ঢাকা ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর একাত্তরে ভুল করা দলকে উসকানির রাজনীতি বন্ধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর কুষ্টিয়ায় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর, জামায়াত-গণঅধিকারের সংঘর্ষ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপকের মরদেহ উদ্ধার আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৪৭ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসছে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ লালমনিরহাটে আবাসিক হোটেলের আড়ালে ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসকসহ ৩ কর্মকর্তাকে বিদায় সংবর্ধনা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ​ব্রাহ্মণপাড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

গত এক বছরে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৮০ লাখ টাকা জব্দ : আইজি প্রিজন

কারাগারগুলোকে নগদ টাকা মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেছেন, গত এক বছরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে। এখনো অল্প অল্প ধরা পড়েছে। তবে আগের থেকে অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) কারা সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

‎কারাগারে মাদক বিস্তার রোধে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে আইজি প্রিজন বলেন, আপনারা জানেন কারাগারে বিভিন্ন ধরনের অপরাধীরা থাকে। আমরা কঠোর হয়েছি, ফলে আমরা অনেকটা রিকভার করেছি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তত এক হাজারের বেশি অভিযান চালানো হয়েছে। তল্লাশিতে বিপুলসংখ্যক ছোট সাইজের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছি। এখন অনেকটা কমেছে, তবে বন্ধ হয়েছে বলা যাবে না। আমরা মাদকের বিষয় অনেক কঠোর। এমনকি পেটের মধ্যে করে ইয়াবা নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে বেশি ধরা পড়ছে। আর মাদক মামলায় যারা গ্রেপ্তার তাদের কারাগারে আনার পর বিশেষ সেলে রাখা হয়। যাতে করে সে মাদক ছড়িয়ে দিতে না পারে। এমনও বন্দি এসেছে যার পেটে ১২০০ ইয়াবা পেয়েছি। আমরা এখনো শতভাগ সফল না, তবে উন্নতি করেছি। এমনকি মাদকের সঙ্গে জড়িত কারারক্ষীদের চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মোবাইলের বিষয় আমরা অনেক কঠোর। মোবাইলের আলামত পাওয়ায় ডিভিশন পাওয়া বন্দিদের ডিভিশন বাতিল করা হয়েছে। আমরা কারাগারকে নগদ টাকা মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি। গত এক বছরে ঢাকা কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। এখনো অল্প অল্প ধরা পড়েছে। পূর্বের অবস্থা থেকে উন্নতি হচ্ছে। কারাগার ও কাশিমপুরের রান্না করা খাবার বাসা থেকে দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে।

‎পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৫ আগস্টে বিভিন্ন কারাগার থেকে ২ হাজার ২০০ জনের বেশি বন্দি পালিয়েছিল। পরে গ্রেপ্তার ও ফিরে আসেন অনেকে। এখনো ৭০০ এর বেশি বন্দি পলাতক। এরমধ্যে জঙ্গি ৯ এবং মৃত্যুদণ্ড-যাবজ্জীবনদণ্ড পাওয়া বন্দি ৬০ জন।
তিনি আরও বলেন, এখনো ২৯টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। আরও কিছু গোলা বারুদ বাকি আছে। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অস্ত্র ফেরত দিলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

‎কাশিমপুর থেকে আদালতে নারী বন্দিদের আনা নেওয়ার সময় গরমসহ নানা কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই সমস্যার সমাধানে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে আইজি প্রিজন বলেন, কেরানীগঞ্জে আরও একটি কারাগার প্রতিস্থাপন করার কাজ চলমান রয়েছে। এরমাধ্যমে নারী বন্দিদের এই সমস্যা সমাধান করতে পারবো। পাশাপাশি আমাদের বিশেষ কারাগারেও একটি সেলকে নারী বন্দিদের জন্য খোলা হবে। যাতে করে নারী বন্দিদের যাতায়াত সহজ হবে।

‎বন্দিদের জন্য ল্যান্ড ফোনে যোগাযোগের উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না কেন?—জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহে একবার ৫ মিনিট করে বন্দিদের ফোনে কথা বলার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সমস্যা হলো ম্যানুয়াল সিস্টেমের জন্য। কারণ স্বজন ও আইনজীবীর বাইরে ফোন দেওয়ার কথা না। কিন্তু আসলে এটার অপব্যবহার করা হচ্ছে। এজন্য আমরা একটা অটোমেশন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কেরানীগঞ্জ কারাগারে চালুর ব্যবস্থা হচ্ছে। ১৩টি কারাগারের জন্য কাজ চলছে। এর ফলে কারারক্ষীদের ডিউটি চাপ কমবে ও যারা বন্দি আছে তারাও অপব্যবহার করতে পারবে না। পাশাপাশি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স করা হয়েছে, যদি ষড়যন্ত্রমূলক তথ্য বা অন্য কোনোভাবে নিরাপত্তা বিঘ্নিত ঘটনার চেষ্টা করে তাহলে আমাদের মেসেজ দেবে। তখন আমরা ব্যবস্থা নেবো।

আরেক প্রশ্নের জবাবে মহাপরির্দশক বলেন, আমরা কারাগারগুলোতে ধীরে ধীরে কম্প্রিহেন্সিভ জ্যামিং সিস্টেম চালুর চেষ্টা করছি। প্রথমে স্পেশাল জেল ও কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে এটি প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া পাইপলাইনে আছে। একটি খুব শিগগিরই লেগে যাবে, আরেকটি হয়তো দুই-তিন মাস লেগে যাবে। ধাপে ধাপে সব গুরুত্বপূর্ণ কারাগারে এটি লাগানো হবে।

কারাগারে কতজন রাজবন্দি আছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কাছে রাজনৈতিক বা ভিআইপি বন্দি বলে কিছু নেই। এখানে রাজনৈতিক কোনো মামলা নেই, এখানে হচ্ছে বিভিন্ন অভিযোগ। কেউ মারামারি, কেউ গণহত্যা, কেউ হত্যা মামলার আসামি। আমার জায়গা থেকে রাজনৈতিক আইডেন্টিফিকেশন দিয়ে আলাদা করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা মামলার গুরুত্ব বা ধারা অনুসারে আলাদা করছি। কারাগারে ভিআইপি বন্দি বলে কিছু নেই। এটা হচ্ছে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি। বর্তমানে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি আছেন ১৬৩ জন। এছাড়া ডিভিশন আবেদন করে পাননি এমন বন্দি আছেন ২৮ জন।

কারাগারে খাবারের মান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, আমরা এটা নিয়ে কাজ করেছি। কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি, বন্দিদের প্রাপ্য অনুসারে খাবারে যেন ছাড় দেওয়া না হয়। এখন খাবারের পরিমাণ নিয়ে খুব বেশি অভিযোগ পাবেন না। হ্যাঁ, রান্না নিয়ে অভিযোগ থাকতে পারে। কারণ আমাদের রাঁধুনীরা প্রফেশনাল কুক না, বন্দিরাই রান্না করেন। যে কারণে টেস্ট নিয়ে কিছু কিছু অভিযোগ থাকতে পারে। কিন্তু পরিমাণ ও প্রাপ্য নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। তাদের একটি অভিযোগ আছে প্রোটিন নিয়ে। বন্দিদের মাথাপিছু ৩৬ গ্রাম প্রোটিন দেওয়া হয়। মাছ, মাংসের টুকরো হিসেবে এটি ছোট একটি পিছ। এটা সরকারি বরাদ্দ। এখানে আমার কিছু করার নেই। কিন্তু সরকার এটি বাড়িয়ে ৫৪-৫৫ গ্রামে নিয়ে গেছে। এতে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়বে।

কারাগারগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কারা অধিদপ্তরে লিস্টেট ডাক্তার আছে ১৪১ জন। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ২ জন। এছাড়া সিভিল সার্জন থেকে ১০৩ জন নিয়োগকৃত আছেন, যারা প্রয়োজনে আসবেন। তবে এটা আমাদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। আমরা এটা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। এটি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি। আমাদের অ্যাম্বুলেন্সের স্বল্পতা আছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর

গত এক বছরে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৮০ লাখ টাকা জব্দ : আইজি প্রিজন

আপডেট সময় ০৩:১৬:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

কারাগারগুলোকে নগদ টাকা মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেছেন, গত এক বছরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে। এখনো অল্প অল্প ধরা পড়েছে। তবে আগের থেকে অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) কারা সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

‎কারাগারে মাদক বিস্তার রোধে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে আইজি প্রিজন বলেন, আপনারা জানেন কারাগারে বিভিন্ন ধরনের অপরাধীরা থাকে। আমরা কঠোর হয়েছি, ফলে আমরা অনেকটা রিকভার করেছি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তত এক হাজারের বেশি অভিযান চালানো হয়েছে। তল্লাশিতে বিপুলসংখ্যক ছোট সাইজের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছি। এখন অনেকটা কমেছে, তবে বন্ধ হয়েছে বলা যাবে না। আমরা মাদকের বিষয় অনেক কঠোর। এমনকি পেটের মধ্যে করে ইয়াবা নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে বেশি ধরা পড়ছে। আর মাদক মামলায় যারা গ্রেপ্তার তাদের কারাগারে আনার পর বিশেষ সেলে রাখা হয়। যাতে করে সে মাদক ছড়িয়ে দিতে না পারে। এমনও বন্দি এসেছে যার পেটে ১২০০ ইয়াবা পেয়েছি। আমরা এখনো শতভাগ সফল না, তবে উন্নতি করেছি। এমনকি মাদকের সঙ্গে জড়িত কারারক্ষীদের চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মোবাইলের বিষয় আমরা অনেক কঠোর। মোবাইলের আলামত পাওয়ায় ডিভিশন পাওয়া বন্দিদের ডিভিশন বাতিল করা হয়েছে। আমরা কারাগারকে নগদ টাকা মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি। গত এক বছরে ঢাকা কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। এখনো অল্প অল্প ধরা পড়েছে। পূর্বের অবস্থা থেকে উন্নতি হচ্ছে। কারাগার ও কাশিমপুরের রান্না করা খাবার বাসা থেকে দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে।

‎পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৫ আগস্টে বিভিন্ন কারাগার থেকে ২ হাজার ২০০ জনের বেশি বন্দি পালিয়েছিল। পরে গ্রেপ্তার ও ফিরে আসেন অনেকে। এখনো ৭০০ এর বেশি বন্দি পলাতক। এরমধ্যে জঙ্গি ৯ এবং মৃত্যুদণ্ড-যাবজ্জীবনদণ্ড পাওয়া বন্দি ৬০ জন।
তিনি আরও বলেন, এখনো ২৯টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। আরও কিছু গোলা বারুদ বাকি আছে। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অস্ত্র ফেরত দিলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

‎কাশিমপুর থেকে আদালতে নারী বন্দিদের আনা নেওয়ার সময় গরমসহ নানা কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই সমস্যার সমাধানে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে আইজি প্রিজন বলেন, কেরানীগঞ্জে আরও একটি কারাগার প্রতিস্থাপন করার কাজ চলমান রয়েছে। এরমাধ্যমে নারী বন্দিদের এই সমস্যা সমাধান করতে পারবো। পাশাপাশি আমাদের বিশেষ কারাগারেও একটি সেলকে নারী বন্দিদের জন্য খোলা হবে। যাতে করে নারী বন্দিদের যাতায়াত সহজ হবে।

‎বন্দিদের জন্য ল্যান্ড ফোনে যোগাযোগের উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না কেন?—জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহে একবার ৫ মিনিট করে বন্দিদের ফোনে কথা বলার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সমস্যা হলো ম্যানুয়াল সিস্টেমের জন্য। কারণ স্বজন ও আইনজীবীর বাইরে ফোন দেওয়ার কথা না। কিন্তু আসলে এটার অপব্যবহার করা হচ্ছে। এজন্য আমরা একটা অটোমেশন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কেরানীগঞ্জ কারাগারে চালুর ব্যবস্থা হচ্ছে। ১৩টি কারাগারের জন্য কাজ চলছে। এর ফলে কারারক্ষীদের ডিউটি চাপ কমবে ও যারা বন্দি আছে তারাও অপব্যবহার করতে পারবে না। পাশাপাশি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স করা হয়েছে, যদি ষড়যন্ত্রমূলক তথ্য বা অন্য কোনোভাবে নিরাপত্তা বিঘ্নিত ঘটনার চেষ্টা করে তাহলে আমাদের মেসেজ দেবে। তখন আমরা ব্যবস্থা নেবো।

আরেক প্রশ্নের জবাবে মহাপরির্দশক বলেন, আমরা কারাগারগুলোতে ধীরে ধীরে কম্প্রিহেন্সিভ জ্যামিং সিস্টেম চালুর চেষ্টা করছি। প্রথমে স্পেশাল জেল ও কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে এটি প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া পাইপলাইনে আছে। একটি খুব শিগগিরই লেগে যাবে, আরেকটি হয়তো দুই-তিন মাস লেগে যাবে। ধাপে ধাপে সব গুরুত্বপূর্ণ কারাগারে এটি লাগানো হবে।

কারাগারে কতজন রাজবন্দি আছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কাছে রাজনৈতিক বা ভিআইপি বন্দি বলে কিছু নেই। এখানে রাজনৈতিক কোনো মামলা নেই, এখানে হচ্ছে বিভিন্ন অভিযোগ। কেউ মারামারি, কেউ গণহত্যা, কেউ হত্যা মামলার আসামি। আমার জায়গা থেকে রাজনৈতিক আইডেন্টিফিকেশন দিয়ে আলাদা করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা মামলার গুরুত্ব বা ধারা অনুসারে আলাদা করছি। কারাগারে ভিআইপি বন্দি বলে কিছু নেই। এটা হচ্ছে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি। বর্তমানে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি আছেন ১৬৩ জন। এছাড়া ডিভিশন আবেদন করে পাননি এমন বন্দি আছেন ২৮ জন।

কারাগারে খাবারের মান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, আমরা এটা নিয়ে কাজ করেছি। কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি, বন্দিদের প্রাপ্য অনুসারে খাবারে যেন ছাড় দেওয়া না হয়। এখন খাবারের পরিমাণ নিয়ে খুব বেশি অভিযোগ পাবেন না। হ্যাঁ, রান্না নিয়ে অভিযোগ থাকতে পারে। কারণ আমাদের রাঁধুনীরা প্রফেশনাল কুক না, বন্দিরাই রান্না করেন। যে কারণে টেস্ট নিয়ে কিছু কিছু অভিযোগ থাকতে পারে। কিন্তু পরিমাণ ও প্রাপ্য নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। তাদের একটি অভিযোগ আছে প্রোটিন নিয়ে। বন্দিদের মাথাপিছু ৩৬ গ্রাম প্রোটিন দেওয়া হয়। মাছ, মাংসের টুকরো হিসেবে এটি ছোট একটি পিছ। এটা সরকারি বরাদ্দ। এখানে আমার কিছু করার নেই। কিন্তু সরকার এটি বাড়িয়ে ৫৪-৫৫ গ্রামে নিয়ে গেছে। এতে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়বে।

কারাগারগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কারা অধিদপ্তরে লিস্টেট ডাক্তার আছে ১৪১ জন। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ২ জন। এছাড়া সিভিল সার্জন থেকে ১০৩ জন নিয়োগকৃত আছেন, যারা প্রয়োজনে আসবেন। তবে এটা আমাদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। আমরা এটা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। এটি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি। আমাদের অ্যাম্বুলেন্সের স্বল্পতা আছে।