ঢাকা ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমন্বিত প্রচেষ্টায় ৪-৫ বছরেই অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী ঢাকাসহ সারাদেশে হঠাৎ সর্বোচ্চ সতর্কতা জা‌রি করলো পুলিশ সদর দপ্তর ৭ কেজি সোনা নিয়ে ভারতে ঢুকতে গিয়ে ধরা পড়লেন যুবক অপরিকল্পিত কেনাকাটায় অচল কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রবাসীর স্ত্রীর গোসলের ভিডিও করে ধরা খেলেন শফিকুল বিএনপি ব্যর্থ হলে দেশে কেউ বাস করতে পারবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্বাহী পরিচালকদের দায়িত্ব বাড়াল বিএসইসি মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলাজট কমিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব: আইনমন্ত্রী ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতি দেওয়া যাবে না : ট্রাম্প শিবগঞ্জ সীমান্তে ২৬ লাখ টাকার ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশ জব্দ

মদের দোকানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের উপপরিচালক অবরুদ্ধ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় অনুমোদিত দেশীয় মদের দোকানে (পাট্টায়) চাঁদা দাবি করায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের উপপরিচালক মিজানুর রহমান শরীফসহ ৫-৭ জনকে একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। উপজেলার লংলা চা বাগানে বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

বাগানের শ্রমিকসহ দোকানের মালিক তাদের ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। ওই মদের দোকানের মালিক নবনির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রাজু কালোয়ারের ভাই সাজু কালোয়ার মিটুন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপপরিচালক মিজানুর রহমান শরীফ ও মাদকদ্রব্যের সহকারী প্রসিকিউটর সোয়েব রহমানের নেতৃত্বে সন্ধ্যায় পরিদর্শনের নামে সেখানে অভিযান চালানো হয়। তারা দোকান মালিক মিটুনের কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে মদের পাট্টাটি সিলগালা করে দেওয়ার হুমকি দেন মিজানুর রহমান।

এ সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মিঠুনের ওপর চড়াও হন ওই মাদকদ্রব্য কর্মকর্তা। এতে উপস্থিত মদপায়ী চা শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। চাঁদা দাবির কথা শুনে তারা মাদকদ্রব্য টিমকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। সেই সময় মাদকদ্রব্য টিমকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য উপপরিচালক মিজানুর রহমান পরিদর্শনের একটি লিখিত দেন। কিন্তু উত্তেজিত শ্রমিকরা তা প্রত্যাখ্যান করে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি করেন। পরে রাত ১০টার দিকে এসআই আমির উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত শ্রমিকদের শান্ত করে তাদের উদ্ধার করেন।

ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপপরিচালক মিজানুর রহমান বিষয়টি তেমন কিছু নয় দাবি করে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। জেলায় অনেক সাংবাদিকের সঙ্গে তার সম্পর্ক আছে বলে অহমিকা দেখান।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. ঊর্মি বিনতে সালাম জানান, বিষয়টি আমাকে কেউ জানাননি। তবে খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে মিজানুর রহমান শরীফের বিরুদ্ধে ঘুস চাওয়ার অভিযোগ এনে চা-বাগানের লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীরা মহাপরিচালককে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সমন্বিত প্রচেষ্টায় ৪-৫ বছরেই অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

মদের দোকানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের উপপরিচালক অবরুদ্ধ

আপডেট সময় ১০:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় অনুমোদিত দেশীয় মদের দোকানে (পাট্টায়) চাঁদা দাবি করায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের উপপরিচালক মিজানুর রহমান শরীফসহ ৫-৭ জনকে একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। উপজেলার লংলা চা বাগানে বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

বাগানের শ্রমিকসহ দোকানের মালিক তাদের ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। ওই মদের দোকানের মালিক নবনির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রাজু কালোয়ারের ভাই সাজু কালোয়ার মিটুন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপপরিচালক মিজানুর রহমান শরীফ ও মাদকদ্রব্যের সহকারী প্রসিকিউটর সোয়েব রহমানের নেতৃত্বে সন্ধ্যায় পরিদর্শনের নামে সেখানে অভিযান চালানো হয়। তারা দোকান মালিক মিটুনের কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে মদের পাট্টাটি সিলগালা করে দেওয়ার হুমকি দেন মিজানুর রহমান।

এ সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মিঠুনের ওপর চড়াও হন ওই মাদকদ্রব্য কর্মকর্তা। এতে উপস্থিত মদপায়ী চা শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। চাঁদা দাবির কথা শুনে তারা মাদকদ্রব্য টিমকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। সেই সময় মাদকদ্রব্য টিমকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য উপপরিচালক মিজানুর রহমান পরিদর্শনের একটি লিখিত দেন। কিন্তু উত্তেজিত শ্রমিকরা তা প্রত্যাখ্যান করে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি করেন। পরে রাত ১০টার দিকে এসআই আমির উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত শ্রমিকদের শান্ত করে তাদের উদ্ধার করেন।

ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপপরিচালক মিজানুর রহমান বিষয়টি তেমন কিছু নয় দাবি করে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। জেলায় অনেক সাংবাদিকের সঙ্গে তার সম্পর্ক আছে বলে অহমিকা দেখান।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. ঊর্মি বিনতে সালাম জানান, বিষয়টি আমাকে কেউ জানাননি। তবে খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে মিজানুর রহমান শরীফের বিরুদ্ধে ঘুস চাওয়ার অভিযোগ এনে চা-বাগানের লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীরা মহাপরিচালককে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন।