সিলেটের জাফলং-পিয়াইন চাঁদাবাজি চক্র রাজা শাহিন আহমেদ। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি রাহাজানী ও নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে স্হানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে। জাফলং ও পিয়াইন নদীতে চলাচলকারী পাথর-বালুবাহী শতশত নৌকা ও বলগেট থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের পাশাপাশি পাথর ও স্টোনক্রাশার মালিকদের কাছ থেকে বখরা আদায় তার ও তার চক্রের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। জাফলং ও পিয়াইন নদী এলাকার ছোট-বড় সব চাঁদাবাজ চক্রের নিয়ন্ত্রক করে শাহিন আহমেদ চক্র। শাহিন আহমেদ নিজেকে পাথর ব্যবসায়ী পরিচয় দিলেও মূলত পাথর মহালে চাঁদাবাজিই তার মূল পেশা বলে জানিয়েছে স্হানীয়রা। চাঁদাবাজির মাধ্যমে দৈনিক লাখ টাকা আদায় তিনি। এক সময় নুন আনতে পান্তা ফুরাতো শাহিন আহমেদ পরিবারের। শাহিন আহমেদ স্থানীয় প্রশাসন ও মিডিয়া কর্মীদের উপর প্রভাব বিস্তার করে বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাফলং ব্রিজের নিচ দিয়ে উজানের বালু নিয়ে ভাটিতে যাচ্ছে নৌকার বহর। ব্রিজসহ গোটা এলাকাই হচ্ছে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু শাহিন আহমেদ বাহিনী এর কোন ধার ধারছেনা এমনকি মানছে না (ইসিএ) নির্দেশনা। তার ক্ষমতাবলে জাফলংয়ের ইসিএ জোন পরিনত হয়ে উঠেছে বালু লুটের মহোৎসবে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন গোয়াইনঘাট উপজেলার সবকয়টি নদীতে বোমা মেশিন দিয়ে লাখ টাকার বালু লুটপাট করা হচ্ছে শাহিন আহমেদের ইশারায়। শাহিন আহমেদসহ তার চক্রের সদস্যরা নিজেদের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের নিজের লোক বলে প্রচার করছে। এতে তাদের দাপটের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে প্রশাসনও। প্রায় এক মাস ধরে জাফলং চা বাগান ও কান্দুবস্তি এলাকাসহ পিয়াইন নদী অবৈধভাবে নির্বিচারে লুট করা হচ্ছে বালু। বর্তমানে আগের তুলনায় বেড়েছে লুটপাট। বালু মহালের অবস্থান হচ্ছে লুটপাটকৃত এলাকা থেকে ১০-১২ কিলোমিটার দূরে। অথচ সারি-২ বালু মহালের নামে গোটা জাফলংকে গিলে খাচ্ছে বালু ও পাথর খেকো শাহিন আহমেদ। তার ইশারায় নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জাফলং ব্রিজ। এছাড়া নয়াবস্তি ও কান্দু বস্তি নামের দুটি গ্রাম ও জাফলং চা বাগানও রয়েছে হুমকির মুখে।
জাফলংয়ের পরিস্থিতি নিয়ে হতাশার বানী শুনালেন সিলেটের পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ইমরান হোসেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘অবাধে লুটপাট হচ্ছে বালু ও পাথর; আমরা গিয়ে জরিমানা করেছি। কিন্তু আমাদের এই সামান্য শাস্তি তাদের অবাদে বালু উত্তোলন থেকে বিরত রাখতে পারছেনা। এ বিষয়ে লুটপাট সিন্ডিকেটকে ‘কঠিন’ সিন্ডিকেট বলেও অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘ওরা এতোটাই বেপরোয়া, অভিযান কিংবা জরিমানা যেন তাদের গায়েই লাগে না। অভিযানে গেলে তারা দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা থেকেই তারা বালু লুট করছে।’
মোঃ আবু নাসের (রিয়াদ), ঢাকা : 




















