ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্রান্তিকালে হাল ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মঈন খান মূল্যবোধভিত্তিক পেশাদারিত্ব প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের স্তম্ভ: আনসার মহাপরিচালক বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া, কাটাতে সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী সিলেটে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৪ বরগুনার নলটোনায় মাহফুজ চেয়ারম্যানের উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প চাঁদা না দেওয়ায় নারী উদ্যোক্তার ফসল কাটার অভিযোগ থানায় মাওনা চৌরাস্তা উড়ালসেতুর নিচে অবৈধ কাপড়ের মার্কেট কুমিল্লায় ডিবির অভিযানে ৬ অবৈধ ভারতীয় মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার ৯ রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুলকে পবিপ্রবি ভিসির অভিনন্দন মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ছাত্রদলের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ২০২৬ অনুষ্ঠিত

যমুনার পেটে বাড়ি-ঘর, হুমকির মুখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বড়খাল এলাকায় আবার তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।

যমুনার অব্যাহত ভাঙনে বাড়ি-ঘর বিলীন হয়ে যাচ্ছে। হুমকির মুখে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ শতাধিক বাড়ি-ঘর।

আজ দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বড়খাল গ্রামের তোতা মিয়ার দুটি ঘর আজ বৃহস্পতিবার সকালে নদীগর্ভে চলে গেছে।
অন্যান্য ঘর দ্রুত অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তোতা মিয়া জানান, আমার ঘরে মা ঘুমিয়ে ছিল। ভোর ৫টার দিকে আমার স্ত্রী হাসনা বেগম ঘুম থেকে উঠে দেখতে পায়, বাড়ির উঠানে ফাটল, তিনি ফাটল দেখেই চিৎকার দিয়ে ডাকাডাকি শুরু করেন। সবাই এসে দেখেন ঘর দেবে যাচ্ছে, অল্পের জন্য রক্ষা পায় ঘরের ভেতর ঘুমিয়ে থাকা ৯০ বছর বয়সী মা ফুলেরা বেগম।
আর কিছুক্ষণ পর দেখলেই ঘর নদীতে চলে যেত। আমার ঘরে ২০ মণ পিঁয়াজের বীজ, ৬ মণ ধানের বীজসহ বহু কিছু ছিল। সব কিছু যমুনার পেটে গেছে।

একই গ্রামের সাদিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন থেকে যমুনার ভাঙনে বহু বাড়ি-ঘর শেষ।

তবুও কার্যকর স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আজ চোখের সামনে একে একে সব বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে, আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি ।
মাঝিপাড়ার কুদ্দুস আলীর আক্ষেপ, বিগত কয়েক বছরে ২০ বিঘা ফসলি জমি যমুনা নদী ভেঙে নিয়ে গেছে, শেষ সম্বল ছিল বাড়ি-ভিটে, সেটাও হুমকির মুখে।

আমরা স্থায়ী সমাধান চাই, জিও ব্যাগ দিয়ে আর কত দিন আমাদের সান্ত্বনা দেবে?

এদিকে নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেলোয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়। কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেই বিদ্যালয়ের নতুন ভবন।

এলাকাবাসীর দাবি, তাদের গ্রামের শেষ চিহ্ন দেলোয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়কে যেন রক্ষা করা হয়। দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুন্নাহার শেফা সেই স্থান পরিদর্শন করেছেন।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, এই মাসের ১২ তারিখ থেকে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে, এই এলাকার নদীভাঙন প্রতিরোধের জন্য ১৯৭৭৯ বস্তা জিও ব্যাগ বরাদ্দ পাওয়া গেছে, আশা করি ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্রান্তিকালে হাল ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মঈন খান

যমুনার পেটে বাড়ি-ঘর, হুমকির মুখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

আপডেট সময় ১১:২১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বড়খাল এলাকায় আবার তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।

যমুনার অব্যাহত ভাঙনে বাড়ি-ঘর বিলীন হয়ে যাচ্ছে। হুমকির মুখে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ শতাধিক বাড়ি-ঘর।

আজ দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বড়খাল গ্রামের তোতা মিয়ার দুটি ঘর আজ বৃহস্পতিবার সকালে নদীগর্ভে চলে গেছে।
অন্যান্য ঘর দ্রুত অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তোতা মিয়া জানান, আমার ঘরে মা ঘুমিয়ে ছিল। ভোর ৫টার দিকে আমার স্ত্রী হাসনা বেগম ঘুম থেকে উঠে দেখতে পায়, বাড়ির উঠানে ফাটল, তিনি ফাটল দেখেই চিৎকার দিয়ে ডাকাডাকি শুরু করেন। সবাই এসে দেখেন ঘর দেবে যাচ্ছে, অল্পের জন্য রক্ষা পায় ঘরের ভেতর ঘুমিয়ে থাকা ৯০ বছর বয়সী মা ফুলেরা বেগম।
আর কিছুক্ষণ পর দেখলেই ঘর নদীতে চলে যেত। আমার ঘরে ২০ মণ পিঁয়াজের বীজ, ৬ মণ ধানের বীজসহ বহু কিছু ছিল। সব কিছু যমুনার পেটে গেছে।

একই গ্রামের সাদিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন থেকে যমুনার ভাঙনে বহু বাড়ি-ঘর শেষ।

তবুও কার্যকর স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আজ চোখের সামনে একে একে সব বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে, আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি ।
মাঝিপাড়ার কুদ্দুস আলীর আক্ষেপ, বিগত কয়েক বছরে ২০ বিঘা ফসলি জমি যমুনা নদী ভেঙে নিয়ে গেছে, শেষ সম্বল ছিল বাড়ি-ভিটে, সেটাও হুমকির মুখে।

আমরা স্থায়ী সমাধান চাই, জিও ব্যাগ দিয়ে আর কত দিন আমাদের সান্ত্বনা দেবে?

এদিকে নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেলোয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়। কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেই বিদ্যালয়ের নতুন ভবন।

এলাকাবাসীর দাবি, তাদের গ্রামের শেষ চিহ্ন দেলোয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়কে যেন রক্ষা করা হয়। দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুন্নাহার শেফা সেই স্থান পরিদর্শন করেছেন।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, এই মাসের ১২ তারিখ থেকে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে, এই এলাকার নদীভাঙন প্রতিরোধের জন্য ১৯৭৭৯ বস্তা জিও ব্যাগ বরাদ্দ পাওয়া গেছে, আশা করি ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।