ঢাকা ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মা হলো পাগলী, বাবা হয়নি কেউ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রবিবার (৫ নভেম্বর) ভোর ৫টায় কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছেন ভারসাম্যহীন এক নারী।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই কন্যাকে দেখতে কৌতূহল মানুষের ভিড় জমে। চিকিৎসক ও সেবিকাদের আন্তরিকতায় ফুটফুটে এই কন্যা দেখে ভবঘুরে পাগলির মুখে হাসি ফুটলেও বাবা হয়নি কেউ।

এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঐ মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর সম্পর্কে কোন তথ্যই পাওয়া যায় নি।

তাহিরপুর বাজার কমিটি ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন নারী (পাগলী) উপজেলার সদর ইউনিয়নের তাহিরপুর বাজারে অন্তঃসত্তা হয়ে গত কয়েকদিন ধরে হঠাৎ করে অবস্থান শুরু করে। বাজারের যেখানে ইচ্ছে হয় সে সেখানেই অবস্থান করে। আর বাজারে আগত মানুষজন ও হোটেলগুলো থেকে যে খাবার দিত তাই খেয়ে সে চলতো।

এদিকে তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন স্থানীয় সবার নজরে পরে, রাত ৩ টায় মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর (পাগলী) প্রসব ব্যাথা উঠলে তাকে বাজার কমিটির দায়িত্বশীল লোকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে ভোর ৫টায় ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তান ভূমিষ্ট হয়। বর্তমানে ঐ মানসিক ভারসাম্যহীন নারী (পাগলী) ও ভূমিষ্ট হওয়া বাচ্চা তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। সদ্য ভূমিষ্ট শিশুটি ও মানসিক ভারসাম্যহীন নারী সুস্থ অবস্থায় রয়েছে বলে জানান হাসপাতালের কতব্যর্রত চিকিৎসকগন।

তাহিরপুর বাজার বনিক সমিতির সভাপতি সেলিম আখঞ্জী জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন নারী (পাগলী) অন্তঃসত্তা হয়ে গত কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই কোথা থেকে এসে বাজারে অবস্থান শুরু করে। রাত ৩টার দিকে প্রসব ব্যাথা উঠলে আমি ফোন করে বাজারের পাহারাদার ও লোকজন পাঠিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাই। পরে একটি একটি মেয়ে ভূমিষ্ট হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত সেবিকারা জানান, মেয়ে সন্তান হওয়ায় অনেকে শিশুটিকে নিতে চাচ্ছেন না, অনেকে ছেলে ভেবে হাসপাতালে আসেন নেওয়ার জন্য মেয়ে দেখে সবাই চলে যান, মা ও শিশুর সেবায় সব সময় আমরা নিয়োজিত রয়েছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ মির্জা রিয়াদ হাসান জানান, সদ্য ভূমিষ্ট শিশু ও মা ভাল আছে কোন সমস্যা নেই। মা ও শিশুটি এখন আমাদের কাছে পর্যবেক্ষনে রয়েছে। হাসপাতালের একটি রুমে মা ও স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে বাচ্চা শিশুটিকে রাখা হয়েছে। সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও নার্স তাদের সেবায় নিয়োজিত আছেন। মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগলী) মা যেন পালিয়ে যেতে না পারেন তারও খেয়াল রাখার জন্য বলা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রশাসন যে ব্যবস্থা নেয় সে ভাবেই পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুপ্রভাত চাকমা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শিশুটিকে সুস্থ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মা হলো পাগলী, বাবা হয়নি কেউ

আপডেট সময় ০৫:১৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৩

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রবিবার (৫ নভেম্বর) ভোর ৫টায় কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছেন ভারসাম্যহীন এক নারী।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই কন্যাকে দেখতে কৌতূহল মানুষের ভিড় জমে। চিকিৎসক ও সেবিকাদের আন্তরিকতায় ফুটফুটে এই কন্যা দেখে ভবঘুরে পাগলির মুখে হাসি ফুটলেও বাবা হয়নি কেউ।

এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঐ মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর সম্পর্কে কোন তথ্যই পাওয়া যায় নি।

তাহিরপুর বাজার কমিটি ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন নারী (পাগলী) উপজেলার সদর ইউনিয়নের তাহিরপুর বাজারে অন্তঃসত্তা হয়ে গত কয়েকদিন ধরে হঠাৎ করে অবস্থান শুরু করে। বাজারের যেখানে ইচ্ছে হয় সে সেখানেই অবস্থান করে। আর বাজারে আগত মানুষজন ও হোটেলগুলো থেকে যে খাবার দিত তাই খেয়ে সে চলতো।

এদিকে তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন স্থানীয় সবার নজরে পরে, রাত ৩ টায় মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর (পাগলী) প্রসব ব্যাথা উঠলে তাকে বাজার কমিটির দায়িত্বশীল লোকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে ভোর ৫টায় ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তান ভূমিষ্ট হয়। বর্তমানে ঐ মানসিক ভারসাম্যহীন নারী (পাগলী) ও ভূমিষ্ট হওয়া বাচ্চা তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। সদ্য ভূমিষ্ট শিশুটি ও মানসিক ভারসাম্যহীন নারী সুস্থ অবস্থায় রয়েছে বলে জানান হাসপাতালের কতব্যর্রত চিকিৎসকগন।

তাহিরপুর বাজার বনিক সমিতির সভাপতি সেলিম আখঞ্জী জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন নারী (পাগলী) অন্তঃসত্তা হয়ে গত কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই কোথা থেকে এসে বাজারে অবস্থান শুরু করে। রাত ৩টার দিকে প্রসব ব্যাথা উঠলে আমি ফোন করে বাজারের পাহারাদার ও লোকজন পাঠিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাই। পরে একটি একটি মেয়ে ভূমিষ্ট হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত সেবিকারা জানান, মেয়ে সন্তান হওয়ায় অনেকে শিশুটিকে নিতে চাচ্ছেন না, অনেকে ছেলে ভেবে হাসপাতালে আসেন নেওয়ার জন্য মেয়ে দেখে সবাই চলে যান, মা ও শিশুর সেবায় সব সময় আমরা নিয়োজিত রয়েছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ মির্জা রিয়াদ হাসান জানান, সদ্য ভূমিষ্ট শিশু ও মা ভাল আছে কোন সমস্যা নেই। মা ও শিশুটি এখন আমাদের কাছে পর্যবেক্ষনে রয়েছে। হাসপাতালের একটি রুমে মা ও স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে বাচ্চা শিশুটিকে রাখা হয়েছে। সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও নার্স তাদের সেবায় নিয়োজিত আছেন। মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগলী) মা যেন পালিয়ে যেতে না পারেন তারও খেয়াল রাখার জন্য বলা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রশাসন যে ব্যবস্থা নেয় সে ভাবেই পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুপ্রভাত চাকমা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শিশুটিকে সুস্থ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।