ঢাকা ০২:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ

নারায়ণগঞ্জে সজিব হত্যার ঘটনায় হাসিনা-কাদেরসহ ৪৫ জনের নামে মামলা

নারায়ণগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মোহাম্মদ সজিবের হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক এমপি একেএম শামীম ওসমানের নামসহ ৪৫ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলায় আরও একশ থেকে দেড়শ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম। এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে থানায় মামলাটি রুজু করা হয়।

নিহত সজিবের বাবা মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। শহীদদের সরকারি গেজেটে সজিবের নামের ক্রমিক নম্বর ৫৩৬। প্রায় এক বছর দেড় মাস পর তিনি নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা মামলাটি নথিভুক্ত করে।
মামলার এজাহারে বাদী বলেন, সজিব নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেটের ‘বিক্রমপুর হার্ডওয়ার’ দোকানে চাকরি করতেন। ঘটনার দিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হাজারো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ মিছিল করছিলেন। এতে ওই এলাকার দোকানপাট ও যানবাহন বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ১১টার দিকে দোকান বন্ধ হলে সজিব বাসায় না গিয়ে আন্দোলনে যোগ দেন।

এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে, সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পরিকল্পনায় এবং শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অন্য আসামিরা নারায়ণগঞ্জে একাধিক গোপন বৈঠক করেন। বৈঠকে আন্দোলন দমনে হামলার সিদ্ধান্ত হয়। পরে তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালান।

গুলিতে সজিব ঘটনাস্থলেই আহত হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল নিয়ে গেলে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবার জানায়, ২২ জুলাই ২০২৪ তারিখে সজিবকে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ঘটনার পর শোক কাটিয়ে উঠে সালাউদ্দিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন। থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

বাদী অভিযোগ করেন, প্রশাসনের উদাসীনতা ও রাজনৈতিক চাপের কারণে মামলা করতে দেরি হয়েছে।

৪৫ জনের মধ্যে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, শামীম ওসমান ছাড়াও সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক প্রশাসক ও কৃষক লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ আব্দুল মতিন প্রধান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহ্বায়ক ও নাসিকের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি এবং থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও নাসিকের ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলের নাম রয়েছে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা ওই হামলায় অংশ নিয়েছিলেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

নারায়ণগঞ্জে সজিব হত্যার ঘটনায় হাসিনা-কাদেরসহ ৪৫ জনের নামে মামলা

আপডেট সময় ০২:৫৫:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নারায়ণগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মোহাম্মদ সজিবের হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক এমপি একেএম শামীম ওসমানের নামসহ ৪৫ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলায় আরও একশ থেকে দেড়শ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম। এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে থানায় মামলাটি রুজু করা হয়।

নিহত সজিবের বাবা মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। শহীদদের সরকারি গেজেটে সজিবের নামের ক্রমিক নম্বর ৫৩৬। প্রায় এক বছর দেড় মাস পর তিনি নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা মামলাটি নথিভুক্ত করে।
মামলার এজাহারে বাদী বলেন, সজিব নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেটের ‘বিক্রমপুর হার্ডওয়ার’ দোকানে চাকরি করতেন। ঘটনার দিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হাজারো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ মিছিল করছিলেন। এতে ওই এলাকার দোকানপাট ও যানবাহন বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ১১টার দিকে দোকান বন্ধ হলে সজিব বাসায় না গিয়ে আন্দোলনে যোগ দেন।

এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে, সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পরিকল্পনায় এবং শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অন্য আসামিরা নারায়ণগঞ্জে একাধিক গোপন বৈঠক করেন। বৈঠকে আন্দোলন দমনে হামলার সিদ্ধান্ত হয়। পরে তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালান।

গুলিতে সজিব ঘটনাস্থলেই আহত হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল নিয়ে গেলে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবার জানায়, ২২ জুলাই ২০২৪ তারিখে সজিবকে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ঘটনার পর শোক কাটিয়ে উঠে সালাউদ্দিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন। থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

বাদী অভিযোগ করেন, প্রশাসনের উদাসীনতা ও রাজনৈতিক চাপের কারণে মামলা করতে দেরি হয়েছে।

৪৫ জনের মধ্যে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, শামীম ওসমান ছাড়াও সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক প্রশাসক ও কৃষক লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ আব্দুল মতিন প্রধান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহ্বায়ক ও নাসিকের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি এবং থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও নাসিকের ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলের নাম রয়েছে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা ওই হামলায় অংশ নিয়েছিলেন।