ঢাকা ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আলোচিত বিনোদপুর স্কুল প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগের মূল রহস্য উদঘাটন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর স্কুল প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত (২৩ আগস্ট) বুধবার দেশ বাংলা ও গত (১ সেপ্টেম্বর) দৈনিক গৌড় বাংলা পত্রিকায় ও বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে একই সংবাদ বিভিন্ন শিরোনাম প্রকাশিত হয়। উক্ত সংবাদটি মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন একটি কুচক্রী মহল নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গণমাধ্যম কর্মী দেরকে ব্যবহার করে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেন, বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে আমাদের অনুসন্ধান টিম সেখানে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান ও অন্যান্য শিক্ষকগণের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং বিনোদপুর ইউনিয়নের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে ও বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে সাক্ষাৎ করেন। বুদ্ধিমত্তা ও কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে স্কুল প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের মূল রহস্য বের করেন।

অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক জিয়াউল হক শিবগঞ্জে জমি কেনার জন্য বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাব্বির উদ্দিন এর কাছ থেকে ৭ লক্ষ টাকা দাবি করেন, ওই টাকা দিতে না পারায় জিয়াউল হক সাব্বিরুউদ্দিন কে নানাভাবে হয়রানি করেন এবং তিনি ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ফাইল আটকে রেখেছেন।

একইভাবে আরো কয়েকটি স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে নিজের পছন্দের লোকজনকে বসিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সাব্বিরুউদ্দিন এসব নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক জিয়াউল হককে ঘুষ না দিলেই বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের হেনস্থা ও হয়রানি করা হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি করতে প্রতিষ্ঠান থেকে বিধি অনুযায়ী যে তিনজনের নাম দেন, সেটি পরিবর্তন করে ঘুষের বিনিময়ে অন্যদের নাম নিয়ে কমিটি অনুমোদন দেন ।

একইভাবে শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট উচ্চ বিদ্যালয় তেলকুপি উচ্চ বিদ্যালয়, দাই পুকুরিয়া ইউনিয়ন কাউন্সিল উচ্চ বিদ্যালয় আরো কয়েকটি স্কুল প্রধানদের সাথে অসাদাচরণ করেন তিনি।

এদিকে অনুসন্ধানে দেখা গেছে এর আগে গত বছরের অক্টোবরে শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শামীম রেজা কে সভাপতি করে গত বছরের (১ নভেম্বর) কমিটি অনুমোদন দেন। তেলকুপি উচ্চ বিদ্যালয়ে ইমরান হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক সাব্বির উদ্দিন বলেন শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক জিয়াউল হককে ঘুষ না দেওয়ায়, আমার বিদ্যালয়ের কমিটি অনুমোদন না দিয়ে ফাইল আটকে রাখেন। এবং আমাকে বিভিন্নভাবে হেনস্থা ও হয়রানি করছেন।

বিনোদপুর ইউনিয়নের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকগণ এবং বিনোদপুরের সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ সবাই এক বাক্যে স্বীকারোক্তি দিচ্ছে যে, পরিদর্শক জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ করার কারণে, একটি কুচক্রী মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য স্কুল প্রধান সাব্বির উদ্দিন কে কর্মক্ষেত্রে ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে গণমাধ্যম কর্মীদেরকে ব্যবহার করে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করছেন।

উল্লেখ্য, দৈনিক ভোরের কুমিল্লা অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক সৌরভ কয়েক মাস আগে প্রধান শিক্ষকের কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছিল। প্রধান শিক্ষক টাকা দিতে রাজি না হয়ে উল্টো মানুষজনের মাধ্যমে সাংবাদিক সৌরভের ওপর বিচার সালিশ করা হয়েছিল তারপর থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে এই রিপোর্টার প্রতিনিয়ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আজেবাজে পোস্ট করে এবং নিউজ করে আসছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আলোচিত বিনোদপুর স্কুল প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগের মূল রহস্য উদঘাটন

আপডেট সময় ১১:১৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর স্কুল প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত (২৩ আগস্ট) বুধবার দেশ বাংলা ও গত (১ সেপ্টেম্বর) দৈনিক গৌড় বাংলা পত্রিকায় ও বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে একই সংবাদ বিভিন্ন শিরোনাম প্রকাশিত হয়। উক্ত সংবাদটি মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন একটি কুচক্রী মহল নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য স্থানীয় রাজনৈতিক কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গণমাধ্যম কর্মী দেরকে ব্যবহার করে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেন, বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে আমাদের অনুসন্ধান টিম সেখানে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান ও অন্যান্য শিক্ষকগণের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং বিনোদপুর ইউনিয়নের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে ও বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে সাক্ষাৎ করেন। বুদ্ধিমত্তা ও কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে স্কুল প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের মূল রহস্য বের করেন।

অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক জিয়াউল হক শিবগঞ্জে জমি কেনার জন্য বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাব্বির উদ্দিন এর কাছ থেকে ৭ লক্ষ টাকা দাবি করেন, ওই টাকা দিতে না পারায় জিয়াউল হক সাব্বিরুউদ্দিন কে নানাভাবে হয়রানি করেন এবং তিনি ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ফাইল আটকে রেখেছেন।

একইভাবে আরো কয়েকটি স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে নিজের পছন্দের লোকজনকে বসিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সাব্বিরুউদ্দিন এসব নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক জিয়াউল হককে ঘুষ না দিলেই বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের হেনস্থা ও হয়রানি করা হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি করতে প্রতিষ্ঠান থেকে বিধি অনুযায়ী যে তিনজনের নাম দেন, সেটি পরিবর্তন করে ঘুষের বিনিময়ে অন্যদের নাম নিয়ে কমিটি অনুমোদন দেন ।

একইভাবে শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট উচ্চ বিদ্যালয় তেলকুপি উচ্চ বিদ্যালয়, দাই পুকুরিয়া ইউনিয়ন কাউন্সিল উচ্চ বিদ্যালয় আরো কয়েকটি স্কুল প্রধানদের সাথে অসাদাচরণ করেন তিনি।

এদিকে অনুসন্ধানে দেখা গেছে এর আগে গত বছরের অক্টোবরে শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শামীম রেজা কে সভাপতি করে গত বছরের (১ নভেম্বর) কমিটি অনুমোদন দেন। তেলকুপি উচ্চ বিদ্যালয়ে ইমরান হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক সাব্বির উদ্দিন বলেন শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক জিয়াউল হককে ঘুষ না দেওয়ায়, আমার বিদ্যালয়ের কমিটি অনুমোদন না দিয়ে ফাইল আটকে রাখেন। এবং আমাকে বিভিন্নভাবে হেনস্থা ও হয়রানি করছেন।

বিনোদপুর ইউনিয়নের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকগণ এবং বিনোদপুরের সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ সবাই এক বাক্যে স্বীকারোক্তি দিচ্ছে যে, পরিদর্শক জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ করার কারণে, একটি কুচক্রী মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য স্কুল প্রধান সাব্বির উদ্দিন কে কর্মক্ষেত্রে ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে গণমাধ্যম কর্মীদেরকে ব্যবহার করে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করছেন।

উল্লেখ্য, দৈনিক ভোরের কুমিল্লা অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক সৌরভ কয়েক মাস আগে প্রধান শিক্ষকের কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছিল। প্রধান শিক্ষক টাকা দিতে রাজি না হয়ে উল্টো মানুষজনের মাধ্যমে সাংবাদিক সৌরভের ওপর বিচার সালিশ করা হয়েছিল তারপর থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে এই রিপোর্টার প্রতিনিয়ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আজেবাজে পোস্ট করে এবং নিউজ করে আসছে।