ঢাকা ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর একাত্তরে ভুল করা দলকে উসকানির রাজনীতি বন্ধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর কুষ্টিয়ায় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর, জামায়াত-গণঅধিকারের সংঘর্ষ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপকের মরদেহ উদ্ধার আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৪৭ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসছে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ লালমনিরহাটে আবাসিক হোটেলের আড়ালে ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসকসহ ৩ কর্মকর্তাকে বিদায় সংবর্ধনা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ​ব্রাহ্মণপাড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

দেশে কৃষকরা কোনো সুবিধা পান না: কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আমাদের দেশের কৃষকরা কোনো সুবিধা পান না। তারা যে ফসল উৎপাদন করেন, সেটার যেন ন্যায্যমূল্য পান সে ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার মেদুলিয়া সমন্বিত কৃষক সংঘের হাতে ‘ফারমারস মিনি কোল্ড স্টোরেজ’-এর চাবি হস্তান্তর করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, মিনি কোল্ড স্টোরেজের কার্যক্রম আমরা আপনাদের এলাকা থেকে শুরু করলাম। সবাই দোয়া করবেন, যেন এটি সফল হয়।
উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশে অঞ্চলভিত্তিক একেক ধরনের ফসল বেশি উৎপাদন হয়। আপনাদের এখানে (মানিকগঞ্জে) গাজরের চাষাবাদ বেশি হয়। আমরা এই প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ১০০টি ফারমারস মিনি কোল্ড স্টোরেজ বিতরণ করব। পরবর্তীতে যেসব অঞ্চলে বেশি ফসল ও সবজি উৎপাদন হয়, সেখানে এই কোল্ড স্টোরেজ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

কোল্ড স্টোরেজের সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই কোল্ড স্টোরেজের মাধ্যমে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ই উপকৃত হবেন। যখন সবজির দাম কম থাকবে, তখন কৃষক সেগুলো এখানে সংরক্ষণ করতে পারবেন। পরবর্তীতে বাজারে যখন দাম বেড়ে যাবে, তখন ওই কৃষক পাঁচ টাকার ফুলকপি ৩০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। আর ভোক্তারা সেই ফুলকপি ৫০ টাকায় না কিনে ২০ টাকা কমে কিনতে পারবেন। ফলে এটি অবশ্যই কৃষক ও ভোক্তার জন্য উপকার বয়ে আনবে।

পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যবহার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। তাহলে সবাই আবার পাটজাত পণ্যের দিকে ঝুঁকবে। আমাদের কৃষিবীমা সবসময় পলিথিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। প্লাস্টিকের বোতলের ব্যবহারও বন্ধ করতে হবে। এতে কৃষির উন্নতি হবে এবং পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠন সম্ভব হবে।

সবজির মৌসুমে বীজের দাম বেশি নেওয়া হয় এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে। তাদের কাছে অভিযোগ জানালে অসাধু বীজ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যদি প্রশাসনের কেউ দায়িত্বে গাফিলতি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ছাইফুল আলম, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, ফারমারস মিনি কোল্ড স্টোরেজ প্রকল্পের পরিচালক তালহা জুবাইর মাসরুর, মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা, পুলিশ সুপার ইয়াসমিন খাতুন, জেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. রবীআহ নূরসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর

দেশে কৃষকরা কোনো সুবিধা পান না: কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৬:২০:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আমাদের দেশের কৃষকরা কোনো সুবিধা পান না। তারা যে ফসল উৎপাদন করেন, সেটার যেন ন্যায্যমূল্য পান সে ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার মেদুলিয়া সমন্বিত কৃষক সংঘের হাতে ‘ফারমারস মিনি কোল্ড স্টোরেজ’-এর চাবি হস্তান্তর করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, মিনি কোল্ড স্টোরেজের কার্যক্রম আমরা আপনাদের এলাকা থেকে শুরু করলাম। সবাই দোয়া করবেন, যেন এটি সফল হয়।
উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশে অঞ্চলভিত্তিক একেক ধরনের ফসল বেশি উৎপাদন হয়। আপনাদের এখানে (মানিকগঞ্জে) গাজরের চাষাবাদ বেশি হয়। আমরা এই প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ১০০টি ফারমারস মিনি কোল্ড স্টোরেজ বিতরণ করব। পরবর্তীতে যেসব অঞ্চলে বেশি ফসল ও সবজি উৎপাদন হয়, সেখানে এই কোল্ড স্টোরেজ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

কোল্ড স্টোরেজের সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই কোল্ড স্টোরেজের মাধ্যমে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ই উপকৃত হবেন। যখন সবজির দাম কম থাকবে, তখন কৃষক সেগুলো এখানে সংরক্ষণ করতে পারবেন। পরবর্তীতে বাজারে যখন দাম বেড়ে যাবে, তখন ওই কৃষক পাঁচ টাকার ফুলকপি ৩০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। আর ভোক্তারা সেই ফুলকপি ৫০ টাকায় না কিনে ২০ টাকা কমে কিনতে পারবেন। ফলে এটি অবশ্যই কৃষক ও ভোক্তার জন্য উপকার বয়ে আনবে।

পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যবহার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। তাহলে সবাই আবার পাটজাত পণ্যের দিকে ঝুঁকবে। আমাদের কৃষিবীমা সবসময় পলিথিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। প্লাস্টিকের বোতলের ব্যবহারও বন্ধ করতে হবে। এতে কৃষির উন্নতি হবে এবং পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠন সম্ভব হবে।

সবজির মৌসুমে বীজের দাম বেশি নেওয়া হয় এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে। তাদের কাছে অভিযোগ জানালে অসাধু বীজ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যদি প্রশাসনের কেউ দায়িত্বে গাফিলতি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ছাইফুল আলম, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, ফারমারস মিনি কোল্ড স্টোরেজ প্রকল্পের পরিচালক তালহা জুবাইর মাসরুর, মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা, পুলিশ সুপার ইয়াসমিন খাতুন, জেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. রবীআহ নূরসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।