ঢাকা ০৮:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মোংলা নদীতে দশম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ হবে : নৌপরিবহনমন্ত্রী যারা পালিয়ে যায়, তার আর দেশে ফিরতে পারে না: রিজভী শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদেরই ঠাঁই হলো না মঞ্চে; কালিহাতীতে তীব্র ক্ষোভ বিদ্যুৎ-গ্যাসের সমস্যা সমাধানে অন্তত দুই বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী বংশালে হেলমেটের গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৭ ইউনিট অনার্স পর্যন্ত নারীদের ফ্রিতে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে : প্রধানমন্ত্রী মুক্তিপণ দিয়েও মেলেনি মুক্তি, ফরিদপুরে শিকলবন্দি নিলয় উদ্ধার; গ্রেফতার- ৩ পীরগঞ্জে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদ্বোধন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন অসুস্থ, পা অবশ হওয়ায় চলাফেরা সীমিত ফ্যাসিস্ট আমলে শিক্ষাব্যবস্থায় চরম ধস নেমেছিল : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
শিক্ষা উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকার এত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে পারবে না

অন্তর্বর্তী সরকার দেশের এমপিওভুক্ত এতসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার।

বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয়করণ প্রসঙ্গে এ কথা জানান তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা ও শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তাদের দেওয়া তথ্যমতে, বৈঠকে শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এমপিওভুক্ত এতসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে পারবে না। এটা অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং ইস্যু। এটা করা ইন্টেরিম গভর্মেন্টের (অন্তর্বর্তী সরকার) পক্ষেও সম্ভব নয়। নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার এটা করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অন্য যেসব দাবি আছে- সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করতে পারি। বাড়িভাড়া, চিকিৎসাভাতা ইত্যাদি অন্তর্বর্তী সরকার বিবেচনা করবে। সেটাও যদি একবারে চাপিয়ে দেন, তাহলে আমরা পারবো না। এটা করতে হবে ধাপে ধাপে। আমরা ধাপে ধাপে শিক্ষকদের সমস্যা ও সংকটগুলো নিসরনের চেষ্টা করবো।

সভায় শিক্ষকরা সর্বজনীন বদলি, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাভাতার বিষয়ে জোর দেন। এর মধ্যে সর্বজনীন বদলির বিষয়টি যাচাই করতে শিক্ষা উপদেষ্টা তাৎক্ষণিক ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করে দেন। আর বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশনা দেন।
জানা যায়, বর্তমানে দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মাসে বাড়িভাড়া বাবদ এক হাজার টাকা পান। আর চিকিৎসাভাতা পান ৫০০ টাকা। এ বাড়িভাড়া আরও এক হাজার বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা এবং চিকিৎসাভাতা ৫০০ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দাবি, সরকারি চাকরিজীবীরা ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় কর্মরত থাকলে বাড়িভাড়া হিসাবে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ টাকা পেয়ে থাকেন। জেলা শহরে মূল বেতনের ওপর ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকায় ৩৫ থেকে ৫৫ শতাংশ পান। একইভাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেরও বাড়িভাড়া ভাতা দিতে হবে।

এদিকে সকাল ১০টা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মহাসমাবেশ করেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। দেশের ৬৪ জেলার কয়েক হাজার শিক্ষক এতে অংশ নেন। শিক্ষকদের সমাবেশের কারণে পল্টন থেকে হাইকোর্ট ও শাহবাগ অভিমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সমাবেশ শেষে দুপুর ২টার দিকে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করার কথা থাকলেও তা করেননি শিক্ষকরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ ও উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হওয়ায় শিক্ষকরা বিকেল ৩টার দিকে সমাবেশ শেষ করে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৬ হাজার ৪৪৭টি। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষক এবং ১ লাখ ৭৭ হাজার কর্মচারী।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোংলা নদীতে দশম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ হবে : নৌপরিবহনমন্ত্রী

শিক্ষা উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকার এত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে পারবে না

আপডেট সময় ০৭:০৬:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকার দেশের এমপিওভুক্ত এতসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার।

বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয়করণ প্রসঙ্গে এ কথা জানান তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা ও শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তাদের দেওয়া তথ্যমতে, বৈঠকে শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এমপিওভুক্ত এতসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে পারবে না। এটা অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং ইস্যু। এটা করা ইন্টেরিম গভর্মেন্টের (অন্তর্বর্তী সরকার) পক্ষেও সম্ভব নয়। নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার এটা করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অন্য যেসব দাবি আছে- সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করতে পারি। বাড়িভাড়া, চিকিৎসাভাতা ইত্যাদি অন্তর্বর্তী সরকার বিবেচনা করবে। সেটাও যদি একবারে চাপিয়ে দেন, তাহলে আমরা পারবো না। এটা করতে হবে ধাপে ধাপে। আমরা ধাপে ধাপে শিক্ষকদের সমস্যা ও সংকটগুলো নিসরনের চেষ্টা করবো।

সভায় শিক্ষকরা সর্বজনীন বদলি, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাভাতার বিষয়ে জোর দেন। এর মধ্যে সর্বজনীন বদলির বিষয়টি যাচাই করতে শিক্ষা উপদেষ্টা তাৎক্ষণিক ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করে দেন। আর বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশনা দেন।
জানা যায়, বর্তমানে দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মাসে বাড়িভাড়া বাবদ এক হাজার টাকা পান। আর চিকিৎসাভাতা পান ৫০০ টাকা। এ বাড়িভাড়া আরও এক হাজার বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা এবং চিকিৎসাভাতা ৫০০ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দাবি, সরকারি চাকরিজীবীরা ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় কর্মরত থাকলে বাড়িভাড়া হিসাবে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ টাকা পেয়ে থাকেন। জেলা শহরে মূল বেতনের ওপর ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকায় ৩৫ থেকে ৫৫ শতাংশ পান। একইভাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেরও বাড়িভাড়া ভাতা দিতে হবে।

এদিকে সকাল ১০টা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মহাসমাবেশ করেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। দেশের ৬৪ জেলার কয়েক হাজার শিক্ষক এতে অংশ নেন। শিক্ষকদের সমাবেশের কারণে পল্টন থেকে হাইকোর্ট ও শাহবাগ অভিমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সমাবেশ শেষে দুপুর ২টার দিকে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করার কথা থাকলেও তা করেননি শিক্ষকরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ ও উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হওয়ায় শিক্ষকরা বিকেল ৩টার দিকে সমাবেশ শেষ করে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৬ হাজার ৪৪৭টি। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষক এবং ১ লাখ ৭৭ হাজার কর্মচারী।