ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বেরোবিতে ১৫ বছর পর প্রভাষক পদ ফিরে দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত রাজশাহীর মোঃ গোলাম রব্বানী ১৫ বছর ধরে অপেক্ষার পর অবশেষে ন্যায়বিচার পেলেন। সম্প্রতি হাইকোর্ট তার পক্ষে একটি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।

গোলাম রব্বানী জানান, ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত নিয়োগ বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করার পরও, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তার নিয়োগপত্র গ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। একই নামের আরেক প্রার্থীকে সুকৌশলে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে তার অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, তৎকালীন উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রার তার যোগদানপত্র গ্রহণে টালবাহানা করেন। রব্বানী বারবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কোনো প্রতিকার পাননি।

বর্তমান প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখে গত বছরের শেষ দিকে রব্বানী আবার আবেদন করেন। হাইকোর্ট তার আবেদন গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে নির্দেশ দেন, তাকে প্রভাষক পদে যোগদান করানোর পাশাপাশি ১৫ বছরের সব বকেয়া সুবিধাও প্রদান করতে।

গোলাম রব্বানী অসহায়ত্বের চিত্তে বলেন, “আমার ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে পনেরো বছর সময় লেগেছে। আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে এবং আমার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে। যারা অন্যায়ভাবে আমার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

দেশের সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সচেতন নাগরিকদের প্রতি তার আহ্বান, বৈষম্যবিরোধী এই রায়ের মাধ্যমে যেন অন্যায়কারী ব্যক্তিদের মুখোশ উন্মোচিত হয় এবং ভবিষ্যতে আর কেউ যেন এমন অন্যায়ের শিকার না হন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সামান্য হাইকোর্টের যে নির্দেশনা এসেছেন তাহা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চলতি বছরে ২২ ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ, বড় সুযোগ বললেন মিরাজ

বেরোবিতে ১৫ বছর পর প্রভাষক পদ ফিরে দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

আপডেট সময় ১২:২৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৫

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত রাজশাহীর মোঃ গোলাম রব্বানী ১৫ বছর ধরে অপেক্ষার পর অবশেষে ন্যায়বিচার পেলেন। সম্প্রতি হাইকোর্ট তার পক্ষে একটি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।

গোলাম রব্বানী জানান, ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত নিয়োগ বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করার পরও, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তার নিয়োগপত্র গ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। একই নামের আরেক প্রার্থীকে সুকৌশলে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে তার অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, তৎকালীন উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রার তার যোগদানপত্র গ্রহণে টালবাহানা করেন। রব্বানী বারবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কোনো প্রতিকার পাননি।

বর্তমান প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখে গত বছরের শেষ দিকে রব্বানী আবার আবেদন করেন। হাইকোর্ট তার আবেদন গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে নির্দেশ দেন, তাকে প্রভাষক পদে যোগদান করানোর পাশাপাশি ১৫ বছরের সব বকেয়া সুবিধাও প্রদান করতে।

গোলাম রব্বানী অসহায়ত্বের চিত্তে বলেন, “আমার ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে পনেরো বছর সময় লেগেছে। আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে এবং আমার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে। যারা অন্যায়ভাবে আমার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

দেশের সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সচেতন নাগরিকদের প্রতি তার আহ্বান, বৈষম্যবিরোধী এই রায়ের মাধ্যমে যেন অন্যায়কারী ব্যক্তিদের মুখোশ উন্মোচিত হয় এবং ভবিষ্যতে আর কেউ যেন এমন অন্যায়ের শিকার না হন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সামান্য হাইকোর্টের যে নির্দেশনা এসেছেন তাহা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।