ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর একাত্তরে ভুল করা দলকে উসকানির রাজনীতি বন্ধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর কুষ্টিয়ায় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর, জামায়াত-গণঅধিকারের সংঘর্ষ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপকের মরদেহ উদ্ধার আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৪৭ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসছে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ লালমনিরহাটে আবাসিক হোটেলের আড়ালে ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসকসহ ৩ কর্মকর্তাকে বিদায় সংবর্ধনা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ​ব্রাহ্মণপাড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পে ৫৮৫ কোটি টাকা ক্ষতির মামলা

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ প্রকল্পে অতি গুরুত্বপূর্ণ নয়– এমন তিন কাজের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ৫৮৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা ক্ষতির অভিযোগ এনে তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ঢাকা-১ কার্যালয়ে মামলাটি হয়। অন্য আসামিরা হলেন সেতু কর্তৃপক্ষের সাবেক সচিব/নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমদ ও সাবেক যুগ্ম সচিব/পরিচালক আলীম উদ্দিন আহমেদ।

প্রকল্পের নেগোসিয়েশন কমিটি নির্ধারিত নেগোসিয়েশন মূল্য উপেক্ষা করে এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ না থাকা সত্ত্বেও তিনটি কাজ করা হয়। এগুলো হলো– প্রকল্পের পরিষেবা এলাকা তৈরি, অতিমূল্যের পর্যবেক্ষণ সফটওয়্যার তৈরি ও একটি টাগ বোট অন্তর্ভুক্তি।

এজাহারে বলা হয়, প্রকল্পের বিদেশি বিশেষজ্ঞ সুলভান অ্যাসোসিয়েটস কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি সুলিভান সেতু বিভাগে দেওয়া প্রতিবেদনে পরিষেবা এলাকা, পর্যবেক্ষণ সফটওয়্যার ও টাগ বোট অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কোনো সুপারিশ করেননি। অন্যরাও সুপারিশ করেননি। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করে বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ হয়েছে। পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগের মাধ্যমে নিজে ও অন্যকে লাভবান করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের ৮ অক্টোবর কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের ঘোষণা দেন। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ও অরূপ-হংকং জেভি ২০১৩ সালের আগস্টে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গত জুলাই পর্যন্ত টানেলে মাত্র ২৪ লাখ ৫৫ হাজার ৮৭৯ যান চলাচল করেছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার লক্ষ্যমাত্রার ১৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ সঠিক হয়েছে। এ সময়ে যানবাহন যাতায়াত থেকে ৬৭ কোটি ২৫ লাখ ৫৪ হাজার ১০০ টাকা এসেছে। টানেল রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ২০৫ কোটি ৮৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫৬১ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি মাসে রাষ্ট্রের ক্ষতি ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি। আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অসম্ভব, কল্পিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে প্রকল্প পাস ও বাস্তবায়ন করেছেন।

ইসলামী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতে তিন মামলা
প্রতারণা, জালিয়াতি, ভুয়া কোম্পানি ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের ১ হাজার ৬০০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিনটি মামলা হয়েছে। গতকাল দুদকের ঢাকা-১ কার্যালয়ে এসব মামলা হয়।

প্রথম মামলায় ১ হাজার ৭৭ কোটি ১১ লাখ, দ্বিতীয়টিতে ৫২১ কোটি ৫২ লাখ ও তৃতীয় মামলায় পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে এজাহারে। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমসহ ৪০ এবং তৃতীয়টিতে আসামি তিনজন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন– ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিফতাহ উদ্দীন, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আকিজ উদ্দীন, শব মেহের স্পিনিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান প্রমুখ।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর

কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পে ৫৮৫ কোটি টাকা ক্ষতির মামলা

আপডেট সময় ০৪:৫৩:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ প্রকল্পে অতি গুরুত্বপূর্ণ নয়– এমন তিন কাজের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ৫৮৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা ক্ষতির অভিযোগ এনে তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ঢাকা-১ কার্যালয়ে মামলাটি হয়। অন্য আসামিরা হলেন সেতু কর্তৃপক্ষের সাবেক সচিব/নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমদ ও সাবেক যুগ্ম সচিব/পরিচালক আলীম উদ্দিন আহমেদ।

প্রকল্পের নেগোসিয়েশন কমিটি নির্ধারিত নেগোসিয়েশন মূল্য উপেক্ষা করে এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ না থাকা সত্ত্বেও তিনটি কাজ করা হয়। এগুলো হলো– প্রকল্পের পরিষেবা এলাকা তৈরি, অতিমূল্যের পর্যবেক্ষণ সফটওয়্যার তৈরি ও একটি টাগ বোট অন্তর্ভুক্তি।

এজাহারে বলা হয়, প্রকল্পের বিদেশি বিশেষজ্ঞ সুলভান অ্যাসোসিয়েটস কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি সুলিভান সেতু বিভাগে দেওয়া প্রতিবেদনে পরিষেবা এলাকা, পর্যবেক্ষণ সফটওয়্যার ও টাগ বোট অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কোনো সুপারিশ করেননি। অন্যরাও সুপারিশ করেননি। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করে বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ হয়েছে। পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগের মাধ্যমে নিজে ও অন্যকে লাভবান করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের ৮ অক্টোবর কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের ঘোষণা দেন। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ও অরূপ-হংকং জেভি ২০১৩ সালের আগস্টে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গত জুলাই পর্যন্ত টানেলে মাত্র ২৪ লাখ ৫৫ হাজার ৮৭৯ যান চলাচল করেছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার লক্ষ্যমাত্রার ১৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ সঠিক হয়েছে। এ সময়ে যানবাহন যাতায়াত থেকে ৬৭ কোটি ২৫ লাখ ৫৪ হাজার ১০০ টাকা এসেছে। টানেল রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ২০৫ কোটি ৮৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫৬১ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি মাসে রাষ্ট্রের ক্ষতি ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি। আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অসম্ভব, কল্পিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে প্রকল্প পাস ও বাস্তবায়ন করেছেন।

ইসলামী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতে তিন মামলা
প্রতারণা, জালিয়াতি, ভুয়া কোম্পানি ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের ১ হাজার ৬০০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিনটি মামলা হয়েছে। গতকাল দুদকের ঢাকা-১ কার্যালয়ে এসব মামলা হয়।

প্রথম মামলায় ১ হাজার ৭৭ কোটি ১১ লাখ, দ্বিতীয়টিতে ৫২১ কোটি ৫২ লাখ ও তৃতীয় মামলায় পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে এজাহারে। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমসহ ৪০ এবং তৃতীয়টিতে আসামি তিনজন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন– ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিফতাহ উদ্দীন, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আকিজ উদ্দীন, শব মেহের স্পিনিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান প্রমুখ।