সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে দুর্ভোগের অপর নাম ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আঞ্চলিক রোড মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই-সখীপুর রোড। ভাঙাচোরা ও খানাখন্দক রাস্তায় জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে এ রোডে চলাচলকারী যাত্রীদের। জন গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। গোড়াই হাটুভাঙ্গা থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত ৫ কি. মি. রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় প্রতিনিয়তই সড়ক দুর্ঘটনা।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, গোড়াই-সখীপুর রাস্তাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে। ৮০-র দশকে গোড়াই থেকে সখীপুর পর্যন্ত ২৭ কি. মি. রাস্তাটি অত্যন্ত সরু ও অপ্রশস্তভাবে নির্মাণ করা হয়। রাস্তার দুই পাশে পাহাড়, বন জঙ্গল ও আকা বাঁকা এবং বাঁকে বাঁকে ঝুঁকির মধ্যেও সখীপুর, বাসাইল, ঘাটাইল, মধুপুর, কালিয়াকৈর, ভালুকা, ত্রিশাল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ গাজীপুর ও ঢাকা জেলার শতশত যানবাহন চলাচল করে আসছে।
২০২০ সালের দিকে বিপুল অংকের টাকা ব্যয়ে রাস্তাটির কিছু কিছু অংশ সংস্কার করা হয়। নিম্নমানের কাজ হওয়ায় অল্প দিনের মধ্যেই রাস্তার উপর থেকে কার্পেটিং ও ঢালাই উঠে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দক সৃষ্টি হয়। একটু বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গত কয়েক কয়েক বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটির বেহাল অবস্থা হয়ে পরেছে।
বাঁশতৈল খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফাইজুল ইসলাম তারা এবং বাঁশতৈল মো. মনশুর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলী হোসেন এবং উত্তর পেকুয়া জাগরণী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মুহাম্মদ আনিছুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, গোড়াই-সখীপুর রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি দিন শতশত যানবাহন ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী চলাচল করে আসছে। ভাঙাচোরা ও খানা-খন্দক রাস্তায় চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
গোড়াই, সৈয়দপুর, মেঘনা গ্রুপ, হাটুভাঙ্গা, বেলতৈল, নয়াপাড়া, বাঁশতৈল, কাইতলা, পেকুয়া, তালতলা. তক্তারচালা, আমেরচারা, নলুয়া, দেওদিঘী, ও সখীপুরসহ বিভিন্ন অংশে রাস্তার উপর থেকে ঢালাই উঠে বড় বড় খানাখন্দক ও গর্ত সৃষ্টি হয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পরেছে। একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সরু ও অপ্রশস্ত আকা বাঁকা রাস্তা দুই পাশে পাহাড়ি গজারির বন জঙ্গল এবং নেই কোনো ফুটপাত। ফুটপাত বিহীন এই রাস্তা দিয়ে শতশত যানবাহন অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। রাস্তাটি দ্রুত উন্নয়নের জন্য তারা জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতুর আঞ্চলিক সংযোগ রোড গোড়াই-সখীপুর রোড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতি বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন অংশে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সখীপুর পর্যন্ত রাস্তা উন্নয়নের জন্য প্রকল্প তৈরি ও বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে রাস্তার উন্নয়ন করা হবে।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি 




















