ঢাকা ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী খাদ্য গোডাউনে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজ খানম রিতার পরিদর্শন  নেপালে বন্যার ধ্বংসস্তূপের নিচে ৩ দিন, জীবিত উদ্ধার ৬ বছরের শিশু গুমের শিকারদের ন্যায়বিচার ও পুনর্বাসনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে: রিজভী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ বরগুনায় পুরুষদের সচেতন করতে জেন্ডার ভূমিকা পরিবর্তন কার্যক্রম সন্ত্রাস-মাদক-দুর্নীতিমুক্ত ডিজিটাল মহারাজপুর গড়তে চান জুয়েল শেখ বিমান টিকিট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স : বিমানমন্ত্রী মুরাদনগরে ধর্মমন্ত্রীর উদ্যোগে ১০ হাজার গাছের চারা বিতরণ পবিপ্রবির প্রথম উপাচার্য আবদুল হান্নান ভূঁইয়ার স্মরণে সভা ও দোয়া
১৭ মাসেও আলোর মুখ দেখেনি বিভাগীয় তদন্ত!

রংপুর জেলা প্রশাসকের এলএ শাখার সিন্ডিকেটের ঘুষ বাণিজ্য!

রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার সাবেক সার্ভেয়ার আজাদ রহমান, কানুনগো সাইফুল ইসলাম ও অফিস সহকারী মিলন মিয়ার বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে ভূমি অধিগ্রহনে মামলার তথ্য গোপন করে কোটি কোটি টাকা উৎকোচ নিয়ে চেক দেয়ার অভিযোগ করা হয়। এরপর ১৭ মাসেও তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। গত বছরের ৯ মার্চ পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর ও রংপুর সদরের ভুক্তভোগী ৬ জন ভূমি মালিক রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অভিযোগটি করেন। যেটি ২০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেওয়া  হয়েছিল।
জলিল মিয়া সহ ৫ জন ভুক্তভোগীর অভিযোগে জানা গেছে, রংপুর-ঢাকা মহাসড়কটি চারলেনে উন্নতিকরণে “সাসেক-২” প্রকল্পের অধীনে মহাসড়কের উভয়পাশেই জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এতে ​পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, রংপুর সদরের বহু জমিতে মালিকানা নিয়ে জেলা জজ আদালত ও উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পরিপত্রের ৪ ধারা স্পষ্ট নির্দেশ করে যে, অধিগ্রহণকৃত জমির ৮ ধারার নোটিশ জারির পর যদি জমিতে কোনো মামলা বা আইনি বিরোধ থাকে, তবে সেই জমির ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাবে না। অথচ এই সিন্ডিকেট সেই নিয়মকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে মামলাভুক্ত জমির ক্ষতিপূরণের চেক প্রদান করেছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা মামলাভুক্ত জমি, মামলায় এলএ কেস নং: ৩১/২০-২১ তে পীরগঞ্জ উপজেলার ৮ টি মামলা রয়েছে। সবগুলোই পীরগঞ্জের ওসমানপুর মৌজায়। মামলা নং হলো- দাগ নং-২১৫, অন্য মামলা নম্বর: ৩২/২২ ও ২৩৭/২১; ​দাগ- ২২০: ল্যান্ড সার্ভে মামলা নং-১২৩৫/২২, অন্য ১৯/২০, সিআর ৮/১১, ল্যান্ড সার্ভে ৪৯৯/২২; ​দাগ- ২২১: ১৪০৩/২০২০; ​দাগ- ৩৩৬: অন্য মামলা নং-৩১/২০২২; ​দাগ- ৮৯১: ল্যান্ড সার্ভে মামলা নং ২৯৩/২২, ১৪৮০/২১, রিট পিটিশন নং- ১২৭৫০; ​দাগ- ৯৯২: অন্য ২১/২২ ও আপত্তি আছে; ​দাগ- ৯০০: অন্য ৬৭/২০০৬ ও অন্য আপিল ১৮০/২২; ​দাগ- ৪০১, মহামান্য হাইকোর্টের ৪৯৬৮/২০০৪ নং মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও আদালতের কাগজপত্র ও নথিপত্র পরিবর্তন করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করা হয়েছে।
​অন্যান্য এলএ কেস (যেগুলোর ক্ষেত্রে জেলা জজ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ আছে):
​এলএ কেস নং: ২৫/২০-২১ এ ১৮ টি মামলা আছে। এরমধ্যে মিঠাপুকুরের শঠিবাড়ী হরিপুরের ৮ টি মামলা রংপুর জজ আদালতে রয়েছে। সেগুলো হলো- দাগ- ২৫, ১৫২৮, ১৬৯৮, ১৭০০, ১৭১৯, ৪১১/৫১৬, ৪১৮, ৪১৯। ​এলএ কেস নং: ১৯/২০-২১ এ রংপুর সদর উপজেলার তাজহাট মৌজার ৪ টি মামলার দাগ নম্বরসমূহ: ৮০৭, ৯০৮, ৭৬৮, ৭৬৯। এলএ কেস নং: ১৯/২০-২১ এ ইসলামপুর মৌজার দাগ নম্বরসমূহ: ৬৭৫, ৬৭৮, ৬৮৭ এবং ​এলএ কেস নং: ১৯/২০-২১ এ তালুক ধর্মদাস মৌজার দাগ নম্বরসমূহ: ৭৯৭৬, ৭৯৭২, সাবেক ৫৮০৩। উল্লেখিত দাগ, ও মামলার জমির ক্ষতিপূরণের চেক ওই সিন্ডিকেট দেয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এই চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে ৯/৩/২০২৫ ইং ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের রাজস্ব শাখায় দাখিল করা অভিযোগটি রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার সাদরুল আলম স্বাক্ষরিত স্মারক নং-০৫.৪৭.০০০০.০০৮.০৫.০১.২৩ মূলে রংপুর জেলা প্রশাসককে ২০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু ১৭ মাস অতিবাহিত হলেও তদন্ত হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে অভিযোগকারী জলিল মিয়া বলেন, সার্ভেয়ার আজাদ রহমান টাকা হলেই সব করেন। তিনি সহ ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও সেটি ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। আমরা দ্রুত তদন্ত চাই।
উল্লেখ্য, সাড়ে ৩ মাস আগে সার্ভেয়ার আজাদ রহমান কানুনগো পদোন্নতি নিয়ে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ শাখায় বদলী হয়ে যান। তিনি আবারও তদবির করে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ শাখায় গত ২৫ আগষ্ট যোগদান করেছেন। তার এই বদলীতে ৫ দিনের ব্যবধানে একজন কানুনগো কে সরিয়ে আজাদ রহমান বদলীর আদেশটি করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আর দুটো আদেশই করেছেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ। এ বিষয়ে রংপুর (এলএ) সাবেক সার্ভেয়ার কানুনগো আজাদ রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। এ ব‍্যাপারে নবাগত রংপুর জেলা প্রশাসক মিজ ইসরাত জাহান বলেন সদ‍্য যোগদান করেছি। এ বিষয়ে আমার জানা নেই
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

১৭ মাসেও আলোর মুখ দেখেনি বিভাগীয় তদন্ত!

রংপুর জেলা প্রশাসকের এলএ শাখার সিন্ডিকেটের ঘুষ বাণিজ্য!

আপডেট সময় ০৫:২০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার সাবেক সার্ভেয়ার আজাদ রহমান, কানুনগো সাইফুল ইসলাম ও অফিস সহকারী মিলন মিয়ার বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে ভূমি অধিগ্রহনে মামলার তথ্য গোপন করে কোটি কোটি টাকা উৎকোচ নিয়ে চেক দেয়ার অভিযোগ করা হয়। এরপর ১৭ মাসেও তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। গত বছরের ৯ মার্চ পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর ও রংপুর সদরের ভুক্তভোগী ৬ জন ভূমি মালিক রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অভিযোগটি করেন। যেটি ২০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেওয়া  হয়েছিল।
জলিল মিয়া সহ ৫ জন ভুক্তভোগীর অভিযোগে জানা গেছে, রংপুর-ঢাকা মহাসড়কটি চারলেনে উন্নতিকরণে “সাসেক-২” প্রকল্পের অধীনে মহাসড়কের উভয়পাশেই জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এতে ​পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, রংপুর সদরের বহু জমিতে মালিকানা নিয়ে জেলা জজ আদালত ও উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পরিপত্রের ৪ ধারা স্পষ্ট নির্দেশ করে যে, অধিগ্রহণকৃত জমির ৮ ধারার নোটিশ জারির পর যদি জমিতে কোনো মামলা বা আইনি বিরোধ থাকে, তবে সেই জমির ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাবে না। অথচ এই সিন্ডিকেট সেই নিয়মকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে মামলাভুক্ত জমির ক্ষতিপূরণের চেক প্রদান করেছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা মামলাভুক্ত জমি, মামলায় এলএ কেস নং: ৩১/২০-২১ তে পীরগঞ্জ উপজেলার ৮ টি মামলা রয়েছে। সবগুলোই পীরগঞ্জের ওসমানপুর মৌজায়। মামলা নং হলো- দাগ নং-২১৫, অন্য মামলা নম্বর: ৩২/২২ ও ২৩৭/২১; ​দাগ- ২২০: ল্যান্ড সার্ভে মামলা নং-১২৩৫/২২, অন্য ১৯/২০, সিআর ৮/১১, ল্যান্ড সার্ভে ৪৯৯/২২; ​দাগ- ২২১: ১৪০৩/২০২০; ​দাগ- ৩৩৬: অন্য মামলা নং-৩১/২০২২; ​দাগ- ৮৯১: ল্যান্ড সার্ভে মামলা নং ২৯৩/২২, ১৪৮০/২১, রিট পিটিশন নং- ১২৭৫০; ​দাগ- ৯৯২: অন্য ২১/২২ ও আপত্তি আছে; ​দাগ- ৯০০: অন্য ৬৭/২০০৬ ও অন্য আপিল ১৮০/২২; ​দাগ- ৪০১, মহামান্য হাইকোর্টের ৪৯৬৮/২০০৪ নং মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও আদালতের কাগজপত্র ও নথিপত্র পরিবর্তন করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করা হয়েছে।
​অন্যান্য এলএ কেস (যেগুলোর ক্ষেত্রে জেলা জজ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ আছে):
​এলএ কেস নং: ২৫/২০-২১ এ ১৮ টি মামলা আছে। এরমধ্যে মিঠাপুকুরের শঠিবাড়ী হরিপুরের ৮ টি মামলা রংপুর জজ আদালতে রয়েছে। সেগুলো হলো- দাগ- ২৫, ১৫২৮, ১৬৯৮, ১৭০০, ১৭১৯, ৪১১/৫১৬, ৪১৮, ৪১৯। ​এলএ কেস নং: ১৯/২০-২১ এ রংপুর সদর উপজেলার তাজহাট মৌজার ৪ টি মামলার দাগ নম্বরসমূহ: ৮০৭, ৯০৮, ৭৬৮, ৭৬৯। এলএ কেস নং: ১৯/২০-২১ এ ইসলামপুর মৌজার দাগ নম্বরসমূহ: ৬৭৫, ৬৭৮, ৬৮৭ এবং ​এলএ কেস নং: ১৯/২০-২১ এ তালুক ধর্মদাস মৌজার দাগ নম্বরসমূহ: ৭৯৭৬, ৭৯৭২, সাবেক ৫৮০৩। উল্লেখিত দাগ, ও মামলার জমির ক্ষতিপূরণের চেক ওই সিন্ডিকেট দেয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এই চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে ৯/৩/২০২৫ ইং ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের রাজস্ব শাখায় দাখিল করা অভিযোগটি রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার সাদরুল আলম স্বাক্ষরিত স্মারক নং-০৫.৪৭.০০০০.০০৮.০৫.০১.২৩ মূলে রংপুর জেলা প্রশাসককে ২০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু ১৭ মাস অতিবাহিত হলেও তদন্ত হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে অভিযোগকারী জলিল মিয়া বলেন, সার্ভেয়ার আজাদ রহমান টাকা হলেই সব করেন। তিনি সহ ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও সেটি ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। আমরা দ্রুত তদন্ত চাই।
উল্লেখ্য, সাড়ে ৩ মাস আগে সার্ভেয়ার আজাদ রহমান কানুনগো পদোন্নতি নিয়ে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ শাখায় বদলী হয়ে যান। তিনি আবারও তদবির করে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ শাখায় গত ২৫ আগষ্ট যোগদান করেছেন। তার এই বদলীতে ৫ দিনের ব্যবধানে একজন কানুনগো কে সরিয়ে আজাদ রহমান বদলীর আদেশটি করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আর দুটো আদেশই করেছেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ। এ বিষয়ে রংপুর (এলএ) সাবেক সার্ভেয়ার কানুনগো আজাদ রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। এ ব‍্যাপারে নবাগত রংপুর জেলা প্রশাসক মিজ ইসরাত জাহান বলেন সদ‍্য যোগদান করেছি। এ বিষয়ে আমার জানা নেই