ঢাকা ০৯:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বন মামলার নথি বদলে ফেলেছে বন সংরক্ষক এ.এস.এম. জহির উদ্দিন ফায়ারের গাড়ি চালক সাখাওয়াতের কোটি কোটি টাকা বন্যা মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. পাভেলকে দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামার আগে সেরা খেলোয়াড়কে হারাল সুইজারল্যান্ড ফরিদপুরে বাসচাপায় নিহত ৪ ‘জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে’ : ব্রাহ্মণপাড়ায় এমপি জসিম উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের দামে ধস

বকশীগঞ্জে অন্ত:সত্ত্বার খবর শুনে স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

ফেসবুকে পরিচয়, তারপর প্রেম, অতঃপর বিয়ে এরপর হয় অন্ত:সত্ত্বা। এই খবর শুনে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামালপুরের বকশীগঞ্জে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে। তালাকের খবর শুনে ভুক্তভোগী ওই নারী সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলে পুনরায় ভুয়া কাবিন নামা করে ওই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহবায়ক ও পৌর এলাকার টিকরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন শেফালী বেগম (৩৮) নামে এক নারী।
পৌর এলাকার মাঝপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে শেফালী বেগম বলেন, ২০২৩ সালে জীবিকার তাগিদে আমি সৌদি আরবে যাই। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় টিকরকান্দি গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মামুনের সঙ্গে আমার ফেসবুকে পরিচয় হয়। পরে আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। এক পর্যায়ে মামুন আমাকে বিয়ের কথা বলে আমাকে দেশে ফিরে আসতে বলেন।
আমি তার কথায় বিশ্বাস করে দেশে ফিরলে সে আমাকে গত বছরের ২৪ জুন কাবিনমূলে বিয়ে করেন। বিয়ের পর জানতে পারি সে বিবাহিত। আমি তাকে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে সে বাড়িতে না নিয়ে উল্টো আমার কাছ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেন এবং আমাকে বাচ্চা নিতে বলেন।
পরে আমি অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি তাকে জানাই। এখবর শুনেই তিনি রেগে যান পেটের বাচ্চা নষ্ট করতে বলেন। আমি বাচ্চা নষ্ট করতে না চাইলে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর আমাকে গোপনে তালাক প্রদান করে আমার কাছে তালাকনামা পাঠান। আমি এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে চাইলে লোক মারফতে খবর পেয়ে গত ১ জানুয়ারি মামুন আবারও আমাকে শ্রীবরদী উপজেলার এক কাজীর মাধ্যমে বিয়ে করেন।
পরে জানতে পারি এই কাবিনটিও ছিল ভুয়া। এভাবেই মামুন আমাকে বার বার প্রতারিত করেন। বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। আমি বর্তমানে ৪ মাসের অন্ত:সত্ত্বা। আমি আমার স্বামীর অধিকার চাই, আমার অনাগত সন্তানের স্বীকৃতি চাই। এবিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন শেফালী বেগম।
এবিষয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন তালাক দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন কিন্তু টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
বকশীগঞ্জ থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, এঘটনায় কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বন মামলার নথি বদলে ফেলেছে বন সংরক্ষক এ.এস.এম. জহির উদ্দিন

বকশীগঞ্জে অন্ত:সত্ত্বার খবর শুনে স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

আপডেট সময় ০৮:১৬:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ফেসবুকে পরিচয়, তারপর প্রেম, অতঃপর বিয়ে এরপর হয় অন্ত:সত্ত্বা। এই খবর শুনে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামালপুরের বকশীগঞ্জে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে। তালাকের খবর শুনে ভুক্তভোগী ওই নারী সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলে পুনরায় ভুয়া কাবিন নামা করে ওই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহবায়ক ও পৌর এলাকার টিকরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন শেফালী বেগম (৩৮) নামে এক নারী।
পৌর এলাকার মাঝপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে শেফালী বেগম বলেন, ২০২৩ সালে জীবিকার তাগিদে আমি সৌদি আরবে যাই। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় টিকরকান্দি গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মামুনের সঙ্গে আমার ফেসবুকে পরিচয় হয়। পরে আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। এক পর্যায়ে মামুন আমাকে বিয়ের কথা বলে আমাকে দেশে ফিরে আসতে বলেন।
আমি তার কথায় বিশ্বাস করে দেশে ফিরলে সে আমাকে গত বছরের ২৪ জুন কাবিনমূলে বিয়ে করেন। বিয়ের পর জানতে পারি সে বিবাহিত। আমি তাকে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে সে বাড়িতে না নিয়ে উল্টো আমার কাছ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেন এবং আমাকে বাচ্চা নিতে বলেন।
পরে আমি অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি তাকে জানাই। এখবর শুনেই তিনি রেগে যান পেটের বাচ্চা নষ্ট করতে বলেন। আমি বাচ্চা নষ্ট করতে না চাইলে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর আমাকে গোপনে তালাক প্রদান করে আমার কাছে তালাকনামা পাঠান। আমি এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে চাইলে লোক মারফতে খবর পেয়ে গত ১ জানুয়ারি মামুন আবারও আমাকে শ্রীবরদী উপজেলার এক কাজীর মাধ্যমে বিয়ে করেন।
পরে জানতে পারি এই কাবিনটিও ছিল ভুয়া। এভাবেই মামুন আমাকে বার বার প্রতারিত করেন। বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। আমি বর্তমানে ৪ মাসের অন্ত:সত্ত্বা। আমি আমার স্বামীর অধিকার চাই, আমার অনাগত সন্তানের স্বীকৃতি চাই। এবিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন শেফালী বেগম।
এবিষয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন তালাক দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন কিন্তু টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
বকশীগঞ্জ থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, এঘটনায় কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।