিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। শুরু থেকেই টায়ার ও কাঠে আগুন জ্বালিয়ে, গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে রাখেন বাসিন্দারা। সকাল ১০টার পর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় স্থানীয়রা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ পিছু হটতে বাধ্য হয়। এসময় পুলিশ টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। উচ্ছেদ অভিযানে যাওয়া বুলডোজার দিয়ে গাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের দাবি, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করলে তারা উচ্ছেদ করতে দিবে না। পুলিশ বলছে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে আপাতত উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত রয়েছে। এ ঘটনায় খালিশপুর থানার ওসিসহ ১৪ পুলিশ আহত হয়েছে।

খুলনার মুজগুন্নির বাস্তুহারার ২ একর জায়গায় বাস করছেন প্রায় ২০০ পরিবার। তবে ১৯৮৭ সালে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ পাশের এই জায়গাটি লটারির মাধ্যমে প্লট আকারে বিক্রি করেন। ৩৫ বছর পার হলেও এখনও জায়গা বুঝে পাননি সেখানকার ৪২ প্লট মালিক।

এদিকে বাস্তুহারা কলোনিতে বসবাসকারীরা অভিযোগ করে বলেন, এখানে ৩৩ একর জায়গা। মাঝখানে হাউজিং অফিস কিভাবে প্লট বানিয়ে মালিকদের কাছে বিক্রি করছে। এখানে বসবাসকারীরা রয়েছে, অথচ ৪২টি প্লট বানিয়ে কিভাবে বিক্রি করে।

তারা বলেন, রোহিঙ্গা যদি এদেশে এসে বসবাস করতে পারে কেন আমরা পারব না। আমরা লিখিত দাবি জানিয়েছিলাম আমাদের অন্য কোথাও জমি দিতে হবে। ওখানে আমরা নিজরাই চলে যাব, যার যার মালামাল নিজেরাই ভেঙে নেব। লিখিতভাবে যাতে পরবর্তীতে কেউ এসে চলে যেতে না বলে।

কলোনির বসবাসকারীরা আরও বলেন, গত বছর ডিসেম্বরে জানানো হয়েছিল বাস্তুহারা কলোনি একটা সেক্টর উচ্ছেদ করা হবে। এ ঘটনা নিয়ে আমরা ডিসি অফিসে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি, স্থগিত আছে। এরপর ৮-৯ মাস পর শনিবার সন্ধ্যা পর মাইকিং করে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। আমরা এখানে দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে থাকি। যেখানে উচ্ছেদ করা হবে সেখানে ১৭০ পরিবারে আড়াই হাজার লোক আছে। সকালে ৪টি বুলডোজার নিয়ে আসে। আমরা বলেছি আমাদের কিছু আসবাবপত্র রয়েছে। আর জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মিটিং আছে। মিটিংয়ে আমাদের যদি চলে যেতে বলে, যাব। কিন্ত তা না শুনে হঠাৎ করে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। মুরব্বি, শিশু, নারী সবাইকে আঘাত করেছে। এসময় ৬০-৭০ জন আহত হয়েছে। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খালিশপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীরা তাহার আলী বলেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আমরা উচ্ছেদ কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য ছিলাম। তবে তারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। এ সময় সরাতে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। তাদের হামলায় আমিসহ ১৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।