ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জনদুর্ভোগ এড়াতে কালভার্টের দাবি বরগুনার ছোট তালতলী গ্রামবাসীর কালিয়াকৈরে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ কুমিল্লায় ৭৫ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি ও পোশাক জব্দ করেছে বিজিবি হ্যারি কেইনকে ডিফেন্সে নামানো ভুল ছিল, টুখেলের সমালোচনায় ট্রাম্প আত্রাইয়ে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই যুবকের কারাদণ্ড  কালীগঞ্জে সতি নদী থেকে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার পরীক্ষা কক্ষে নকলের মহোৎসব! ভিডিও ভাইরাল সাদুল্লাপুরে  কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু ১০৪তম আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে আলোচনা সভা ও চারাগাছ বিতরণ বেরোবির ওয়েবসাইটে মিলছে না শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য, বাড়ছে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

নিজ বাড়ীতে জামদানী শাড়ী তৈরি করে সাড়া ফেলেছেন চাঁদপুরের রনি

নিজ বাড়ীতে জামদানী শাড়ী তৈরি করে সাড়া ফেলেছেন চাঁদপুরের হাইমচরের রনি পাটোয়ারী। তিনি ৩নং দক্ষিণ আলগী দুর্গাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম চর কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। প্রতিনিয়ত নিজ এলাকা ছাড়িয়ে এই জামদানি শাড়ীর চাহিদা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে মরিয়া এই উদ্যোক্তা।

২২ মার্চ শনিবার দিনব্যাপী নিজের একটি দো’চালা টিনের ঘরে ক্ষুদ্র পরিসরে জামদানি শাড়ী তৈরিতে রনির ব্যস্ততা দেখা যায়।

রনির পিতা বিল্লাল পাটোয়ারী বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে পারিবারিক অভাব কাটাতে রনি হাইমচর ছেড়ে পারি জমায় নারায়ণগঞ্জে। পরে সেখানে নানা জায়গায় থেকে জামদানি কাপড় বুনার পুরো কাজ রপ্ত করে সে পুনরায় এলাকায় ফিরে। একাডেমিক পড়াশুনা না থাকলেও এখন এই শাড়ী বিক্রিতেই রনি সংসারের হাল ধরেছে। এতে অনেকটা আপ্লুত আমরা সবাই।

রনির মা সালমা বেগম বলেন, সুতা, নাটাই, কাঠের ফ্রেম, সিজার, কেচিসহ নানা যন্ত্রপাতি দিয়ে একা হাতে এক একটি জামদানী তৈরি করতে রনির ৩/৪ দিন সময় লেগে যাচ্ছে। তাই নানা প্রান্ত থেকে অর্ডার আসলেও তা ডেলিভারি দিতে ওর সময় লেগে যাচ্ছে। যদি সামর্থ্যবানরা এগিয়ে আসতো তাহলে রনির এখানে আরও অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হতো।

জামদানি শাড়ী তৈরির উদ্যোক্তা রনি পাটোয়ারী বলেন, আমাদের ৭ ভাইবোনের মধ্যে এখন পরিবারসহ এলাকায় জামদানি শাড়ী তৈরি করে আমি সাড়া ফেলেছি। তবে এ কাজটিতে আরও অনেকের কর্মসংস্থান তৈরির প্রত্যাশা রয়েছে। এজন্য আমার চাই সরকারি বেসরকারি সাহায্য সহয়তা।

রনি পাটোয়ারী আরও বলেন, আমার তৈরি এক একটি জামদানি শাড়ীর বর্তমান মূল্য ৩৭শ’ টাকা থেকে ৮ হাজার টাকা। তবে যেকারো চাহিদানুযায়ী অর্ডার পেলে ৪/৫ লাখ টাকা দামের জামদানি শাড়ী তৈরিতেও আমি পারদর্শী।আমার এ কাজকে এগিয়ে নিতে আমি সবার দোয়া চাই।

এ বিষয়ে চাঁদপুরের হাইমচরের ৩নং দক্ষিণ আলগী দূর্গাপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান সর্দার আব্দুল জলিল বলেন, রনির জামদানি শাড়ীর এই ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান কে অনেক বড় করতে আমার পরিষদ থেকে সহায়তা থাকবে। আমি চাই এই শিল্প প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যাক।

এ বিষয়ে চাঁদপুরের হাইমচরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে সালমা নাজনীন তৃষা বলেন,প্রশাসনিক বিভিন্ন মেলায় এই জামদানি শাড়ীকে তুলে ধরাসহ এ শিল্পটিকে ছড়িয়ে দিতে রনির এই শিল্প তৎপরতাকে ঘিরে আরও ব্যাপকভাবে কর্মপরিকল্পনা নেয় হবে। ওর যেকোন সহায়তায় উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনদুর্ভোগ এড়াতে কালভার্টের দাবি বরগুনার ছোট তালতলী গ্রামবাসীর

নিজ বাড়ীতে জামদানী শাড়ী তৈরি করে সাড়া ফেলেছেন চাঁদপুরের রনি

আপডেট সময় ০৬:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫

নিজ বাড়ীতে জামদানী শাড়ী তৈরি করে সাড়া ফেলেছেন চাঁদপুরের হাইমচরের রনি পাটোয়ারী। তিনি ৩নং দক্ষিণ আলগী দুর্গাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম চর কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। প্রতিনিয়ত নিজ এলাকা ছাড়িয়ে এই জামদানি শাড়ীর চাহিদা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে মরিয়া এই উদ্যোক্তা।

২২ মার্চ শনিবার দিনব্যাপী নিজের একটি দো’চালা টিনের ঘরে ক্ষুদ্র পরিসরে জামদানি শাড়ী তৈরিতে রনির ব্যস্ততা দেখা যায়।

রনির পিতা বিল্লাল পাটোয়ারী বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে পারিবারিক অভাব কাটাতে রনি হাইমচর ছেড়ে পারি জমায় নারায়ণগঞ্জে। পরে সেখানে নানা জায়গায় থেকে জামদানি কাপড় বুনার পুরো কাজ রপ্ত করে সে পুনরায় এলাকায় ফিরে। একাডেমিক পড়াশুনা না থাকলেও এখন এই শাড়ী বিক্রিতেই রনি সংসারের হাল ধরেছে। এতে অনেকটা আপ্লুত আমরা সবাই।

রনির মা সালমা বেগম বলেন, সুতা, নাটাই, কাঠের ফ্রেম, সিজার, কেচিসহ নানা যন্ত্রপাতি দিয়ে একা হাতে এক একটি জামদানী তৈরি করতে রনির ৩/৪ দিন সময় লেগে যাচ্ছে। তাই নানা প্রান্ত থেকে অর্ডার আসলেও তা ডেলিভারি দিতে ওর সময় লেগে যাচ্ছে। যদি সামর্থ্যবানরা এগিয়ে আসতো তাহলে রনির এখানে আরও অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হতো।

জামদানি শাড়ী তৈরির উদ্যোক্তা রনি পাটোয়ারী বলেন, আমাদের ৭ ভাইবোনের মধ্যে এখন পরিবারসহ এলাকায় জামদানি শাড়ী তৈরি করে আমি সাড়া ফেলেছি। তবে এ কাজটিতে আরও অনেকের কর্মসংস্থান তৈরির প্রত্যাশা রয়েছে। এজন্য আমার চাই সরকারি বেসরকারি সাহায্য সহয়তা।

রনি পাটোয়ারী আরও বলেন, আমার তৈরি এক একটি জামদানি শাড়ীর বর্তমান মূল্য ৩৭শ’ টাকা থেকে ৮ হাজার টাকা। তবে যেকারো চাহিদানুযায়ী অর্ডার পেলে ৪/৫ লাখ টাকা দামের জামদানি শাড়ী তৈরিতেও আমি পারদর্শী।আমার এ কাজকে এগিয়ে নিতে আমি সবার দোয়া চাই।

এ বিষয়ে চাঁদপুরের হাইমচরের ৩নং দক্ষিণ আলগী দূর্গাপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান সর্দার আব্দুল জলিল বলেন, রনির জামদানি শাড়ীর এই ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান কে অনেক বড় করতে আমার পরিষদ থেকে সহায়তা থাকবে। আমি চাই এই শিল্প প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যাক।

এ বিষয়ে চাঁদপুরের হাইমচরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে সালমা নাজনীন তৃষা বলেন,প্রশাসনিক বিভিন্ন মেলায় এই জামদানি শাড়ীকে তুলে ধরাসহ এ শিল্পটিকে ছড়িয়ে দিতে রনির এই শিল্প তৎপরতাকে ঘিরে আরও ব্যাপকভাবে কর্মপরিকল্পনা নেয় হবে। ওর যেকোন সহায়তায় উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে।