ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সোনারগাঁয়ে দোকান দখল ও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সেলিম সরকারের বিরুদ্ধে পাঁচ সাংবাদিক হত্যার বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন ময়মনসিংহের সাংবাদিকেরা আশুলিয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নাচের ভিডিও ভাইরাল দাউদকান্দিতে বন্দুক-কার্তুজ ও গ্রিল কাটারসহ ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেপ্তার গুলিস্তান-সদরঘাট সড়কে হকার বসতে দেওয়া হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ দেবীগঞ্জে জমজমাট উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম জলপাইয়ের হাট, দৈনিক বেচাকেনা ৫০ লাখ টাকা বোরহানউদ্দিনে জমি নিয়ে বিরোধে হামলা, আহত ৩ হাতিয়া মডেল মসজিদ নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ইসরায়েলের নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোট গণনা, এগিয়ে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি

নারায়ণগঞ্জে সজিব হত্যার ঘটনায় হাসিনা-কাদেরসহ ৪৫ জনের নামে মামলা

নারায়ণগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মোহাম্মদ সজিবের হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক এমপি একেএম শামীম ওসমানের নামসহ ৪৫ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলায় আরও একশ থেকে দেড়শ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম। এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে থানায় মামলাটি রুজু করা হয়।

নিহত সজিবের বাবা মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। শহীদদের সরকারি গেজেটে সজিবের নামের ক্রমিক নম্বর ৫৩৬। প্রায় এক বছর দেড় মাস পর তিনি নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা মামলাটি নথিভুক্ত করে।
মামলার এজাহারে বাদী বলেন, সজিব নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেটের ‘বিক্রমপুর হার্ডওয়ার’ দোকানে চাকরি করতেন। ঘটনার দিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হাজারো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ মিছিল করছিলেন। এতে ওই এলাকার দোকানপাট ও যানবাহন বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ১১টার দিকে দোকান বন্ধ হলে সজিব বাসায় না গিয়ে আন্দোলনে যোগ দেন।

এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে, সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পরিকল্পনায় এবং শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অন্য আসামিরা নারায়ণগঞ্জে একাধিক গোপন বৈঠক করেন। বৈঠকে আন্দোলন দমনে হামলার সিদ্ধান্ত হয়। পরে তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালান।

গুলিতে সজিব ঘটনাস্থলেই আহত হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল নিয়ে গেলে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবার জানায়, ২২ জুলাই ২০২৪ তারিখে সজিবকে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ঘটনার পর শোক কাটিয়ে উঠে সালাউদ্দিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন। থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

বাদী অভিযোগ করেন, প্রশাসনের উদাসীনতা ও রাজনৈতিক চাপের কারণে মামলা করতে দেরি হয়েছে।

৪৫ জনের মধ্যে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, শামীম ওসমান ছাড়াও সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক প্রশাসক ও কৃষক লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ আব্দুল মতিন প্রধান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহ্বায়ক ও নাসিকের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি এবং থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও নাসিকের ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলের নাম রয়েছে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা ওই হামলায় অংশ নিয়েছিলেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁয়ে দোকান দখল ও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সেলিম সরকারের বিরুদ্ধে

নারায়ণগঞ্জে সজিব হত্যার ঘটনায় হাসিনা-কাদেরসহ ৪৫ জনের নামে মামলা

আপডেট সময় ০২:৫৫:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নারায়ণগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মোহাম্মদ সজিবের হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক এমপি একেএম শামীম ওসমানের নামসহ ৪৫ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলায় আরও একশ থেকে দেড়শ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম। এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে থানায় মামলাটি রুজু করা হয়।

নিহত সজিবের বাবা মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। শহীদদের সরকারি গেজেটে সজিবের নামের ক্রমিক নম্বর ৫৩৬। প্রায় এক বছর দেড় মাস পর তিনি নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা মামলাটি নথিভুক্ত করে।
মামলার এজাহারে বাদী বলেন, সজিব নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেটের ‘বিক্রমপুর হার্ডওয়ার’ দোকানে চাকরি করতেন। ঘটনার দিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হাজারো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ মিছিল করছিলেন। এতে ওই এলাকার দোকানপাট ও যানবাহন বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ১১টার দিকে দোকান বন্ধ হলে সজিব বাসায় না গিয়ে আন্দোলনে যোগ দেন।

এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে, সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পরিকল্পনায় এবং শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অন্য আসামিরা নারায়ণগঞ্জে একাধিক গোপন বৈঠক করেন। বৈঠকে আন্দোলন দমনে হামলার সিদ্ধান্ত হয়। পরে তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালান।

গুলিতে সজিব ঘটনাস্থলেই আহত হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল নিয়ে গেলে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবার জানায়, ২২ জুলাই ২০২৪ তারিখে সজিবকে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ঘটনার পর শোক কাটিয়ে উঠে সালাউদ্দিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন। থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

বাদী অভিযোগ করেন, প্রশাসনের উদাসীনতা ও রাজনৈতিক চাপের কারণে মামলা করতে দেরি হয়েছে।

৪৫ জনের মধ্যে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, শামীম ওসমান ছাড়াও সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক প্রশাসক ও কৃষক লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ আব্দুল মতিন প্রধান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহ্বায়ক ও নাসিকের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি এবং থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও নাসিকের ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলের নাম রয়েছে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা ওই হামলায় অংশ নিয়েছিলেন।