ঢাকা ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ

যে হাতে সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লিখি, সে হাতেই হাতকড়া : সাংবাদিক পান্না

মঞ্চ ৭১ ব্যানারে গোলটেবিল করায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে নিজের হাতকড়া উঁচিয়ে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না বলেছেন, সাংবাদিকরা সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে এই হাতে লেখে। দেখেন আমার এই হাতেই হাতকড়া। বলুন, সাংবাদিকরা কি লিখবে। কার পক্ষে লিখবে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) শুনানি শেষে শাহবাগ থানার এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, অধ্যাপক কার্জন, সাংবাদিক পান্নাসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক।

এদিন সকাল ১০টার দিকে আসামিদের আদালতে হাজির করে হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর সাড়ে ১০টায় তাদের সবার মাথায় হেলমেট, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও অধ্যাপক কার্জন বাদে বাকিদের পেছনে পিছমোড়া করে হাতকড়া বেঁধে এজলাসে তোলা হয়। তোলার সময় হাতকড়া পরানো অবস্থায় হাত উঁচু করে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না বলেন, সাংবাদিকরা সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে এই হাতে লেখে। দেখেন আমার এই হাতেই হাতকড়া। বলুন, সাংবাদিকরা কি লিখবে। কার পক্ষে লিখবে।

এ সময় আপনাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের যে অভিযোগ সেটা কতটুকু সত্য জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, আপনাদের কি মনে হয় আমরা সন্ত্রাসী? মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে বলা বা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলা এগুলো কি সন্ত্রাসী করা বলে। দেশের সূর্য সন্তানরা এই দেশের জন্য যুদ্ধ করেছে। এ দেশকে যারা স্বাধীন করেছে, তাদের সঙ্গে থাকা মানে কি সন্ত্রাসী করা? এটা কি আপনাদের মনে হয়।

পরে তাদের কাঠগড়ায় রাখা হয়। শুনানি শুরু হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক তৌফিক হাসান সবাইকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানিতে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. শামসুদ্দোহা সুমন সব আসামিকে কারাগারে আটক রাখার জোর দাবি জানান। এ সময় পান্নার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী জামিন চান।

শুনানির একসময় পান্না হাত উঁচু করে কথা বলতে চান। তখন বিচারক বলেন, আপনার আইনজীবী আছে নাহ। তখন আসামি বলেন, হ্যাঁ। তাও কিছু বলতে চাই। এ সময় পান্না বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলা কি দোষ। আমরা সাংবাদিকরা কি কথা বলতে পারব না। তখন রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর কাইয়ুম হোসেন নয়ন এর বিরোধিতা করেন। এ আইনজীবী বলেন, এ সাংবাদিক আওয়ামী লীগের সহযোগী। এত বছর সুবিধা নিয়ে এখন আদালতে সবাইকে থামিয়ে কথা বলতে চায়। তখন আসামি পান্না ও আইনজীবী নয়ন দুই দিক থেকে উচ্চ বাক্যে কথা বলতে থাকেন। এজলাসে তখন হট্টগোল দেখা যায়। এরপর শুনানি শেষে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে বেলা ১১টা ২ ১মিনিটের দিকে শুনানি শেষে সাংবাদিক পান্নাসহ সব আসামিকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। এ সময় আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের দেখে চিৎকার করে পান্না বলেন, এই দেখেন আমার হাতে হাতকড়া। তখন পিছমোড়া করে হাত বাঁধা সেটা দেখানোর চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা তাকে বাধা দেয়। তখন আবারও পান্না চিৎকার করে বলেন, ‘হাতকড়া পরাবেন, দেখাতে দিবেন না। হ্যাঁহ, এটা কোন ধরনের কথা।’ এই কথা তিনি বারবার বলতে থাকেন।

এরপর তাকে হাজতখানায় নেওয়া হয়। পরে বেলা ১১টা ৫১ মিনিটে সিএমএম হাজতখানা থেকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেওয়ার জন্য প্রিজনভ্যানে সব আসামিকে ওঠানো হয়। প্রিজনভ্যান থেকে পান্না গ্রিলের ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে বলেন, ‘সাংবাদিকরা কি কথা বলতে পারবেন না, সাংবাদিকদের হাতে হাতকড়া- এটা কোন দেশ? কোথায় আছি আমরা।’ এরপর প্রিজনভ্যান যেতে থাকে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিআরইউতে মঞ্চ ৭১ নামে একটি ব্যানারে গোলটেবিল আলোচনা চলছিল। এ সময় একদল ব্যক্তি নিজেদের জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দিয়ে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ১৬ জনকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এদিকে গোলটেবিলের এ ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

যে হাতে সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লিখি, সে হাতেই হাতকড়া : সাংবাদিক পান্না

আপডেট সময় ০৪:১২:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

মঞ্চ ৭১ ব্যানারে গোলটেবিল করায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে নিজের হাতকড়া উঁচিয়ে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না বলেছেন, সাংবাদিকরা সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে এই হাতে লেখে। দেখেন আমার এই হাতেই হাতকড়া। বলুন, সাংবাদিকরা কি লিখবে। কার পক্ষে লিখবে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) শুনানি শেষে শাহবাগ থানার এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, অধ্যাপক কার্জন, সাংবাদিক পান্নাসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক।

এদিন সকাল ১০টার দিকে আসামিদের আদালতে হাজির করে হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর সাড়ে ১০টায় তাদের সবার মাথায় হেলমেট, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও অধ্যাপক কার্জন বাদে বাকিদের পেছনে পিছমোড়া করে হাতকড়া বেঁধে এজলাসে তোলা হয়। তোলার সময় হাতকড়া পরানো অবস্থায় হাত উঁচু করে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না বলেন, সাংবাদিকরা সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে এই হাতে লেখে। দেখেন আমার এই হাতেই হাতকড়া। বলুন, সাংবাদিকরা কি লিখবে। কার পক্ষে লিখবে।

এ সময় আপনাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের যে অভিযোগ সেটা কতটুকু সত্য জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, আপনাদের কি মনে হয় আমরা সন্ত্রাসী? মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে বলা বা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলা এগুলো কি সন্ত্রাসী করা বলে। দেশের সূর্য সন্তানরা এই দেশের জন্য যুদ্ধ করেছে। এ দেশকে যারা স্বাধীন করেছে, তাদের সঙ্গে থাকা মানে কি সন্ত্রাসী করা? এটা কি আপনাদের মনে হয়।

পরে তাদের কাঠগড়ায় রাখা হয়। শুনানি শুরু হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক তৌফিক হাসান সবাইকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানিতে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. শামসুদ্দোহা সুমন সব আসামিকে কারাগারে আটক রাখার জোর দাবি জানান। এ সময় পান্নার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী জামিন চান।

শুনানির একসময় পান্না হাত উঁচু করে কথা বলতে চান। তখন বিচারক বলেন, আপনার আইনজীবী আছে নাহ। তখন আসামি বলেন, হ্যাঁ। তাও কিছু বলতে চাই। এ সময় পান্না বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলা কি দোষ। আমরা সাংবাদিকরা কি কথা বলতে পারব না। তখন রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর কাইয়ুম হোসেন নয়ন এর বিরোধিতা করেন। এ আইনজীবী বলেন, এ সাংবাদিক আওয়ামী লীগের সহযোগী। এত বছর সুবিধা নিয়ে এখন আদালতে সবাইকে থামিয়ে কথা বলতে চায়। তখন আসামি পান্না ও আইনজীবী নয়ন দুই দিক থেকে উচ্চ বাক্যে কথা বলতে থাকেন। এজলাসে তখন হট্টগোল দেখা যায়। এরপর শুনানি শেষে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে বেলা ১১টা ২ ১মিনিটের দিকে শুনানি শেষে সাংবাদিক পান্নাসহ সব আসামিকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। এ সময় আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের দেখে চিৎকার করে পান্না বলেন, এই দেখেন আমার হাতে হাতকড়া। তখন পিছমোড়া করে হাত বাঁধা সেটা দেখানোর চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা তাকে বাধা দেয়। তখন আবারও পান্না চিৎকার করে বলেন, ‘হাতকড়া পরাবেন, দেখাতে দিবেন না। হ্যাঁহ, এটা কোন ধরনের কথা।’ এই কথা তিনি বারবার বলতে থাকেন।

এরপর তাকে হাজতখানায় নেওয়া হয়। পরে বেলা ১১টা ৫১ মিনিটে সিএমএম হাজতখানা থেকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেওয়ার জন্য প্রিজনভ্যানে সব আসামিকে ওঠানো হয়। প্রিজনভ্যান থেকে পান্না গ্রিলের ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে বলেন, ‘সাংবাদিকরা কি কথা বলতে পারবেন না, সাংবাদিকদের হাতে হাতকড়া- এটা কোন দেশ? কোথায় আছি আমরা।’ এরপর প্রিজনভ্যান যেতে থাকে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিআরইউতে মঞ্চ ৭১ নামে একটি ব্যানারে গোলটেবিল আলোচনা চলছিল। এ সময় একদল ব্যক্তি নিজেদের জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দিয়ে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ১৬ জনকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এদিকে গোলটেবিলের এ ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।