ঢাকা ১২:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনে শিক্ষার্থীদের টাকায় অনিয়মের অভিযোগে জেবুন্নেছা বেবিচকে পরামর্শক নিয়োগে আওয়ামী দোসরকে বসাতে যোগ্যতার শর্ত বাদ সিআইডির অভিযানে বিএসবির খায়রুল বাশারের ৩৩ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪৯০ স্পেনের রাষ্ট্রদূত মাসুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ-ক্ষুব্ধ প্রবাসীরা পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে সকাল থেকে বৃষ্টি, থামবে কখন? বন মামলার নথি বদলে ফেলেছে বন সংরক্ষক এ.এস.এম. জহির উদ্দিন ফায়ারের গাড়ি চালক সাখাওয়াতের কোটি কোটি টাকা বন্যা মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

ব্যতিক্রমী আয়োজনে প্রধান শিক্ষকের বিদায়

ব্যতিক্রম আয়োজনে প্রধান শিক্ষকের বিদায়
ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে চাকরি জীবনের শেষ দিনে ফুলে সাজানো গাড়িতে তিন গ্রাম ঘুরিয়ে বিদায় নিয়েছেন শিক্ষক আলতাফ হোসেন। তিনি যশোর সদর উপজেলার বীরনারায়নপুর তের আউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আজ কর্মময় জীবন থেকে তিনি বিদায় নিয়েছেন।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাহাবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার এসএম শামিম হোসেন। উপস্থিত ছিলেন, আরিফুর জামান ছনি, শেখ সাদি, জুয়েল হোসেন, মুরসালিন প্রমুখ। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় করেন নয়ন হোসেন।

এসময় স্থানীয় লেবুতলা, বীরনারায়নপুরসহ কয়েক গ্রামের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিদায়ী শিক্ষককে বিভিন্ন উপহার প্রদান করেন স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

বীরনারায়নপুর তের আউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান বলেন, আমি আলতাফ হোসেন স্যারের ছাত্র ছিলাম। স্যারকে ছুটি নিতে দেখিনি। অসুস্থ থাকলেও স্যার স্কুলে এসেছেন। স্যারের দেওয়া শিক্ষা নিয়ে আজ আমরা নানাভাবে প্রতিষ্ঠিত। স্যার আমাদের আদর্শ। একজন আদর্শ শিক্ষক আজ চাকরি থেকে বিদায় নিলেন। স্যার ভালো থাকুক সব সময়।

ফারিয়া মিম বলেন, ক্লাসে পড়াশোনা সুন্দর করে বোঝাতেন। স্কুল পরিষ্কার করে রাখতেন তিনি। শুধু পড়াশোনা না, বিভিন্ন কারিকুলামে উদ্বুদ্ধ করে।

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আলভি হাসান বলেন, স্যার আমাদের সন্তানের মতো দেখেন। কোনো কারণে স্কুলে আসতে না পারলে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ খবর নিতেন।

সাবেক সভাপতি শওকত হোসেন বলেন, স্কুলের জন্য বিভিন্ন সময় কেনাকাটা করেছি। এক টাকা অতিরিক্ত খরচ করতেন না। তিনি সৎ মানুষ ছিলেন।

এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন বিদায়ী শিক্ষক আলতাফ হোসেন। তিনি বলেন, ১৯৮৯ সালের আগস্ট মাসে স্থানীয় কয়েকজন মিলে উদ্যোগ নিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠা করি। আমি চেষ্টা করেছি কোনো ধরনের বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ছুটি না নিতে। শিক্ষার্থীদের সবসময় পড়াশোনার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছি। পরিশেষে কর্মময় জীবনে কোনো ধরনের ভুলত্রুটি করে থাকলে সবার কাছ ক্ষমা প্রার্থনা করছি। বাকী জীবন পরিবার-পরিজন নিয়ে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অতিবাহিত করতে পারি সবার কাছে দোয়া কামনা করছি। আমার চাকরি জীবনের শেষ দিনে সুন্দর অনাড়ম্বরের মধ্য দিয়ে বিদায় হবে যা ছিল কল্পনাতীত। এটা আমার জীবনের অনেক বড় প্রাপ্তি। যা বাকি জীবনটুকু মনে রাখার মতো। সবার জন্য অনেক দোয়া ও শুভকা করি।
শিক্ষক আলতাফ হোসেন উপজেলার বীরনারায়নপুর গ্রামের আজিম উদ্দিন এর ছেলে। তিনি ১৯৮৯ সালের আগস্ট মাসে চাকরিতে যোগদান করেছিলেন। দাম্পত্য জীবনে স্ত্রী, এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ে আছে। তিনি ছিলেন ক্রীড়া সংগঠক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব। কর্মময় জীবনে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষা দিয়েছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনে শিক্ষার্থীদের টাকায় অনিয়মের অভিযোগে জেবুন্নেছা

ব্যতিক্রমী আয়োজনে প্রধান শিক্ষকের বিদায়

আপডেট সময় ০৪:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ব্যতিক্রম আয়োজনে প্রধান শিক্ষকের বিদায়
ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে চাকরি জীবনের শেষ দিনে ফুলে সাজানো গাড়িতে তিন গ্রাম ঘুরিয়ে বিদায় নিয়েছেন শিক্ষক আলতাফ হোসেন। তিনি যশোর সদর উপজেলার বীরনারায়নপুর তের আউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আজ কর্মময় জীবন থেকে তিনি বিদায় নিয়েছেন।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাহাবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার এসএম শামিম হোসেন। উপস্থিত ছিলেন, আরিফুর জামান ছনি, শেখ সাদি, জুয়েল হোসেন, মুরসালিন প্রমুখ। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় করেন নয়ন হোসেন।

এসময় স্থানীয় লেবুতলা, বীরনারায়নপুরসহ কয়েক গ্রামের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিদায়ী শিক্ষককে বিভিন্ন উপহার প্রদান করেন স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

বীরনারায়নপুর তের আউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান বলেন, আমি আলতাফ হোসেন স্যারের ছাত্র ছিলাম। স্যারকে ছুটি নিতে দেখিনি। অসুস্থ থাকলেও স্যার স্কুলে এসেছেন। স্যারের দেওয়া শিক্ষা নিয়ে আজ আমরা নানাভাবে প্রতিষ্ঠিত। স্যার আমাদের আদর্শ। একজন আদর্শ শিক্ষক আজ চাকরি থেকে বিদায় নিলেন। স্যার ভালো থাকুক সব সময়।

ফারিয়া মিম বলেন, ক্লাসে পড়াশোনা সুন্দর করে বোঝাতেন। স্কুল পরিষ্কার করে রাখতেন তিনি। শুধু পড়াশোনা না, বিভিন্ন কারিকুলামে উদ্বুদ্ধ করে।

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আলভি হাসান বলেন, স্যার আমাদের সন্তানের মতো দেখেন। কোনো কারণে স্কুলে আসতে না পারলে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ খবর নিতেন।

সাবেক সভাপতি শওকত হোসেন বলেন, স্কুলের জন্য বিভিন্ন সময় কেনাকাটা করেছি। এক টাকা অতিরিক্ত খরচ করতেন না। তিনি সৎ মানুষ ছিলেন।

এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন বিদায়ী শিক্ষক আলতাফ হোসেন। তিনি বলেন, ১৯৮৯ সালের আগস্ট মাসে স্থানীয় কয়েকজন মিলে উদ্যোগ নিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠা করি। আমি চেষ্টা করেছি কোনো ধরনের বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ছুটি না নিতে। শিক্ষার্থীদের সবসময় পড়াশোনার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছি। পরিশেষে কর্মময় জীবনে কোনো ধরনের ভুলত্রুটি করে থাকলে সবার কাছ ক্ষমা প্রার্থনা করছি। বাকী জীবন পরিবার-পরিজন নিয়ে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অতিবাহিত করতে পারি সবার কাছে দোয়া কামনা করছি। আমার চাকরি জীবনের শেষ দিনে সুন্দর অনাড়ম্বরের মধ্য দিয়ে বিদায় হবে যা ছিল কল্পনাতীত। এটা আমার জীবনের অনেক বড় প্রাপ্তি। যা বাকি জীবনটুকু মনে রাখার মতো। সবার জন্য অনেক দোয়া ও শুভকা করি।
শিক্ষক আলতাফ হোসেন উপজেলার বীরনারায়নপুর গ্রামের আজিম উদ্দিন এর ছেলে। তিনি ১৯৮৯ সালের আগস্ট মাসে চাকরিতে যোগদান করেছিলেন। দাম্পত্য জীবনে স্ত্রী, এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ে আছে। তিনি ছিলেন ক্রীড়া সংগঠক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব। কর্মময় জীবনে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষা দিয়েছেন।