ঢাকা ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমন্বিত প্রচেষ্টায় ৪-৫ বছরেই অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী ঢাকাসহ সারাদেশে হঠাৎ সর্বোচ্চ সতর্কতা জা‌রি করলো পুলিশ সদর দপ্তর ৭ কেজি সোনা নিয়ে ভারতে ঢুকতে গিয়ে ধরা পড়লেন যুবক অপরিকল্পিত কেনাকাটায় অচল কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রবাসীর স্ত্রীর গোসলের ভিডিও করে ধরা খেলেন শফিকুল বিএনপি ব্যর্থ হলে দেশে কেউ বাস করতে পারবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্বাহী পরিচালকদের দায়িত্ব বাড়াল বিএসইসি মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলাজট কমিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব: আইনমন্ত্রী ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতি দেওয়া যাবে না : ট্রাম্প শিবগঞ্জ সীমান্তে ২৬ লাখ টাকার ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশ জব্দ

গণপূর্তের ইএম কারখানা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফের ভুয়া বিল ও কমিশন বাণিজ্য

গণপূর্তের ইএম কারখানা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, ভুয়া বিল, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ ভাগাভাগি করে অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৌশলী ইউসুফ আওয়ামী বিরোধী বিএনপি-জামায়াতপন্থি প্রকৌশলীদের ঠিকাদারদের মাধ্যমে সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। এসব সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রকৌশলী ইউসুফ। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তিনি কমিশন ছাড়া কাজ করেন না এবং নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখেন।

ইউসুফের বিরুদ্ধে কাজ না করেই অনেক প্রকল্প থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি বেশির ভাগ টাকা নিয়েছেন এবং বাকিটা সিন্ডিকেট সদস্যদের মধ্যে ভাগাভাগি করেছেন বলে জানা গেছে। ইতঃপূর্বে ইউসুফের বিরুদ্ধে একজন ঠিকাদার পাওনা আদায়ে থানায় অভিযোগ দাখিল করেছিল। তারপর তড়িঘড়ি করে ওই ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করেছিল বলে জানা গেছে। অভিযোগ আছে, ওই ঠিকাদারকে থানার অভিযোগ উঠিয়ে নিতে বাধ্য করেন ইউসুফ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ঠিকাদার বলেন, মোঃ ইউসুফ মূলত নিজস্ব সিন্ডিকেটের ঠিকাদারদের দিয়ে কাজ করিয়ে থাকেন, ফলে কাজ না করে বা কাজ বেশি দেখিয়ে বিল উঠালেও প্রমাণ গায়েব করতে সহজ হয়।

ঠিকাদার বিহারী কাওসার এবং নাজমা এন্টারপ্রাইজ এর সাথে ইউসুফের সখ্যতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, আগারগাঁও এ সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্পে একজন ঠিকাদারের নিকট থেকে বাধ্যতামূলক ভাবে বিল আটকিয়ে ৩৫ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করেছে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ।

জানা যায়, বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীর শামিম আক্তারের অত্যন্ত আস্থাভাজন মো. ইউসুফ। তার তৈরি করা সিন্ডিকেট গণপূর্ত অধিদপ্তরে এতটাই ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছে যে তাহারা ধরাকে সরাজ্ঞান করেছে। নিয়োগ, বদলি ও পদায়ন এসবের নেপথ্য ভূমিকা রাখে এই সিন্ডিকেট। শত শত কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে এরা সাপণ্ডলুডু খেলছে। কমিশনের বিনিময় সিন্ডিকেটের ঠিকাদারদের কাজ দিতে তৎপর এসব সিন্ডিকেট।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে, একাধিক বার ফোন করলেও প্রকৌশলী মো. ইউসুফ ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপ ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তার উত্তর দেননি।

গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী শামিম আক্তার বলেন, কেউ দুর্নীতি করলে তা সমর্থনযোগ্য নয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রকৌশলী ইউসুফ অফিসে বসেন না বা কারো ফোন ধরেন না এই প্রশ্নের জবাবে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, অবশ্যই অফিসে বসা উচিত এবং আত্মপক্ষের সমর্থন হিসেবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেয়া সবারই দায়িত্ব।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সমন্বিত প্রচেষ্টায় ৪-৫ বছরেই অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

গণপূর্তের ইএম কারখানা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফের ভুয়া বিল ও কমিশন বাণিজ্য

আপডেট সময় ১২:০১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

গণপূর্তের ইএম কারখানা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, ভুয়া বিল, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ ভাগাভাগি করে অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৌশলী ইউসুফ আওয়ামী বিরোধী বিএনপি-জামায়াতপন্থি প্রকৌশলীদের ঠিকাদারদের মাধ্যমে সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। এসব সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রকৌশলী ইউসুফ। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তিনি কমিশন ছাড়া কাজ করেন না এবং নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখেন।

ইউসুফের বিরুদ্ধে কাজ না করেই অনেক প্রকল্প থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি বেশির ভাগ টাকা নিয়েছেন এবং বাকিটা সিন্ডিকেট সদস্যদের মধ্যে ভাগাভাগি করেছেন বলে জানা গেছে। ইতঃপূর্বে ইউসুফের বিরুদ্ধে একজন ঠিকাদার পাওনা আদায়ে থানায় অভিযোগ দাখিল করেছিল। তারপর তড়িঘড়ি করে ওই ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করেছিল বলে জানা গেছে। অভিযোগ আছে, ওই ঠিকাদারকে থানার অভিযোগ উঠিয়ে নিতে বাধ্য করেন ইউসুফ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ঠিকাদার বলেন, মোঃ ইউসুফ মূলত নিজস্ব সিন্ডিকেটের ঠিকাদারদের দিয়ে কাজ করিয়ে থাকেন, ফলে কাজ না করে বা কাজ বেশি দেখিয়ে বিল উঠালেও প্রমাণ গায়েব করতে সহজ হয়।

ঠিকাদার বিহারী কাওসার এবং নাজমা এন্টারপ্রাইজ এর সাথে ইউসুফের সখ্যতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, আগারগাঁও এ সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্পে একজন ঠিকাদারের নিকট থেকে বাধ্যতামূলক ভাবে বিল আটকিয়ে ৩৫ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করেছে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ।

জানা যায়, বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীর শামিম আক্তারের অত্যন্ত আস্থাভাজন মো. ইউসুফ। তার তৈরি করা সিন্ডিকেট গণপূর্ত অধিদপ্তরে এতটাই ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছে যে তাহারা ধরাকে সরাজ্ঞান করেছে। নিয়োগ, বদলি ও পদায়ন এসবের নেপথ্য ভূমিকা রাখে এই সিন্ডিকেট। শত শত কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে এরা সাপণ্ডলুডু খেলছে। কমিশনের বিনিময় সিন্ডিকেটের ঠিকাদারদের কাজ দিতে তৎপর এসব সিন্ডিকেট।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে, একাধিক বার ফোন করলেও প্রকৌশলী মো. ইউসুফ ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপ ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তার উত্তর দেননি।

গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী শামিম আক্তার বলেন, কেউ দুর্নীতি করলে তা সমর্থনযোগ্য নয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রকৌশলী ইউসুফ অফিসে বসেন না বা কারো ফোন ধরেন না এই প্রশ্নের জবাবে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, অবশ্যই অফিসে বসা উচিত এবং আত্মপক্ষের সমর্থন হিসেবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেয়া সবারই দায়িত্ব।