ঢাকার সাভারে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন তিন সাংবাদিক। স্থানীয় প্রভাবশালী গেস্ট হাউজ মালিকপক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় সাংবাদিকরা গুরুতর জখম হওয়ার পাশাপাশি লুট হয়ে যায় তাদের ক্যামেরা, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাভার মডেল থানাধীন হেমায়েতপুর এলাকার “আকাশ ছোয়া গেস্ট হাউস” ও “রাজমহল গেস্ট হাউস”-এর ভেতরে। হামলার শিকার হন দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি-এর স্টাফ রিপোর্টার মো. রিমন, দৈনিক গণ মানুষের বাংলাদেশ-এর স্টাফ রিপোর্টার হাসান এবং দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি-এর রিপোর্টার হৃদয় হোসাইন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. রিমন জানান, তিনি সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উক্ত গেস্ট হাউজ এলাকায় প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে মালিকপক্ষ ও তাদের সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র হাতে নিয়ে তার ওপর অতর্কিতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
“আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই আসামি আল-আমিন ওরফে বাদল হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে। মাথার ডান ও বাম পাশে কেটে যায়, প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়। পরে তারা ধারালো হাসুয়া দাঁ দিয়ে আমার মুখমণ্ডলে আঘাত করে, যার ফলে চোখের নিচে গভীর ক্ষত হয়।”—বলেন রিমন।
এসময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হামলাকারীরা তার সাথে থাকা পেশাদার ভিডিও ক্যামেরা (প্যানাসনিক পিভি-১০০, মূল্য ১.৫ লাখ টাকা), স্যামসাং এস-২৪ আলট্রা মোবাইল ফোন (মূল্য ১.১ লাখ টাকা), নগদ ২০ হাজার টাকা, ব্যাংকের এটিএম কার্ড, বাইকের কাগজপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিনিয়ে নেয়।
শুধু রিমনই নন, তার সঙ্গে থাকা সাংবাদিক হাসান ও হৃদয়কেও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত আসামিরা মারধর করে। হাসানের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লাগে এবং তার কাছ থেকে মোবাইল (অপ্পো এ-১৮) ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়া হয়। হৃদয় হোসাইনকেও এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং তার ভিভো বি-৪০ মোবাইল (মূল্য প্রায় ৬৫ হাজার টাকা) ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করা হয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক রিমন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা (নং-৪৭/২০২৫) দায়ের করেছেন। মামলাটি দায়ের করা হয়েছে দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৩৭৯/৫০৬ ধারায়।
আসামিদের তালিকায় রয়েছেন:
১। মোঃ জুলহাস (৪২), মালিক, আকাশ ছোয়া গেস্ট হাউস
২। আল-আমিন ওরফে বাদল (৪৫), মালিকপক্ষ, আকাশ ছোয়া গেস্ট হাউস
৩। মোঃ আবির হোসেন (৪৬), ম্যানেজার, আকাশ ছোয়া গেস্ট হাউস
৪। মোঃ সোহেলুর রহমান (৪৮), মালিক, আকাশ ছোয়া গেস্ট হাউস
৫। মো. আল-আমিন (আপন) (৩৫), মালিকপক্ষ, রাজমহল গেস্ট হাউস
৬। মিরাজ মোল্লা ওরফে দিপু (৩২), মালিকপক্ষ, রাজমহল গেস্ট হাউস
৭। সবুজ মাহমুদ (৩২), মালিক, আকাশ ছোয়া গেস্ট হাউস
৮। মোঃ হাবিবুর রহমান নিরব (২৮), মালিক, আকাশ ছোয়া গেস্ট হাউস
৯। মোঃ মামুন (৫২), মালিকপক্ষ, রাজমহল গেস্ট হাউস
এছাড়াও আরও অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকে মামলার আসামি করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের ডাকচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার আগে তারা ভুক্তভোগীদের উদ্দেশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলে, “আমাদের বিষয়ে কারো কাছে বললে অথবা আইনের আশ্রয় নিলে প্রাণে শেষ করে ফেলা হবে।”
এ ঘটনায় সাভারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, সাংবাদিকরা যদি সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে খুন-জখমের শিকার হন তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণমাধ্যমকে জানান, মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। “খুব শিগগিরই আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
রিমন সিকদার স্টাফ রিপোটার 




















