ঢাকা ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর একাত্তরে ভুল করা দলকে উসকানির রাজনীতি বন্ধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর কুষ্টিয়ায় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর, জামায়াত-গণঅধিকারের সংঘর্ষ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপকের মরদেহ উদ্ধার আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৪৭ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসছে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ লালমনিরহাটে আবাসিক হোটেলের আড়ালে ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসকসহ ৩ কর্মকর্তাকে বিদায় সংবর্ধনা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ​ব্রাহ্মণপাড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা
আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়া হুঁশিয়ারি

বৈষম্যমূলক ড্যাপ স্থগিতের দাবি

বৈষম্যমূলক ড্যাপ (২০২২-২০৩৫) স্থগিত করে আগের জনবান্ধব ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮ এর আলোকে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে ঢাকা সিটি ল্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, নতুন ড্যাপের কারণে ঢাকার দুই লাখেরও বেশি জমির মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমাদের দাবি আদায়ের জন্য প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে যাবো।
রোববার (২৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক প্রফেসর ড. দেওয়ান এম এ সাজ্জাদ।

তিনি বলেন, নতুন ড্যাপে জমির মালিকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে ভবনের উচ্চতা ও আয়তন অযৌক্তিকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই পরিমাণ জমিতে পূর্বে যেখানে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা যেত, বর্তমানে সেখানে কেবল ৫ তলা অনুমোদন মিলছে। এতে জমির মালিকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ড্যাপে কাঠা প্রতি ইউনিট সংখ্যা হ্রাস এবং এফএআর সিস্টেম চালু করে ইচ্ছা করে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। ড্যাপ পাস হওয়ার পর ঘুষের বিনিময়ে অনুমোদনবহির্ভূত ভবন নির্মাণের নজিরও রয়েছে। কঠোর আইন থাকার পরেও যখন নদী-খাল ভরাট হয়, সাদা পাথর গায়েব হয়ে যায়, তখন স্পষ্ট হয়—কঠোর বিধিনিষেধ কেবল ঘুষের ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

ঢাকা সিটি ল্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সমন্বয়কারী বলেন, গত তিন বছরে ড্যাপের আলোকে কোনো খেলার মাঠ তৈরি হয়নি, রাস্তাঘাট সম্প্রসারণ হয়নি, বরং কৃষি জমি ও খাল-বিল রক্ষায় সরকারের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। অথচ ড্যাপের মূল পরিকল্পনা হিসেবে এগুলো উল্লেখ করা হয়েছিল।
ঢাকা সিটি ল্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ৪টি দাবি জানান তিনি। দাবিগুলো হচ্ছে— ২০০৮ সালের ইমারত নির্মাণ বিধিমালার আলোকে ড্যাপ ২০২৫-৩৫ ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করা; বৈষম্যমূলক এফএআর সিস্টেম ও কাঠা প্রতি ইউনিট সংখ্যা বাতিল করা; নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং রাজউকের হয়রানি বন্ধ করা এবং ড্যাপ সংশোধনী সংক্রান্ত সভাগুলোতে ঢাকা সিটি ল্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনকে অংশীজন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।

প্রফেসর সাজ্জাদ হুঁশিয়ারি করে বলেন, আমাদের দাবি উপেক্ষা করা হলে দেশের সর্বোচ্চ আদালত এমনকি আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হতেও আমরা পিছপা হবো না।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা সিটি ল্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের অন্যান্য সমন্বয়করা উপস্থিত ছিলেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর

আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়া হুঁশিয়ারি

বৈষম্যমূলক ড্যাপ স্থগিতের দাবি

আপডেট সময় ০১:২৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

বৈষম্যমূলক ড্যাপ (২০২২-২০৩৫) স্থগিত করে আগের জনবান্ধব ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮ এর আলোকে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে ঢাকা সিটি ল্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, নতুন ড্যাপের কারণে ঢাকার দুই লাখেরও বেশি জমির মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমাদের দাবি আদায়ের জন্য প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে যাবো।
রোববার (২৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক প্রফেসর ড. দেওয়ান এম এ সাজ্জাদ।

তিনি বলেন, নতুন ড্যাপে জমির মালিকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে ভবনের উচ্চতা ও আয়তন অযৌক্তিকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই পরিমাণ জমিতে পূর্বে যেখানে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা যেত, বর্তমানে সেখানে কেবল ৫ তলা অনুমোদন মিলছে। এতে জমির মালিকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ড্যাপে কাঠা প্রতি ইউনিট সংখ্যা হ্রাস এবং এফএআর সিস্টেম চালু করে ইচ্ছা করে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। ড্যাপ পাস হওয়ার পর ঘুষের বিনিময়ে অনুমোদনবহির্ভূত ভবন নির্মাণের নজিরও রয়েছে। কঠোর আইন থাকার পরেও যখন নদী-খাল ভরাট হয়, সাদা পাথর গায়েব হয়ে যায়, তখন স্পষ্ট হয়—কঠোর বিধিনিষেধ কেবল ঘুষের ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

ঢাকা সিটি ল্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সমন্বয়কারী বলেন, গত তিন বছরে ড্যাপের আলোকে কোনো খেলার মাঠ তৈরি হয়নি, রাস্তাঘাট সম্প্রসারণ হয়নি, বরং কৃষি জমি ও খাল-বিল রক্ষায় সরকারের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। অথচ ড্যাপের মূল পরিকল্পনা হিসেবে এগুলো উল্লেখ করা হয়েছিল।
ঢাকা সিটি ল্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ৪টি দাবি জানান তিনি। দাবিগুলো হচ্ছে— ২০০৮ সালের ইমারত নির্মাণ বিধিমালার আলোকে ড্যাপ ২০২৫-৩৫ ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করা; বৈষম্যমূলক এফএআর সিস্টেম ও কাঠা প্রতি ইউনিট সংখ্যা বাতিল করা; নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং রাজউকের হয়রানি বন্ধ করা এবং ড্যাপ সংশোধনী সংক্রান্ত সভাগুলোতে ঢাকা সিটি ল্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনকে অংশীজন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।

প্রফেসর সাজ্জাদ হুঁশিয়ারি করে বলেন, আমাদের দাবি উপেক্ষা করা হলে দেশের সর্বোচ্চ আদালত এমনকি আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হতেও আমরা পিছপা হবো না।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা সিটি ল্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের অন্যান্য সমন্বয়করা উপস্থিত ছিলেন।